ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে অনিশ্চিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়টা। চুক্তি চূড়ান্ত বললেও তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির।
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএমআপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ইরানের সাথে সমঝোতা ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ বলার কয়েক ঘন্টা পরই সুর বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার চুক্তির ক্ষেত্রে নির্দেশ দিয়েছেন ‘তাড়াহুড়ো না করা’র। ট্রাম্পের নির্দেশের পরই ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ খোলার ক্ষেত্রে ইরানের সাথে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি ‘সলিড বিষয়’ আছে।
রুবিও জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে। একটি চুক্তির বেশ কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এখনই সমঝোতা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে চান না রুবিও।
শনিবার ট্রুথ সোস্যালের এক পোষ্টে ইরানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এই ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজের অবস্থান পাল্টান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোস্যালের পোস্টে লেখেন, ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক কাজটি করতে হবে। কোনো ভুল করা যাবে না’। নিজের প্রশাসনের আলোচনাকে বলেন ওবামা প্রশাসনের পরমাণু চুক্তির বিপরীত। সময় এখন নিজেদের পক্ষে আছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা করছে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ‘সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হবে ৬০ দিন। খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি। এই সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম।
যুদ্ধবিরতিকালীন এই সময়ে আলোচনা করা হবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার, মার্কিন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ফেরত এবং পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরিধি নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের প্রতি ‘নো ডাস্ট, নো ডলারস’ নীতি গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। এই নীতি অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না করলে ফ্রিজ হওয়া অর্থ ফেরত দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি একইসাথে ‘খুব কাছে এবং অনেক দূরেও’ বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে বাঘাই বলেন, ‘আমরা আলোচনার একটি বড় অংশের বিষয়ে ‘একমত হয়েছি’। তবে এই চুক্তি ‘একদম আসন্ন নয়’ বলেও জানান তিনি।
‘সময় এখন আমেরিকানদের বিপক্ষে’ বলে দাবী করেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স’য়ে দেওয়া পোষ্টে রেজাই লেখেন, কূটনৈতিক এই যুদ্ধে ইরানের নীতি হবে ‘অ্যাকশনের বিপরীতে অ্যাকশন’।
মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড়: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাট্টা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য এই চুক্তি উত্তপ্ত করে তুলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও। চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছেন ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ‘ওয়ার হক’রা।
মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ তিনি এক্স পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, এই চুক্তির ফল যদি এমন হয় যে, এর আওতায় ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ পাবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে, তবে এই চুক্তিটি হবে একটি বিপর্যয়কর ভুল।
মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬০ দিনের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি আমেরিকার সামরিক অর্জনকে ধূলিসাৎ করবে।
এই চুক্তির সমালোচনা করছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও। এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে আখ্যায়িত করেন গ্রাহাম। তার মতে, এই চুক্তি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
এই চুক্তি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির ধারেকাছেও পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাইক পম্পেও।
যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের অযোগ্যতাকে দায়ী করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস মারফি। ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ইরান আমাদের সেরা আঘাতটা সহ্য করে আমাদেরই হারিয়ে দিয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টায় ইসরায়েল
ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তবে ট্রাম্পকে দেওয়ার মতো দরকারী কিছুই ইসরায়েলের নেই বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গ। ট্রাম্প এবার ইসরায়েলের চেয়ে মার্কিন স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেবেন বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।
গোল্ডবার্গ বলেন, ইসরায়েল এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে আছে। ইরান ইস্যুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্য কখনোই এক ছিল বলেও জানান তিনি। বলেন, ট্রাম্প কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান চেয়েছিলেন, আর ইসরায়েল চেয়েছিল ব্যাপক ধ্বংস ও মৃত্যু।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে আলোড়ন
মার্কিন-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখা যায় বড় পরিবর্তন। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ প্রথমবারের মতো ৬৫,০০০ পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সম্ভাবনায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায় চীনের মুদ্রা ‘ইউয়ান’।
চুক্তির খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ৫ ডলারেরও বেশি। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি লেনদেন হয়েছে ৯৮ ডলারে। যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর এমএসসিআই সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ । এশীয় বাণিজ্যের সময় গ্লোবাল ইমার্জিং মার্কেট ইক্যুইটি সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্টিফেন কলিনসন বলেন, মার্কিন জনগণের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই শুরু হওয়া এই ‘অপরিকল্পিত যুদ্ধ’ শেষ করার ‘একমাত্র’ উপায় হতে পারে একটি অসন্তোষজনক শান্তি চুক্তি।
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে অনিশ্চিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়টা। চুক্তি চূড়ান্ত বললেও তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির।
ইরানের সাথে সমঝোতা ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ বলার কয়েক ঘন্টা পরই সুর বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার চুক্তির ক্ষেত্রে নির্দেশ দিয়েছেন ‘তাড়াহুড়ো না করা’র। ট্রাম্পের নির্দেশের পরই ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ খোলার ক্ষেত্রে ইরানের সাথে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি ‘সলিড বিষয়’ আছে।
রুবিও জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে। একটি চুক্তির বেশ কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এখনই সমঝোতা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে চান না রুবিও।
শনিবার ট্রুথ সোস্যালের এক পোষ্টে ইরানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এই ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজের অবস্থান পাল্টান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোস্যালের পোস্টে লেখেন, ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক কাজটি করতে হবে। কোনো ভুল করা যাবে না’। নিজের প্রশাসনের আলোচনাকে বলেন ওবামা প্রশাসনের পরমাণু চুক্তির বিপরীত। সময় এখন নিজেদের পক্ষে আছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা করছে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ‘সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হবে ৬০ দিন। খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি। এই সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম।
যুদ্ধবিরতিকালীন এই সময়ে আলোচনা করা হবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার, মার্কিন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ফেরত এবং পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরিধি নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের প্রতি ‘নো ডাস্ট, নো ডলারস’ নীতি গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। এই নীতি অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না করলে ফ্রিজ হওয়া অর্থ ফেরত দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি একইসাথে ‘খুব কাছে এবং অনেক দূরেও’ বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে বাঘাই বলেন, ‘আমরা আলোচনার একটি বড় অংশের বিষয়ে ‘একমত হয়েছি’। তবে এই চুক্তি ‘একদম আসন্ন নয়’ বলেও জানান তিনি।
‘সময় এখন আমেরিকানদের বিপক্ষে’ বলে দাবী করেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স’য়ে দেওয়া পোষ্টে রেজাই লেখেন, কূটনৈতিক এই যুদ্ধে ইরানের নীতি হবে ‘অ্যাকশনের বিপরীতে অ্যাকশন’।
মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড়: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাট্টা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য এই চুক্তি উত্তপ্ত করে তুলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও। চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছেন ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ‘ওয়ার হক’রা।
মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ তিনি এক্স পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, এই চুক্তির ফল যদি এমন হয় যে, এর আওতায় ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ পাবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে, তবে এই চুক্তিটি হবে একটি বিপর্যয়কর ভুল।
মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬০ দিনের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি আমেরিকার সামরিক অর্জনকে ধূলিসাৎ করবে।
এই চুক্তির সমালোচনা করছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও। এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে আখ্যায়িত করেন গ্রাহাম। তার মতে, এই চুক্তি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
এই চুক্তি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির ধারেকাছেও পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাইক পম্পেও।
যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের অযোগ্যতাকে দায়ী করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস মারফি। ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ইরান আমাদের সেরা আঘাতটা সহ্য করে আমাদেরই হারিয়ে দিয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টায় ইসরায়েল
ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তবে ট্রাম্পকে দেওয়ার মতো দরকারী কিছুই ইসরায়েলের নেই বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গ। ট্রাম্প এবার ইসরায়েলের চেয়ে মার্কিন স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেবেন বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।
গোল্ডবার্গ বলেন, ইসরায়েল এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে আছে। ইরান ইস্যুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্য কখনোই এক ছিল বলেও জানান তিনি। বলেন, ট্রাম্প কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান চেয়েছিলেন, আর ইসরায়েল চেয়েছিল ব্যাপক ধ্বংস ও মৃত্যু।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে আলোড়ন
মার্কিন-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখা যায় বড় পরিবর্তন। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ প্রথমবারের মতো ৬৫,০০০ পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সম্ভাবনায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায় চীনের মুদ্রা ‘ইউয়ান’।
চুক্তির খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ৫ ডলারেরও বেশি। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি লেনদেন হয়েছে ৯৮ ডলারে। যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর এমএসসিআই সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ । এশীয় বাণিজ্যের সময় গ্লোবাল ইমার্জিং মার্কেট ইক্যুইটি সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্ভাব্য সম্ভাবনায় এশিয়া জুড়ে আঞ্চলিক মুদ্রাগুলোর মান বেড়েছে। বেড়েছে সোনার দামও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্টিফেন কলিনসন বলেন, মার্কিন জনগণের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই শুরু হওয়া এই ‘অপরিকল্পিত যুদ্ধ’ শেষ করার ‘একমাত্র’ উপায় হতে পারে একটি অসন্তোষজনক শান্তি চুক্তি।
বিষয়: