২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের
গোপন নথি প্রকাশ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের; তবে গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ভোটের ফল বদলানোর কোনো প্রমাণ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক চাপে নতুন ইস্যু সামনে আনছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩১ পিএমআপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
গোপন নথি প্রকাশ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সামনে এসেছে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রায় ছয় বছর আগের সেই নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কয়েকটি গোপন সরকারি নথি প্রকাশ করে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন শুধু মার্কিন ভোটারদের বিপুল তথ্য সংগ্রহই করেনি, বরং নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করেছিলো। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা সেই তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে তার নিজের প্রশাসনের সময় প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে। কারণ ২০২১ সালের সেই তথ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিলো, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা কিংবা ফলাফল পরিবর্তনে বিদেশি কোনো শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২২ কোটি ভোটারের তথ্য চীনের হাতে
২৫ মিনিটের সেই প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন বেআইনিভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে নাম, ঠিকানা এবং বিভিন্ন নির্বাচনি তথ্য রয়েছে।
তার ভাষায়, এসব নথি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থার "চমকে দেওয়ার মতো দুর্বলতা" প্রকাশ করবে।
তিনি আরও দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চীনের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের কাছ থেকে তথ্য গোপন করেছেন।
প্রকাশিত নথিতে মিললো ভিন্ন চিত্র
ট্রাম্পের দাবির পর প্রকাশ হওয়া নথিগুলো বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, নথির অনেক তথ্য প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন করে না।
একটি নথি ভেনেজুয়েলার নির্বাচন নিয়ে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। আরেকটি সিআইএ নথিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ভোট গণনা ব্যবস্থা এতো বিস্তৃত যে বড় পরিসরে সেটি পরিবর্তন করে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
আরেকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বাইডেনের প্রচার শিবির সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলেও নির্বাচনের ফল গোপনে বদলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তখন তাদের ছিলো না।
গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন কী বলছে?
২০২১ সালের জাতীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিলো, চীন দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ভোটার, রাজনৈতিক দল, জনমত ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের হাতে থাকা ভোটার তথ্যটি মূলত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিলো। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত এসব ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে থাকে। ফলে এই তথ্য সংগ্রহের অর্থ নির্বাচনে কারসাজির সক্ষমতা নয়।
পুরোনো অভিযোগকে ফিরিয়ে আনলেন ট্রাম্প
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আবারও সেই একই নির্বাচনি বয়ান সামনে আনলেন, যা তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনের পর থেকে দিয়ে আসছেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, নির্বাচন "চুরি" হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালত, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কমিশন এবং একাধিক পুনর্গণনায় ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবুও রিপাবলিকান ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো ট্রাম্পের এই দাবিতে বিশ্বাস করে। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৩ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন ২০২০ সালের নির্বাচন ট্রাম্পের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিলো।
নতুন আইনের দাবি, পুরোনো বিতর্ক
ভাষণে ট্রাম্প আবারও সেইভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাসের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত আইনে ভোট দেওয়ার জন্য ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দেওয়া এবং ডাকযোগে ভোটের সুযোগ আরও সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মূলত বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার সীমিত করার কৌশল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাত্র চারটি অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ ৭৫ হাজারের বেশি অ-নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে তারা বাস্তবে ভোট দিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নতুন ইস্যু
এই ভাষণ এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং জনসমর্থন কমে যাওয়ার মতো একাধিক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও আশঙ্কা করেছিলেন, চীন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কও এখন সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের বাণিজ্য সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং অবশ্য ট্রাম্পের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।"
ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা জবাব
সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ডেমোক্র্যাট নেতা মার্ক ওয়ার্নার ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তার ভাষায়, "মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলো যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন একটি ভোটও পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি।"
২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের
গোপন নথি প্রকাশ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের; তবে গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ভোটের ফল বদলানোর কোনো প্রমাণ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক চাপে নতুন ইস্যু সামনে আনছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সামনে এসেছে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রায় ছয় বছর আগের সেই নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কয়েকটি গোপন সরকারি নথি প্রকাশ করে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন শুধু মার্কিন ভোটারদের বিপুল তথ্য সংগ্রহই করেনি, বরং নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করেছিলো। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা সেই তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে তার নিজের প্রশাসনের সময় প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে। কারণ ২০২১ সালের সেই তথ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিলো, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা কিংবা ফলাফল পরিবর্তনে বিদেশি কোনো শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২২ কোটি ভোটারের তথ্য চীনের হাতে
২৫ মিনিটের সেই প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন বেআইনিভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে নাম, ঠিকানা এবং বিভিন্ন নির্বাচনি তথ্য রয়েছে।
তার ভাষায়, এসব নথি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থার "চমকে দেওয়ার মতো দুর্বলতা" প্রকাশ করবে।
তিনি আরও দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চীনের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের কাছ থেকে তথ্য গোপন করেছেন।
প্রকাশিত নথিতে মিললো ভিন্ন চিত্র
ট্রাম্পের দাবির পর প্রকাশ হওয়া নথিগুলো বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, নথির অনেক তথ্য প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন করে না।
একটি নথি ভেনেজুয়েলার নির্বাচন নিয়ে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। আরেকটি সিআইএ নথিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ভোট গণনা ব্যবস্থা এতো বিস্তৃত যে বড় পরিসরে সেটি পরিবর্তন করে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
আরেকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বাইডেনের প্রচার শিবির সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলেও নির্বাচনের ফল গোপনে বদলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তখন তাদের ছিলো না।
গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন কী বলছে?
২০২১ সালের জাতীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিলো, চীন দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ভোটার, রাজনৈতিক দল, জনমত ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের হাতে থাকা ভোটার তথ্যটি মূলত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিলো। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত এসব ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে থাকে। ফলে এই তথ্য সংগ্রহের অর্থ নির্বাচনে কারসাজির সক্ষমতা নয়।
পুরোনো অভিযোগকে ফিরিয়ে আনলেন ট্রাম্প
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আবারও সেই একই নির্বাচনি বয়ান সামনে আনলেন, যা তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনের পর থেকে দিয়ে আসছেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, নির্বাচন "চুরি" হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালত, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কমিশন এবং একাধিক পুনর্গণনায় ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবুও রিপাবলিকান ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো ট্রাম্পের এই দাবিতে বিশ্বাস করে। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৩ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন ২০২০ সালের নির্বাচন ট্রাম্পের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিলো।
নতুন আইনের দাবি, পুরোনো বিতর্ক
ভাষণে ট্রাম্প আবারও সেইভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাসের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত আইনে ভোট দেওয়ার জন্য ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দেওয়া এবং ডাকযোগে ভোটের সুযোগ আরও সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মূলত বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার সীমিত করার কৌশল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাত্র চারটি অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ ৭৫ হাজারের বেশি অ-নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে তারা বাস্তবে ভোট দিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নতুন ইস্যু
এই ভাষণ এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং জনসমর্থন কমে যাওয়ার মতো একাধিক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও আশঙ্কা করেছিলেন, চীন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কও এখন সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের বাণিজ্য সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং অবশ্য ট্রাম্পের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।"
ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা জবাব
সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ডেমোক্র্যাট নেতা মার্ক ওয়ার্নার ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তার ভাষায়, "মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলো যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন একটি ভোটও পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি।"
(আল জাজিরা ও রয়টার্স অবলম্বনে)
বিষয়: