যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে হেজবুল্লাহ-ইসরায়েল

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম

হেজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ সমঝোতার আওতায় দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং সীমান্ত এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হন। একই সময়ে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার দাবি করে হেজবুল্লাহ। ফলে নতুন সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় অবস্থানরত হেজবুল্লাহ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ওই এলাকায় কেবল লেবাননের রাষ্ট্রীয় বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। 

ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, লেবাননের ভবিষ্যৎ কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, বরং দুই দেশের বৈধ সরকার নির্ধারণ করবে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার সীমিত যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হয়েছিল, যার আওতায় ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার এবং হেজবুল্লাহ সীমান্তপারের হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই সমঝোতা কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এদিকে হেজবুল্লাহ এখনো নতুন চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। তবে সংগঠনটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার সিদ্ধান্ত তারা স্বীকৃতি দেয় না।

সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী ২২এ জুন আবারও আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ। লক্ষ্য থাকবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানো।

গত মার্চে যুদ্ধ নতুন মাত্রা পাওয়ার পর থেকে লেবাননে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। অন্যদিকে ইসরায়েলের হিসাবে, সংঘাতে তাদের ২৬ সেনাসহ ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

নতুন সমঝোতাকে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও, হেজবুল্লাহর অবস্থান এবং চলমান সামরিক সংঘর্ষ এর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।