ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, এবার একইসাথে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন। সেসব নিয়েই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সাথে আলাপ।
আলাপ: আপনার কার্যালয়ে আসার আগে গুগলে ঢুকেছিলাম। সেখানে বাংলায় নির্বাচন লিখলে গুগল সাজেশনে যে প্রশ্নটি প্রথম আসে, সেটি হলো ‘নির্বাচন কি হবে’। মানে প্রশ্নটি মানুষ খুঁজছে। এই প্রশ্নটিই আপনাকে করতে চাই। নির্বাচন কি হবে?
আখতার আহমেদ: নির্বাচনের সাতদিন আগে আপনি যদি এ প্রশ্নটা করেন তাহলে এতদিনের যে চর্চা, এটা নিয়ে আসলে মন্তব্য করার…। নির্বাচন না হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণই নেই এবং সব পরিক্রমায় একের পর এক পার করে আমরা এখন নির্বাচনের দোরগোড়ায়। এখন যদি বলেন যে গুগল প্রশ্ন করতে পারে কিন্তু…।
গুগল প্রশ্ন করে মানে মানুষ আসলে গুগলকে এই প্রশ্নটা করে।
উত্তরটা হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ আগামী বারোই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবেই।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা আছে। আপনাদের কি মনে হয়? প্রশাসন এবং পুলিশ সম্পূর্ণ আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী? মানুষকে কি আস্থাটা দেওয়া গেল?
আসলে নিয়ন্ত্রণে বলতে যে জিনিসটা বোঝায়, সেটা না আসলে। আমরা পারস্পরিকভাবে সহযোগিতামূলক ভাবেই কাজ করছি। নিরাপত্তার লিড মিনিস্ট্রি হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্বাচনি নিরাপত্তার দুই ভাগ। একটা প্রশাসনিক আরেকটা হচ্ছে বিচারিক। প্রশাসনিকভাবে এখানে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, আনসার- এনাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। এটা পর্যায়ক্রমিকভাবে ডেপ্লয় হচ্ছে মাঠপর্যায়ে। সেনাবাহিনীতো দীর্ঘদিন ধরেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। আনসারের ডেপ্লয়মেন্ট হচ্ছে আট দিন। সেনাবাহিনীর ডেপ্লয়মেন্ট হচ্ছে সাত দিন। পুলিশের ডিপ্লয়মেন্ট হচ্ছে সাত দিন। এর সাথে আছে বিচারিক বিষয়। যদি কেউ আইনভঙ্গ করেন, তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা। তিনশ আসনে নির্বাচন অনুসন্ধান এবং বিচারিক দায়িত্ব পালন করার জন্য কমিটি করা আছে। যেটা আমরা বলছি ইলেকটোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন। নির্বাচনি আচরণবিধি, আরপিওর শর্তভঙ্গ করার বিষয়গুলা তাদের নজরে এলেই তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। যারা আচরণ ভঙ্গ করছেন, অভিযুক্তকে সমন করছেন, বিচার করছেন, জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানা বড় কথা না। কথাটা হচ্ছে যে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই ব্যবস্থাটাতো চালু আছেই। এফেক্টিভলি কাজ করছে। আমরা এখন নির্বাচনমুখী। কয়েকদিনের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে আরও নিশ্চিত করা হবে। এখন আমি নিরাপদ বোধ করি কি-না এটা আমার ব্যাপার। তবে আমি সবার প্রতি উদাত্তভাবেই বলতে পারি যে, অনিরাপদ ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
আচরণবিধি ঠিকঠাক মতো পালন করা হচ্ছে কি-না কিংবা আইন সবাই মানছেন কিনা? আপনাদের জনবল এবং অন্যান্য সক্ষমতা দিয়ে ঠিকমতো দেখভাল করা যাচ্ছে কি?
দেখভাল করা যাচ্ছে কিন্তু আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে। ভঙ্গ করছেন কারা এবং আচরণবিধি ভঙ্গ হলে ব্যবস্থাটা নেওয়ার কি ব্যবস্থা আছে সেটাতো আমি একটু আগে বললাম যে ইলেকটোরাল এনকোয়ারি এডজুডিকেশন কমিটি এই মুহূর্তে ফাংশনে, তারাও কাজ করছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট- তারাও আপনার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের ডেপ্লয়মেন্ট হয়ে গেছে, প্রায় একুশশো একক্রস দা কান্ট্রি ম্যাজিস্ট্রেট তারা কাজ করছেন- এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, যারা তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইলকোর্ট বলতে যেটা বুঝায় সেটা করবেন। আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছেন তারাও দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন, আগামী দু-একদিনের ভিতরেই। তো এখন এনারা যখন কাজ করবেন তখন এই জিনিসটাকে আরো কঠিনভাবে দেখা হবে বা জোরদারভাবে দেখা হবে। তবে আচরণবিধি ভঙ্গ, যদি আমি বলি যে, হচ্ছে না কোথাও তাহলে আর এদের দায়িত্বটা কোথায়? এরা তাহলে আমি বলব যে বিচারিক ব্যবস্থাটা তো কিছু তো দায়বদ্ধতা নেওয়াই হচ্ছে এবং এটা ভঙ্গ হচ্ছে তবে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে ভঙ্গটা সম্পর্কে খুব বেশি একটা আছে না মানে ঘটনা ঘটছে। আমাদের সেগুলো আবার পুলিশ কেস। যেমন শেরপুরের একটা ঘটনাতে একজন নিহত হয়েছেন, সেখানে পুলিশ কেসের ব্যাপারটা আছে। সেটা হচ্ছে গতকাল যেমন লক্ষ্মীপুরে একজন রাবার স্টাম্প যিনি তৈরি করেন, সেখান থেকে ছয়টা সিল, যেটা আপনার মার্কিন সিল যেটা বলি সেটা অবৈধভাবে করছিলেন। এটাও তো আচরণ ভঙ্গ! তো পুলিশ যদি তৎপর না হতো তাহলে মামলাও হতো না। এটাও উদ্ধার হত না। কাজেই আমাদের আস্থার জায়গাটা এখনো পর্যন্ত ঠিক আছে।
তার মানে কি পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রতি আপনারা আস্থাশীল?
অবশ্যই, আস্থাশীলতো বটেই। তা না হলে এই এত বড় ফাংশনতো অ্যাপ্রোপ্রিয়েটলি এ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ইনশাল্লাহ বাদবাকি সময়টুকুও চালু থাকবে।
আরো অনেকগুলো স্টেকতো জড়িত। সার্বিকভাবে নির্বাহী বিভাগের নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার এক ধরনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আছে। সেটা কি পাচ্ছেন?
অবশ্যই পাচ্ছি। এবার রিটার্নিং অফিসার আমাদের জন্য ঊণসত্তর জন। চৌষট্টি জন জেলা প্রশাসক দায়িত্বে আছেন। দুজন বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা এবং চট্টগ্রাম, আর আমাদের নির্বাচন কমিশনের তিনজন কর্মকর্তা এই দায়িত্বটা পালন করছেন। সমন্বয়তো ডেফিনেটলি আছেই। এর সাথে অ্যাসিন্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার নিয়োজিত আছেন, সমন্বয়ের অসুবিধা নেই। হ্যাঁ, কিছু কিছুর ক্ল্যারিফিকেশন আসছে। ক্ল্যারিফিকেশন চাওয়াটাতো আমি মনে করি যে যৌক্তিক, সেটা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ক্ল্যারিফিকেশন চাওয়াটা কিন্তু ভুল না বরং আমি যদি না দিতে পারি সেটা আমার অসম্পূর্ণতা। এভারি কোশ্চেন ডু হ্যাভ অ্যা ভ্যালু। এখনো পর্যন্ত আমি সমন্বয়নহীনতার কোনো সমস্যা দেখি নাই।
পঁয়তাল্লিশ জন ঋণখেলাপি নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে। এটি নিয়ে এক ধরনের ক্রিটিসিজম আছে।
আদালতের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ারতো কোনো সুযোগ নাই।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটা বড় সমালোচনা আছে। ফেইসবুকে বিদেশের পোস্টাল ব্যালটে সিল মারার ছবি দেখেছি। ভাগ-বাটোয়ারা করার ছবি দেখেছি। নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে যে জিনিসটা খতিয়ে দেখা হবে। দেখেছিলেন কি?
পোস্টাল ব্যালট স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে প্রথম। একটু আমি ভেঙেই বলি। পোস্টাল ব্যালটের রেজিস্ট্রেশনটা অনলাইন। ব্যালটটা পাবেন ইন পার্সন ডাক বিভাগের মাধ্যমে। ইটস অ্যা হাইব্রিড সলিউশন। মধ্যপ্রাচ্যের কাঠামোগত অবস্থাটা একটু চিন্তা করেন। আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা, একটা ঠিকানায় হয়তো দুইশজন থাকেন। তাহলে দুইশোটা এনভেলপতো এক জায়গায় যাবে। কাজেই এই এনভেলপটা যাওয়া কি তাহলে ত্রুটি? না। দুইশজনের ইনভেলপ একটা ঠিকানায় যাওয়ার পরে একজন আরেকজনেরটা নিয়ে যাচ্ছে। আর যে কথাটা আপনি বলছেন, যে ভোট দেওয়া হয়েছে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায়িত্বতো ভোটারের। এখন কেউ যদি এটা ভঙ্গ করেন এবং আমরা যদি জানতে পারি আমাদের এখানে মাননীয় কমিশনার ব্রিগেডিয়ার ফজল সাহেব উনি স্পষ্ট করেই বলেছেন ভোটের ইন্টেগ্রিটিটা রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু ভোটারের। এটা আন্ডারমাইন করার যদি কোন প্রবণতা থেকে থাকে, উইল নট স্পিয়ার ইট। জায়গাটা আস্থার, ব্যাপারটাতো নিজের উপরে। আস্থার ব্যাপারটা নিজের উপরে।
তার মানে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যে সমালোচনাটা তৈরি হয়েছিল সেটা আপনারা খতিয়ে দেখে কি আপনারা নিশ্চিত অনৈতিক কিছু ঘটেনি?
আমার বিবেচনায়, তেমন কিছু ঘটেনি। কিন্তু দুয়েকজনের যেটা আপনি বললেন, ছবি দেখা গেছে। খেয়াল করে দেখেন তিনি কিন্তু তার ছবিটা দেখাননি। তার চেহারাটা দেখাননি। এখন এই দায়িত্ব তুলনামূলকভাবে ভোটারের। তিনি এখন যদি স্বউদ্যোগী হয়ে অতি উৎসাহী হয়ে এটা করে থাকে থাকেন, তো এটার দায়িত্ব কি নির্বাচন কমিশনের উপরে?
তার মানে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসনের পর সাধারণ ভোটারেরও ধরনের দায়বোধ তৈরি হওয়ার বিষয় আছে?
ব্যাপার হচ্ছে যে আপনি যখন কেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিচ্ছেন, আপনিতো ব্যালটের ছবি তুলে বলছেন না যে, আমি ওমুক জায়গায় ভোট দিচ্ছি, একই প্রিন্সিপাল তো এখানেও। নৈতিকতা বা নৈতিক জায়গাটাতো একই। ভোট আমার একটা গোপনীয় বিষয়। গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে, যিনি ভঙ্গ করেছেন দায়িত্বটা তার।
প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে একটা সমালোচনা আছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল, অভিযোগ করেছে যে, প্রিজাইডিং অফিসার যখন নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তখন রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে, অনেককে যুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টা আপনারা কিভাবে দেখছেন?
প্রিজাইডিং অফিসার, অ্যাসিন্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা বলেছি যে, সরকারি চাকরিজীবি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো থেকে আপনার প্রিজাইডিং অফিসার, অ্যাসিন্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে কয়েকটা ব্যাংকের ব্যাপারে কিছু রিজার্ভেশন এক্সপ্রেস করা হয়েছিল, তাদেরকে নেওয়া হয়নি। এখন ব্যাপার হচ্ছে যে, যাচাই বাছাই করে নেয়া হয়েছে যে ওভার দ্য পিরিয়ড অব টাইম। তেতাল্লিশ হাজার সাতশো কেন্দ্রের জন্যে আড়াই লাখ মানুষ। এটাতো ওভারনাইট গ্রো করা যাবে না।
সমালোচনাটা প্রিজাইডিং অফিসার নিয়ে। কারণ প্রিজাইডিং অফিসারের হাতে কিছু ইনহেরেন্ট ক্ষমতা থাকে ম্যানেজমেন্টের।
হ্যাঁ, এটা থাকে। কিন্তু প্রব্যাবিলিটির উপরে যদি আপনি বলেন, তার উপর মতামত দেওয়াটা খুব মুশকিল। এটা যতক্ষণ বাস্তব হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুমানের ভিত্তিতে মন্তব্য করা যৌক্তিক না।
অফলাইন আচরণবিধি অনেক বিস্তৃত। কিন্তু এখন যে বাস্তবতা, প্রযুক্তির যে ব্যবহার, তাতে অনলাইনে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে হিউমিলিয়েট করছে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে। এই বিষয়গুলোর দিকে কি খুব একটা নজর দেওয়া গেল এবার?
নজর দেওয়া হচ্ছে। এখানে দুইটা জিনিস। এই কনটেন্টগুলো যদি দেশের ভিতরে অরিজিনেটেড হয়, তাহলে উই ক্যান রান আফটার। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে দেখি যদি এই কনটেন্টগুলো জিওগ্রাফিক্যাল বাউন্ডারির বাইরে, তাহলে আমাদের জন্য এটা ডিফিকাল্ট। এই জিনিসগুলোকে সামাল দেওয়ার জন্য আমরা ইউএনের একটা প্ল্যাটফর্ম আছে, সেটা ব্যবহার করছি। এর সাথে ফ্যাক্টচেকার আছে, তথ্য মন্ত্রণালয় আছে, বিভিন্ন এজেন্সির যে সমস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন, সবগুলোই ইন্টিগ্রেটেড। এর বাইরে আমরা টুইটারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। মেটার সাথেও কথা বলছি। আমি আবারও বলি। দয়া করে আপনারা চরিত্র হনন করেন না। এটা আসলে নিজের উপরে রেখেই একটু চিন্তা করা উচিত যে হোয়াট ইজ দ্য বেনিফিট।
অন্তর্জালের দুনিয়া এখন যতটা বিস্তৃত কন্টেন্ট ধরে ধরে ডাউন করে কি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব?
এজন্য আমরা দুটো জিনিস করি। আমরা সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাথে কথা বলছি। দ্বিতীয় হচ্ছে আমরা সঠিক তথ্যটা আপনাদের অলমোস্ট এভরি ডে আমরা ব্রিফ করি। আমাদের দিক থেকে ব্রিফিংটা থাকে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে ব্যক্তিগত আক্রমণ, হার্মফুল কনটেন্ট, এটা আপনাদের জনবল বিবেচনায় কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?
হান্ড্রেড পারসেন্ট সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না। তবে ইয়েস, ইট ইজ অ্যাড্রেসেবল। কনটেন্টগুলো যদি দেশের ভিতর হয় তাহলে এডজুডিকেশন কমিটি দেখছে। তারা ডেকে বলেছে, যে এগুলো ঠিক না। সবচাইতে ভালো হচ্ছে যে না করা। কিন্তু অন্তর্জালের দুনিয়াতে, এই সাধুবাক্য কতটুকু কে শুনবেন, এটা একটা প্রশ্ন।
পলিটিক্যাল পার্টির কোনো দায়িত্ব আছে এখানে?
পলিটিক্যাল পার্টির লায়েবেলিটি আমি ওভাবে বলব না, আমি বলবে যে, সবার দায়িত্বশীল থাকা উচিত। মানুষ ভোট দিয়ে একজনকে জেতাবে। মিথ্যাচার আসলে নিন্দনীয় ব্যাপার।
প্রত্যেকটা মানুষের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা কি আপনারা রাখেন? কিংবা সেই আস্থা আপনারা মানুষের মধ্যে দিতে চান?
অবশ্যই দিতে চাই। আপনি ভোট দিবেন আপনার নৈতিক দায়িত্বের আওতায়। আপনি নিরাপদ। ভোটের দিনে আবার অনিরাপদ চিন্তা করতে হবে কেন? আমিতো বললাম, আমাদের প্রশাসনিক বিন্যাসটা। পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী আমাদের এতগুলো স্তর মাঠে কাজ করছে। নিরাপত্তার বিষয়টা নিশ্চিত করছে।
মানুষের শঙ্কা হচ্ছে এর আগেওতো এই বাহিনীগুলো কাজ করত। কিন্তু মানুষের একটা অভিজ্ঞতা আছে।
দেখেন অতীতের সাথে এটাকে চর্চা করতে গেলে তাহলে আরও পিছনে যদি চলে যাই, ভালো ভোট কি হয়নি অতীতে? তাহলে আমরা কেন শুধুমাত্র একটা খারাপ জিনিসকেই পিনপয়েন্ট করবো। অবশ্য বলবেন যে খারাপ অভিজ্ঞতাটাই আমাকে ভালো কিছু দিবে। ওই খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে ভালো কিছু দেওয়ার জন্যইতো আমাদের এত প্রচেষ্টা। যাতে ওই বদনামটা থেকে আমরা ঘুচিয়ে উঠতে পারি এবং বদনামটা যেন না থাকে। আমি মনে করি যে নিরাপত্তাহীনতার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। উৎসবমুখর পরিবেশে যেন আমরা নিশ্চিত করতে পারি। এখন উৎসবের সাথে সাথে নিরাপত্তার বিষয়টাওতো আছে। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। এখন আমার বিশ্বাস যে এবার টার্নআউট অনেক বেশি হবে।
কোনো রকম স্পেকুলেট করতে চান যে কী ধরনেরটার্ন আউট…
ওটা নিয়ে আমি আমি কোনো আগাম কোনো মন্তব্য করব না।
ভোট হয়ে গেল- ‘ঠিকঠাক’। একই বাক্সে সংসদ সদস্যর ভোট এবং গণভোটের ব্যালট। ভোটের টার্ন আউট যদি আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় গুণতে আসলে কয়দিন সময় লাগবে? কারণ ইতোমধ্যে আমরা শুনেছি এবার যে ভোটের ফলাফল আসতে দেরি হতে পারে।
আপনি যেটা শুনেছেন, আংশিক। আমি আপনার প্রতি সম্মান রেখে এবং যারা বলেছেন তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি। একটা হিসাব দেই, স্ট্যাটিস্টিকস দিলে সহজ হবে জিনিসটা। আমাদের প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটা ভোটকেন্দ্র এবং বিকাল সাড়ে চারটায় ভোট শেষ হবে। দু’টা ব্যালট। এইটটি পার্সেন্ট যদি টার্ন-আপ হয় তাহলে চব্বিশশো, তার মানে চার হাজার আটশো ব্যালট। ওই কেন্দ্রে অ্যাসিটেন্ট প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার নিয়ে চারটা বুথ থাকলে বারো জন। বারো জন চার হাজার আটশো ব্যালট গুনবেন। ব্যালটের কাঠামোটা কিন্তু আবার সহজ। রেফারেন্ডাম এক পৃষ্ঠায় হ্যাঁ- না, গোলাপি কালার ব্যালটটা। পোস্টাল ব্যালটে বেশি সময় লাগবে। পোস্টাল ব্যালটে সময় লাগবে তার কারণ হচ্ছে যে বিদেশে যে পোস্টাল ব্যালটটা পাঠানো হয়েছে সেটার দুই পাশ। তার মানে একটা দিক দেখলেই হচ্ছে না। আমাকে ঘুরিয়ে উল্টো দিকটাও দেখতে হচ্ছে যে আর কোথাও সিল আছে কিনা। আইসিপিবি বা ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট। প্রবাসীদের জন্য একটা, দেশের ভিতরে একটা পোস্টাল আর গণভোটের একটা। আমি বারবার স্পেসিফিক করে বলছি, পোস্টাল ভোটের কেন্দ্র রিটার্নিং অফিসারের কাছে, ওইখানে একটু বেশি সময় লাগবে। এটা কখনোই কোনো অবস্থাতেই চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ছয় থেকে আট ঘণ্টার ভিতরে এই জিনিসটা হয়ে যাবে।
তার মানে বারোই ফেব্রুয়ারি সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ।
আমার বিশ্বাস তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায়, চার ঘণ্টায়, রাত্রি নয়টাই ধরেন।
সারাদেশে?
সারাদেশেই। কিছু কিছু জায়গায় আরেকটু বেশি সময় লাগবে।
রিমোট জায়গা আছে। রির্টানিং অফিসারের কাছে আসতে সময় লাগবে।
আদারওয়াইজ আপনার নরমাল যে সমস্ত প্লেইন ল্যান্ড যেটা সেগুলোতে গুণতে বেশি সময় লাগার কোনো কারণই নাই।
সাড়ে চারটায় শেষ হলে, আপনি কি আশা করেন যে, তেরোই ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যে ফল আসবে?
না হওয়ার তো যৌক্তিক কোন কারণ দেখছি না। দুর্ভাগ্যজনক, অ্যাক্ট অফ গড যেটা বলে, দৈবঘটনা ছাড়া তো আমি মনে করি না।
একটা শেষ প্রশ্ন করতে চাই। গণভোটের সরকারি প্রচারণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কি?
গণভোটের ব্যাপারেতো নির্বাচন কমিশন তাদের মতামত দিয়েই দিয়েছে। অ্যাকচুয়াল অবস্থান ওইটাই।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে সকলের প্রতি আমার আমার অভিনন্দন থাকলো, শুভেচ্ছা থাকলো। আমি আপনাদেরকে একটাই উদাত্ত আহ্বান করতে চাই। নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে আসেন, ভোট দিয়ে দিন এবং আপনার দায়িত্বটা পালন করেন। আমরা আছি।



