কূটনীতিকেই সমাধানের পথ মনে করছে তেহরান

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান ‘না যুদ্ধ না শান্তি’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ওমানের সাথে আলোচনা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। 

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ বলা হয়েছে, তেহরানের মনে করছে, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই অনিশ্চয়তা দূর করতে কূটনৈতিক পথই একমাত্র সমাধান। 

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক রুট হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ খুলে দিতে হলে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। একইসাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর জন্য ক্ষতিপূরণেরও দাবি ইরানের। 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের রূপরেখা ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

তবে জাহাজ চলাচলে ধারাবাহিক হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওমানের সহযোগিতায় নতুন শিপিং রুট নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি আছেন তারা। তবে এটি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়া এবং প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর। 

এবছর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। হামলার শুরুতেই নিহিত হন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি।

হামলার জবাবে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী বেড়ে যায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। 

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের ওপর পালটা নৌ-অবরোধ জারি করে আমেরিকা। 

পাকিস্তান এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।

চুক্তি অনুযায়ী সামরিক হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ ১৪ টি বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। 

তবে, দুই পক্ষের পালটাপালটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে জুলাইয়ের শুরুতে এই সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে গেছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।