দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

'ককরোচ'দের দাবির মধ্যে ছিলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার এবং এনইইটি পরীক্ষা না হওয়ায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ।

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

ভারত সরকারের সাথে তিন দফা আলোচনার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

দলটির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার তাদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ায় যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং জে. পি. নাড্ডার সঙ্গে এক যৌথ প্রেস কনফারেন্সে শনিবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রেস কনফারেন্সে আশুতোষ রঙ্কা জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি ছিল মূলত প্রধান তিনটি দাবি। 

এগুলো হলো, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা এবং এনইইটি পরীক্ষা না হওয়ায় যে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন (আত্মহত্যা), তাদেরকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আশুতোষ রঙ্কা জানান, “ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। যার অর্থ আমাদের প্রথম দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।” 

দলের আরেক সদস্য সৌরভ দাস বলেন, শুধু দিল্লিতে নয়, বিজেপি শাসিত এবং এনডিএ জোটভুক্ত সব রাজ্যের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিটিও মেনে নিয়েছে সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার একটি লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলো ককরোচ জনতা পার্টি। 

মঙ্গলবারের মধ্যে সরকার এই বিষয়ে লিখিত গ্যারান্টি ও নিশ্চয়তা দেবে বলে আশা করছে সিজেপি।

সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা।

এনইইটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হয় এই আন্দোলন। পরে পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকসহ বহু শিক্ষার্থী ও তরুণ এই আন্দোলনে যোগ দেন। 

সরকারের সঙ্গে দফায় দফা বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমে শেষ হলো এই আন্দোলন।

এর আগে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের খবর এক্স হ্যান্ডেলে জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান।

পদত্যাগের খবর জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “দেশবিরোধী শক্তিগুলো যেনো যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য বজায় থাকে, ভারতের একজন শিক্ষার্থীও যেনো আইনি জটিলতায় না পড়ে, পড়াশোনায় ও ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগ দেয়, এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমি আমার পদত্যাগপত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।”

এক ফেইসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে “শিক্ষার্থীদের বিজয়” বলে দাবি করে ককরোচ জনতা পার্টি।

এক শুনানির সময় বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত। তার মন্তব্যের পরপরই বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর করা এবং যুক্তরাষ্ট প্রবাসী অভিজিৎ দিপকে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। যা পরিণত হয় ভারতের বেকার তরুনদের একটি ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠস্বর হিসেবে।