ইরানের বন্দরের উপর চলমান অবরোধ ভেঙে হরমুজের কাছে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর করতেই এই হামলা চালানো হয়।
জাহাজটির বেসামরিক কর্মীরা মার্কিন বাহিনীর দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর জাহাজটি আর ইরানের দিকে এগোয়নি বলেও জানায় সংস্থাটি।
তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনাটি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির ‘পুরো নিয়ন্ত্রণ’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প জানান, ইরান বারবার তার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, "এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।" আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির চলমান অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার পর তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় চাপের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজের অচলাবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্য বলছে, মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে পতন হয়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯১ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা করানোর চেষ্টা এখনো সফল হয়নি। জুনে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশও মাঝে মাঝে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ১১ই অগাস্ট পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, তিনটি জাহাজ অচল এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে এসব অভিযানে হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একই দিনে লোহিত সাগরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজে ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
হুথিদের দাবি, জাহাজটিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিলো। যুদ্ধ শুরুর পর কোনো জাহাজে হুথিদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবরোধ ভাঙ্গায় পণ্যবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানের বন্দরের উপর চলমান অবরোধ ভেঙে হরমুজের কাছে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর করতেই এই হামলা চালানো হয়।
বিবিসির বরাতে সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওমান উপসাগর দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী এমভি ভেলা নোভা জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
জাহাজটির বেসামরিক কর্মীরা মার্কিন বাহিনীর দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর জাহাজটি আর ইরানের দিকে এগোয়নি বলেও জানায় সংস্থাটি।
তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনাটি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির ‘পুরো নিয়ন্ত্রণ’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প জানান, ইরান বারবার তার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, "এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।" আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির চলমান অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার পর তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় চাপের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজের অচলাবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্য বলছে, মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে পতন হয়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯১ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা করানোর চেষ্টা এখনো সফল হয়নি। জুনে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশও মাঝে মাঝে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ১১ই অগাস্ট পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, তিনটি জাহাজ অচল এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে এসব অভিযানে হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একই দিনে লোহিত সাগরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজে ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
হুথিদের দাবি, জাহাজটিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিলো। যুদ্ধ শুরুর পর কোনো জাহাজে হুথিদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
(বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি এবং রয়টার্স অবলম্বনে)
বিষয়: