বৃদ্ধার গলিত লাশ সমাজের যে পচন চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়

নূর জাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; বরং বাংলাদেশের আরও অনেক ঘটনার প্রতিচ্ছবি। সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত চরের পাশে বাবা-মায়ের ঠাঁই না পাওয়া, কিংবা পাবনায় জমি নিয়ে বিরোধে মাকে ঘরছাড়া করার গল্পগুলো মিলিয়ে দেখলে সামনে আসে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—পারিবারিক বন্ধন কি তবে ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে পড়ছে?

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট। ভেতরে বৃদ্ধা মা নূর জাহান বেগমের নিথর দেহ পড়ে আছে খাটে। দিন কেটে গেছে, কেউ খোঁজ নেয়নি। এমনকি পাশের কক্ষেই ছিল মেয়ে, টের পায়নি মা চলে গেছেন। বাকি তিন সন্তান—সমাজের ভিন্ন ভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত। তবুও কেউ বুঝতে পারেনি, মায়ের জীবনের শেষ অধ্যায় নিঃশব্দে শেষ হয়ে গেছে অবহেলায়, অযত্নে।

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; বরং বাংলাদেশের আরও অনেক ঘটনার প্রতিচ্ছবি। সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত চরের পাশে বাবা–মায়ের ঠাঁই না পাওয়া, কিংবা পাবনায় জমি নিয়ে বিরোধে মাকে ঘরছাড়া করার গল্পগুলো মিলিয়ে দেখলে সামনে আসে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—পারিবারিক বন্ধন কি তবে ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে পড়ছে?

অনেকেই বলছেন, এই ভাঙন কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন নয়। পেছনে কাজ করছে দ্রুত বদলে যাওয়া সামাজিক কাঠামো, আর্থিক বাস্তবতা, এবং বয়স্কদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দীর্ঘদিনের অবহেলা।

নূর জাহান বেগমের ঘটনায় পুলিশ ও প্রতিবেশীরা গণমাধ্যমে বলছেন, চার সন্তানের জননী নূর জাহান বেগমের লাশ পড়ে থেকে পচন ধরেছিল। অথচ প্রতিটি সন্তানই শিক্ষিত। তিন ছেলের একজন যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক এবং আরেকজন কানাডা প্রবাসী। আর একমাত্র কন্যা সন্তান স্কুল শিক্ষক। এমন প্রতিষ্ঠিত সন্তানেরা বোঝেনি গর্ভধারিণী মা মৃত পড়ে আছেন।

এমন অসংখ্য ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তবে নূর জাহান বেগমের নির্মম মৃত্যু যেন মানুষের হৃদয়ে এক ক্ষত তৈরি করে গেলো। আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, একই ঘরে সবাই তবুও যেন দূরত্ব অনেক। 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরকার সরিয়ে দিয়েছে। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্কের বন্ধন

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর দুর্গম চরের সম্ভুদিয়ায় ছেলেরা জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের নির্জন এলাকার পাশে রেখে যায় বাবা-মাকে। ওই সময় (২০২৩ সাল) গণমাধ্যমে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা হামিদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফজিলা খাতুনকে দীর্ঘদিন পাঁচ ছেলে ভাগাভাগি করে ভরণপোষণ দিয়ে আসছিলেন। তবে যমুনার ভাঙনে তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়। এরপর জায়গা পরিবর্তন হয় সন্তানদের। বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে চলেছে দেন দরবার। কিন্তু সর্বশেষ কোথাও ঠাঁই হয়নি বাবা-মায়ের।

২০২৪ সালেও গণমাধ্যমে আসে পাবনার সাঁথিয়ায় বৃদ্ধা মাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা।  জানা যায়, জমি লেখে না দেওয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সন্তান।

তবে নূর জাহান বেগমের বিষয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিজ্ঞতা থেকে জানাচ্ছেন এ ধরনের ঘটনা সমাজে উচ্চবিত্ত বা শিক্ষিত পরিবারে বেশি ঘটে। তিনি আলাপ-কে বলেন, বেশিরভাগ সময় দরিদ্র পরিবারে এ ধরনের সমস্যা প্রকট হয় না। বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে না দেখার ঘটনা বেশি ঘটে উচ্চবিত্ত বা শিক্ষিত পরিবারে। দরিদ্র পরিবারে দেখা যায়- তিন ছেলের মধ্যে বিবাদ হয় কে বাবা কিংবা মা বা উভয়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবে।

তিনি আরও যোগ করে বলেন, উচ্চবিত্ত কিংবা শিক্ষিত পরিবারে তো আর্থিক সমস্যা থাকার কথা না। দেখা যায় সন্তানরাই বাবা-মাকে দেখাশোনা করতে চায় না। দূরে সরিয়ে রাখে, অযত্ন অবহেলা করে।   

মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। তার মধ্যে বয়স্কদের এই সমাজ কিংবা রাষ্ট্র কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন।

“আমাদের সমাজে পরিবারগুলোর মধ্য কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে মূল্যবোধ একটা বড় বিষয়। এছাড়াও সম্পর্কগুলোর মধ্যে একে-অপরের সঙ্গে যে গভীরতা ও অংশীদারিত্ব, সেসব আস্তে আস্তে ভেঙে পড়ছে। এছাড়াও বয়স্ক মানুষদের গুরুত্ব কম দেয়ার একটা প্রবণতা সমাজে আছে”, আলাপ-কে বলেন অধ্যাপক জোবাইদা।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মনে করেন সমাজে পরিবারগুলো সেভাবেই চলবে যেটা আগের প্রজন্ম দেখিয়ে দিয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রুমিন আলাপ-কে বলেন, “এখানে পারিবারিক শিক্ষাও একটা বড় বিষয়। যেমন, আমার দাদি-নানীর ক্ষেত্রে দেখেছি তার সব সন্তানরা কী পরিমাণ সেবা-যত্নের ব্যবস্থা করতেন। ধরা যাক, নানী অসুস্থ। তখন সবাই নিজ নিজ সুবিধা মতো সময় ঠিক করে নিতেন কে কখন নানা-নানীর সাথে থাকবেন। আমি তো এসব দেখেই বড় হয়েছি।"

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা অলি আহাদ ছিলেন ভাষা সৈনিক ও রাজনীতিবিদ। মা ছিলেন শিক্ষক। নিজের ব্যক্তিগত বিষয় তুলে ধরে তিনি আলাপ-কে বলেন,  “আমার মায়ের ডিমেনশিয়া। তিনি নিজেকেই এখন আর চিনতে পারেন না। তার যত্ন করাকে আমি দায়িত্ব মনে করি না। আমি আনন্দ নিয়ে করি। তিনি যেভাবে আমাকে ভালোবেসেছেন, যত্ন নিয়েছেন আনন্দ নিয়ে। মায়ের পাশে থেকে যত্ন নিয়ে সেই আনন্দ আমিও পাই।"  

অন্যদিকে জোবাইদা নাসরীন মনে করেন রাষ্ট্র, পরিবার ও ব্যক্তি—সব পর্যায়েই আছে বয়স্কদের অপ্রয়োজনীয় মনে করার মনোভাব। অর্থাৎ সব পর্যায়েই তাদের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেউ তাদের নিয়ে খুব বেশি ভাবছেও না।

নেই সামাজিক নিরাপত্তা, প্রয়োজন আর্থিক নিশ্চয়তা

বাংলাদেশের বাস্তবতায় বয়স্কদের রাষ্ট্রীয় তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে চিকিৎসা সহ নানারকম সুবিধা পায় বয়স্করা, সেখানে আমাদের রাষ্ট্রে মানসিক চিকিৎসাও অনুপস্থিত। অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বয়স্কদের জন্য ভাতার একটা ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে তেমন বিস্তৃত কিছু নেই। যেমন- চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো পর্যাপ্তভাবে কাঠামোবদ্ধ নয়।

এছাড়াও রুমিন ফারাহানা নিজ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, তার পরিচিত অনেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একসঙ্গে বন্ধুরা মিলে জমি কিনে রেখেছেন। তাদের পরিকল্পনা হলো ওই জমিতে বাড়ি করে বৃদ্ধ বয়সে একসঙ্গে সময় কাটাবেন।

এটি যেন বৃদ্ধাশ্রমের আধুনিক রূপ। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমকে সমাজ বাঁকা চোখে দেখে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জোবাইদা বলেন, “অনেক পরিবার সামাজিক লজ্জা ও “মানুষ কী বলবে” এই ধারণার কারণে বয়স্ক সদস্যদের বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে দ্বিধা করেন।"

রুমিন ফারহানাও মনে করেন বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তিনি মনে করেন একা বাসায় থাকার চেয়ে বৃদ্ধাশ্রম অনেক নিরাপদ। মানুষের মধ্যে থাকলে যত্ন হবে। মানসিকভাবেও তারা ভালো থাকবেন।

তবে বয়স্কদের তরুণ বয়স থেকেই আর্থিক শক্তি অর্জনের দিকে জোর দেন অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং পার্সোনাল ফাইন্যান্স এক্সপার্ট সাইফুল হোসেন।

তিনি আলাপ-কে বলেন, “আমরা সবসময় মনে করি বৃদ্ধ বয়সে সন্তানরা আমাদের দেখবে। অনেকেই সন্তানের উপর একটা নির্ভরতা জিইয়ে রাখতে চায়। সমাজ বাস্তবতা এমন দিকে পৌঁছে গেছে, সেখানে আমি মনে করি শিক্ষিত সবাইকে ভবিষ্যত আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতে এখন থেকেই সঞ্চয় করতে হবে। যেন বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক অনটনে কেউ না পড়েন কিংবা অন্যের উপর নির্ভর করতে না হয়।"

সাইফুল হোসেনও মনে করেন অনেক সময় অর্থিক শক্তি থাকলেও লাভ হয় না। কারো না কারো সঙ্গ লাগবে। সেক্ষেত্রে বিদেশের মতো বৃদ্ধাশ্রমের বিস্তারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশেও এখন বেশ কয়েকটা আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম শুরু হয়েছে। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে এ ধরনের উদ্যোগে।" 

আইন যা বলছে 

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে পিতা-মাতা ভরণ-পোষণ আইন তৈরি হয়। যদিও এই আইনের আওতায় মামলা খুব কম হয় বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। 

আইনের মূল ছিল উদ্দেশ্য ছিল পিতা-মাতার ভরণ-পোষণকে আইনগতভাবে সুনিশ্চিত করা। আইনটি প্রণয়নের মাধ্যমে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হয়েছে। 

তবে এই আইন কার্যকরভাবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বাধা নিয়ে কথা বলেন ইশরাত। তিনি আলাপ-কে বলেন, “আইনে বলা আছে পিতামাতার লিখিত অভিযোগ ছাড়া এই আইনে কোনো মামলা ম্যাজিস্ট্রেট গ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ থানায় মামলা হতে কোনো বাধা নেই কিন্তু যখনই মামলাটার কগনিজেন্স নিতে হবে, তখন অবশ্যই লিখিত অভিযোগ থাকতে হবে পিতা বা মাতার। আইনের ৭ ধারায় এই বারটা দেয়া আছে।”

আইনের এই ধারার কারণেই আদালত মামলা যে গ্রহণ করবে, সেটা পারছে না বলে জানান ইশরাত। 

তবে নূর জাহান বেগমের ঘটনাকে তিনি দেখছেন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নূর জাহান বেগমের ঘটনা এখন আর ভরণ-পোষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কারণ উনি যখন জীবিত ছিলেন তখন ভরণ-পোষণ পাওয়ার বিষয় ছিল। উনি মারা গেছেন। এটা এখন অবহেলাজনিত মৃত্যু। অর্থাৎ দণ্ডবিধি ৩০৪ এর ‘এ’ তে চলে আসছে। ৩০৪-এ মূলত হয় যদি কাউকে রিজনেবল কেয়ার না করা হয়। যেমন- বৃদ্ধরা, শিশুরা বা অসুস্থ ব্যক্তিরা। এমন ব্যক্তিদের যদি যত্ন না হয়, সে কারণে যদি মারা যায়, সেটাকে তখন অবহেলাজনিত মৃত্যু হিসেবে বলা হচ্ছে।” 

ইশরাত মনে করেন এই ঘটনায় শুরুতেই উচিত ছিল পুলিশের অবহেলাজনিত মৃত্যুর একটা মামলা ইনিশিয়েট করা। যেটা হয়নি।  

শুধু তাই নয়, সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা এবং এর তদন্তের বিষয়েও জোর দেন ইশরাত। তিনি মনে করেন,  এটা কি অবহেলাজনিত নাকি পরিকল্পিত অবহেলা সেটা দেখার বিষয় আছে। তখন সেটা খুনের মামলার দিকে যাবে অর্থাৎ ৩০২ ধারায় চলে যাবে। 

এমন কঠোর আইন থাকার পরও কেন কম মামলা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইশরাত জানান, বাবা-মা’রা একেবারেই নিরুপায় না হলে মামলা করতে চায় না। মামলা যদি করেও ফেলে তাহলে সন্তানকে দেখে দুর্বল হয়ে পড়ে।

তবে তিনি এই আইনের বাধাগুলো তুলে দেয়ার পক্ষে জোর দেন। বলেন, “আইন কার্যকর করার জন্য ৭ ধারার যে বাধা, সেটা সরাতে হবে। কারণ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের পক্ষে সম্ভব না এসব নিয়ে কোর্টে দৌড়াবে। দ্বিতীয় হলো, যারা এই আইন মানবে না তাদের সম্পত্তি ক্রোক করে হলেও ব্যবস্থা নিতে হবে।” 

পিতা-মাতা ভরণ-পোষণ আইনে এও বলা আছে, শুধু টাকা-পয়সা দিলেই হবে না। তাদের সময়ও দিতে হবে। একইসঙ্গে এটা যে শুধু সন্তানের উপর প্রয়োগ হবে তা নয়। এমনকি ছেলের স্ত্রী কিংবা মেয়ের স্বামীর পক্ষ থেকেও যদি কোনো বাধা আসে, সেক্ষেত্রে তাদেরও শাস্তির বিধান আছে।