ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেইনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘নিরুপায় হয়েই’ এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু মার্কিন নৌযান এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।

চুক্তি নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেন খামেনি। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে ভিন্ন মত থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন।

খামেনি বলেন, ট্রাম্প বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে চুক্তিটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। তবে ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হলেও সেটি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমান হবে না।

ট্রাম্প খামেনির মন্তব্যের সরাসরি জবাব দেননি। তবে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও লেবাননের হেজবুল্লাহসহ সব পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তির মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে সে বিষয়ে অঙ্গীকার এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে দুই পক্ষ। তবে প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সাথে পরবর্তী ধাপের আলোচনা দ্রুত শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, চুক্তি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং নতুন আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু হয়েছে।

তবে ইরানের সাথে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠন তহবিলের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কিছু রিপাবলিকান নেতা।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি চুক্তিটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুলগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন।

সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে পারবে না। তাদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করে ইরান আরও সুবিধা করতে পারে। 

তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, চুক্তির শর্ত পূরণ না করলে ইরান কোনো অর্থ বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা পাবে না।

ভ্যান্স বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ সহায়তা না দেওয়ার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।

চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জন্য ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রীরও সমালোচনা করেছেন ভ্যান্স। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়ানো ইসরায়েলের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নয়।

নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে” ছিলো এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার লেবাননে হওয়া হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েল বলছে, তাদের হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত আলাদা বিষয় এবং ইরান যুদ্ধের সাথে এর সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্ত মানতে অস্বীকার করেছে।