প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএমআপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
টানেল দুর্ঘটনায় এখনও ১৫ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা টানেলের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
ভারতের সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় ভূমিধসের কারণে নির্মাণাধীন তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে টানেল ভেঙে পড়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় এখনও ১৫ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা টানেলের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ভূখণ্ড এবং টানেলের ভেতরে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার সামারদুং এলাকার কাছে অবস্থিত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন টানেলটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, দুর্ঘটনার সময় সেখানে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ থেকে ৩৮ জন নিয়মিত পরিদর্শনে ছিলেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে টানেলের প্রায় তিন কিলোমিটার গভীরে এখনও ১৫ জন আটকা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নামচি জেলার পুলিশ সুপার সোনাম দোলমা ভুটিয়া। আটকে পড়াদের অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে বের করে আনতে উদ্ধারকারীরা বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন।
টানা বৃষ্টি ও বিষাক্ত গ্যাসে বাড়ছে ঝুঁকি
উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সিকিম পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীর সহায়ক ইউনিট এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। তবে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় নতুন করে ভূমিধসের আশংকা তৈরি হয়েছে। এছাড়া টানেলের ভেতরে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে।
প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধারকারীদের নির্দিষ্ট সময় পরপর টানেলের বাইরে এনে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার ত্বরান্বিত করতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পি. এস. তামাং ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস
মুখ্যমন্ত্রী তামাং জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দুর্ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
এদিকে সিকিমের সংসদ সদস্য ইন্দ্রা হাং সুব্বা বলেন, জেলা প্রশাসন, জরুরি সেবা সংস্থা এবং উদ্ধারকারী দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভূমিধস টানেলের একটি অংশ ধসে পড়ার কারণ হতে পারে। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উদ্ধার অভিযান আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবুও আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
সিকিমে টানেল ধস: নিহত অন্তত ১১, এখনও আটকা ১৫
ভারতের সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় ভূমিধসের কারণে নির্মাণাধীন তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে টানেল ভেঙে পড়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় এখনও ১৫ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা টানেলের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ভূখণ্ড এবং টানেলের ভেতরে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার সামারদুং এলাকার কাছে অবস্থিত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন টানেলটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, দুর্ঘটনার সময় সেখানে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ থেকে ৩৮ জন নিয়মিত পরিদর্শনে ছিলেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে টানেলের প্রায় তিন কিলোমিটার গভীরে এখনও ১৫ জন আটকা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নামচি জেলার পুলিশ সুপার সোনাম দোলমা ভুটিয়া। আটকে পড়াদের অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে বের করে আনতে উদ্ধারকারীরা বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন।
টানা বৃষ্টি ও বিষাক্ত গ্যাসে বাড়ছে ঝুঁকি
উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সিকিম পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীর সহায়ক ইউনিট এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। তবে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় নতুন করে ভূমিধসের আশংকা তৈরি হয়েছে। এছাড়া টানেলের ভেতরে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে।
প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধারকারীদের নির্দিষ্ট সময় পরপর টানেলের বাইরে এনে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার ত্বরান্বিত করতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পি. এস. তামাং ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস
মুখ্যমন্ত্রী তামাং জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দুর্ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
এদিকে সিকিমের সংসদ সদস্য ইন্দ্রা হাং সুব্বা বলেন, জেলা প্রশাসন, জরুরি সেবা সংস্থা এবং উদ্ধারকারী দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভূমিধস টানেলের একটি অংশ ধসে পড়ার কারণ হতে পারে। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উদ্ধার অভিযান আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবুও আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
বিষয়: