ধারণার চেয়ে দ্রুত ছড়াতে পারে এবোলা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০৫:২৬ পিএমআপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া এবোলার প্রভাব অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. অ্যান আনসিয়া সতর্ক করে জানিয়েছেন, কঙ্গোতে এবোলায় ১৩১ জনের মৃত্যু হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বার্তা সংস্থা বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “আমরা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে যত তদন্ত করছি, ততই বুঝতে পারছি যে এটি ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে এবং অন্যান্য প্রদেশেও কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছে।”
কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে ৫১৩ জনেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের গবেষকেরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সোমবার তাদের প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক রোগী এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।
রবিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান, টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এবোলার এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২৪এ এপ্রিল প্রথম শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটি নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল। বর্তমান সংক্রমণ বাড়ার জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের এবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই।
তবে ডব্লিউএইচও খতিয়ে দেখছে অন্যান্য ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে কিনা।
বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনসিয়া বলেন, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে। অঞ্চলটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং অনিরাপদ হওয়ায় ডব্লিউএইচওর পক্ষে রোগটি তদন্ত করা এবং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা কঠিন করে তুলছে। যা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
ডা. আনসিয়া বলেন, সংক্রমণ ইতোমধ্যে সাউথ কিভু প্রদেশেও পৌঁছে গেছে। এছাড়া পূর্ব কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমাতেও একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিবেশী রুয়ান্ডা ইতোমধ্যে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক, যাকে একটি মিশনারি দলের ডাক্তার পিটার স্ট্যাফোর্ড ধারণা করা হচ্ছে, এবোলার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তাকে কঙ্গো থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিবিসিকে জানিয়েছে, একজন মার্কিন নাগরিককে চিকিৎসার জন্য দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, তারা সংস্পর্শে আসা আরও অন্তত ছয়জন আমেরিকানকে সরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে।
এবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে এর উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হতে পারে। এতে আক্রান্তদের জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। পরে রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় এবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৮ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ। ১৯৭৬ সালে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল এবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
এটি জাইর স্ট্রেইনের কারণে হয়েছিল, যার জন্য অনুমোদিত একটি ভ্যাকসিন রয়েছে।
রোগটি পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের আরও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ছিল গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি। এতে মারা যান ১১ হাজার ৩২৫ জন।
ধারণার চেয়ে দ্রুত ছড়াতে পারে এবোলা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া এবোলার প্রভাব অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. অ্যান আনসিয়া সতর্ক করে জানিয়েছেন, কঙ্গোতে এবোলায় ১৩১ জনের মৃত্যু হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বার্তা সংস্থা বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “আমরা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে যত তদন্ত করছি, ততই বুঝতে পারছি যে এটি ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে এবং অন্যান্য প্রদেশেও কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছে।”
কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে ৫১৩ জনেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের গবেষকেরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সোমবার তাদের প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক রোগী এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।
রবিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান, টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এবোলার এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২৪এ এপ্রিল প্রথম শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটি নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল।
বর্তমান সংক্রমণ বাড়ার জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের এবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই।
তবে ডব্লিউএইচও খতিয়ে দেখছে অন্যান্য ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে কিনা।
বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনসিয়া বলেন, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে। অঞ্চলটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং অনিরাপদ হওয়ায় ডব্লিউএইচওর পক্ষে রোগটি তদন্ত করা এবং নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা কঠিন করে তুলছে। যা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
ডা. আনসিয়া বলেন, সংক্রমণ ইতোমধ্যে সাউথ কিভু প্রদেশেও পৌঁছে গেছে। এছাড়া পূর্ব কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমাতেও একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিবেশী রুয়ান্ডা ইতোমধ্যে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক, যাকে একটি মিশনারি দলের ডাক্তার পিটার স্ট্যাফোর্ড ধারণা করা হচ্ছে, এবোলার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তাকে কঙ্গো থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিবিসিকে জানিয়েছে, একজন মার্কিন নাগরিককে চিকিৎসার জন্য দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, তারা সংস্পর্শে আসা আরও অন্তত ছয়জন আমেরিকানকে সরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে।
এবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে এর উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হতে পারে। এতে আক্রান্তদের জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। পরে রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় এবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৮ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ। ১৯৭৬ সালে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল এবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
এটি জাইর স্ট্রেইনের কারণে হয়েছিল, যার জন্য অনুমোদিত একটি ভ্যাকসিন রয়েছে।
রোগটি পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের আরও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ছিল গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি। এতে মারা যান ১১ হাজার ৩২৫ জন।