দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সেদেশে পাঠানো বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বেনজীরের প্রত্যার্পনের প্রক্রিয়া ‘অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে’ এগিয়ে চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “১২ জুন ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমাদের এনসিবিকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে বেনজীর আহমেদকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের জারি করা রেড নোটিশের মাধ্যমে তারা বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করে। আমি সেদিন বিকেলেই জাতীয় সংসদে জাতিকে অবহিত করেছি।”
"ইমেইলে তারা অনুরোধ করেছে, ৩০ দিনের মধ্যে যেন আমাদের সকল কাগজপত্র পাঠিয়ে দেই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা ৩০ দিন নয়, তার পরের দিনই কাগজপত্র পাঠিয়েছি। ওয়ারেন্ট, মামলার বিবরণীসহ অনেক কাগজ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবার আরবিতে অনুবাদ করতে হয়েছে।"
দুবাই পুলিশ গত ১২ই জুন বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে নিশ্চিত করে।
২০২০ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০এ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন বেনজীর। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় বাংলাদেশ। এরপরই দুবাইকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "পুলিশ অফিসাররা সেদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪৪ পাতার কাগজপত্র তৈরির কাজ করেছে। রাত ১০টার সময় সংসদে বসে সেটি আমি সই করি। সেদিনই কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুবাইয়ে পাঠিয়েছে।”
আর ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আনঅফিশিয়াল কপি’ দিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, “ওইদিন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরবিতে ট্রান্সলেট করে ডিপ্লোমেটিক ব্যাগে করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে এবং লোকাল ইউএই অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়েছে।"
আরব আমিরাত সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে আশা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরাতে কাগজপত্র পাঠানোর পর তারা কোনো উত্তর দিয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "তারা এখনো কিছু পাঠায়নি। তাদের দেশের আইন অনুসারে ফেরত পাঠানোর একটা প্রক্রিয়া রয়েছে। শুক্র-শনিবার সেই দেশে হলিডে। আজকের দিন গেলে আগামীকাল রোববার অফিশিয়ালি খোঁজ নেবো।"



