মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় এ বিষয়কে আবারও প্রাধান্য দিয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতি সুদ হার বা পলিসি রেট বা সহজ করে বললে যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার বা ঋণ গ্রহণ করে তা আগের মতোই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ ঋণ ও আমানতের ব্যাংক সুদ হারও অপরিবর্তিত থাকছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
গত তিন মাস ধরে নতুন করে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির পারদ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা স্বীকার করে সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি।”
সবশেষ জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরেও যা ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল।
মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করে গভর্নর বলেন, “অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।”
মুদ্রানীতি কী ও কেন?
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
এটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলের এবং বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। যা অব্যাহত রাখা হলো।
অন্যান্য সুদ হার
অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে।
তবে কমানো হয়েছে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)। এখন থেকে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করে সুদ পাবে। যা আগে ছিল ৮ শতাংশ।
এ নিয়ে গভর্নর বলেন, “আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক।”
এই সুদ হার আগামীতে আরও কমানো হবে বলেও আভাস দেন আহসান এইচ মনসুর।
বেসরকারি ঋণ লক্ষ্যমাত্রা
মূল্যস্ফীতির মতো আরেকটি লক্ষ্য পূরণেও সফল হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে নতুন মুদ্রানীতিতে।
আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
যদিও ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।


ভোটের মাঠে উড়তে থাকা বিপুল টাকা অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে
স্ট্যাগফ্লেশন - তরুণদের সামনে এক নির্মম বাস্তবতা 
