প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএমআপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
আমেরিকার সঙ্গে ‘বঞ্চনার চুক্তি’ কতটা কার্যকর
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ৯ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে অন্তবর্তীকালীন সরকার।
এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা মুখে পড়তে হয় তৎকালীন ইউনূস সরকারকে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও এ নিয়ে কার্যত চাপের মধ্যে রাখছিল বাংলাদেশকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি যে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে ছিলেন সেখানে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি ‘সুন্দরভাবে’ বাস্তবায়ন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা ছিলো সুস্পষ্ট বার্তা।
তবে দুই দিন পরই চিত্র পালটে যায়। ২১এ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পালটা শুল্ক চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে।
তবে এরপরই অন্য আইনের আওতায় প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
প্রশ্ন উঠছে এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি কী এখনও কার্যকর, বাতিল নাকি ‘ডরমেন্ট’ বা স্থবির?
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ১৯ শতাংশ, ১০ শতাংশ নাকি ১৫ শতাংশ কোন হারে শুল্ক দিচ্ছেন? চুক্তিটির ভবিষ্যৎ কী? সরকারের অবস্থান কী?
চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য ‘অসম’ ও ‘বঞ্চনা’র দাবি করে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এর পুনর্বিবেচনার দাবি করছেন নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে।
'এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ‘র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আলাপ-কে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তিটি হয়েছে তা অসম। নতুন সরকারের উচিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে এটি পুনর্বিবেচনা করা।”
এদিকে একই দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
“যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শিরোনামে বুধবার আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত অন্যায়, অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি থেকে বিএনপি সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশোতে একশো নম্বর পেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এই চুক্তিটিকে দেখছেন বঞ্চনার হিসাবে।
তার ভাষ্য, “এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য আরও বাড়বে। কারণ, এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি।”
এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না এমনকি এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে। যাতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য আরও বাড়বে বলেই মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
বিএনপি-জামায়াতের সম্মতি
ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদরা নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানালেও বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দাবি করেছিলেন, চুক্তি যখন হয়েছে তার আগে বিএনপি ও জামায়াতের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়া গিয়েছিল।
“ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল। সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি,” গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর যখন ঢাকায় এসে ছিলেন তখন এ কথা বলে ছিলেন তিনি।
রবিবার তিনি সাংবাদিকদের আবারও বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই; আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে।”
কোনো চুক্তির আওতায় তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হবে- এমন দাবি 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাহলে রাশিয়া থেকে সরাসরি পরিশোধিত ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় পাওয়ার অনুরোধ কেন জানিয়েছে বাংলাদেশ?
এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, “রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে (রাশিয়া থেকে) কিছু আমদানির ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি আসে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তির কারণে নয়।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জ্বালানি আমদানির বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত বা বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রসঙ্গত, ইউনূস সরকারের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
যিনি ছিলেন এই চুক্তির অন্যতম প্রধান আলোচনাকারীদের একজন।
জানতেন না উপদেষ্টারা
খলিলুর রহমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার কথা বললেও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আলোচনাতে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্তত দুইজন উপদেষ্টা।
“সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যে, (যুক্তরাষ্ট্র) ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ বসিয়ে দেবে। ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ তো বিশাল একটা সমস্যা, যাতে আমাদের গার্মেন্টস ভয়ানকভাবে এফেকটেড হবে। তো আমি এ আলোচনাতে ছিলাম না বা আমি জানি না,” আলাপ-কে বলেন সাবেক অন্তবর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তবে মাংস আমদানির ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হলেও দায় এড়িয়ে সম্প্রতি একই কথা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলও।
তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে আমাকে কোনো দিনও ডাকা হয়নি।”
চুক্তির অবস্থা ও সরকারের পদক্ষেপ কী?
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পালটা শুল্ক চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করার পর বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি আর কার্যকর নেই বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পরামর্শক মোস্তফা আবিদ খান।
“চুক্তিটি এখন ডরমেন্ট (স্থবির) অবস্থায় রয়েছে। কারণ এটা যে আইনের আওতায় করা হয়েছিল সে আইনটিকেই তো আমেরিকার আদালত বাতিল করেছে,” আলাপ-কে বলেছেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক এই সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি কার্যকর করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানও।
“চুক্তিটি এখন কার্যকর নয়। এটা ভ্যালিড করতে হলে ওদের সংসদের অনুমোদন লাগবে” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি নিয়ে কিছু না জানানো পর্যন্ত এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না।
বাণিজ্য সচিব বলেন, “ওদের সংসদে অনুমোদন হলে ওরা আমাদের নোটিফাই (জানাবে) করবে। সেই নোটিশ পাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নেব।”
চুক্তি বাতিল সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ১৫ই মার্চ ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতেও ঢোকা এবং বের হয়ে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, “এন্ট্রি ক্লজ হচ্ছে, নোটিফিকেশন না হলে এটা কার্যকর হবে না। এখনও নোটিফিকেশনে যায়নি, সরকার ইচ্ছা করলে রিভিউ করতে পারে। আর এক্সিট ক্লজ হচ্ছে, আপনি ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এমন না যে, আমরা একটা বন্ধ ঘরে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছি।”
এ দিকে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোসি উইন্টারটনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডায়ালগ পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে দুই দেশের সম্মতি রয়েছে।
এখন শুল্ক কত?
ট্রাম্পের পালটা শুল্ক হিসেবে প্রথমে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছিল বাংলাদেশি পণ্যের উপর।
এরপর তা কমে আসে ২০ শতাংশে। আর অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের আগে আগে ৯ই ফেব্রুয়ারি করা চুক্তির পর তা আরও এক শতাংশ কমে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত পালটা শুল্ক চুক্তি বাতিল করলে কার্যত শুল্ক শূন্য হয়ে যায়।
এর পরপরই নতুন করে প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
তবে শেষ পর্যন্ত তা ১০ শতাংশেই স্থির রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
“রেসিপ্রোকাল ট্রেড বাস্তবায়ন হয়নি। এখন ১০ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর রয়েছে,” আলাপকে বলেন বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
আরেকটু বিস্তারিত জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান আলাপ-কে বলেন, “আমেরিকা ওদের সেকশন ১২২ ধারায় নতুন যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল এখন সেটাই কার্যকর রয়েছে।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে আরএমজি পণ্য আমদানিতে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন গ্লোবাল ট্যারিফটি জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তখন কংগ্রেস এটি বাড়াতে পারে কিনা বা প্রেসিডেন্ট নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ দেবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এর মধ্যে অন্যতম ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা, যা ‘স্পেশাল ৩০১’ নামেও পরিচিত।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান বাণিজ্য আইন, যা অন্য কোনো দেশের “অন্যায়” বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেয়। এর মাধ্যমে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) তদন্ত করে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।
ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ৩০১ বাস্তবায়নের পথে হাঁটলে আর তার আগেই বাংলাদেশ ‘এআরটি’ বাতিল করলে শুল্ক আরও বেড়ে যেতে পারে বলেই সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
“আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমরা আনফেয়ার ট্রেডের ওই সেকশনে পড়ে না যাই। সেক্ষেত্রে বাড়তি ট্যারিফ ৫০ শতাংশেও পৌঁছে যেতে পারে,” আলাপ-কে বলেছেন এই অর্থনীতিবিদ।
আমেরিকার সঙ্গে ‘বঞ্চনার চুক্তি’ কতটা কার্যকর
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ৯ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে অন্তবর্তীকালীন সরকার।
এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা মুখে পড়তে হয় তৎকালীন ইউনূস সরকারকে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও এ নিয়ে কার্যত চাপের মধ্যে রাখছিল বাংলাদেশকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি যে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে ছিলেন সেখানে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি ‘সুন্দরভাবে’ বাস্তবায়ন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা ছিলো সুস্পষ্ট বার্তা।
তবে দুই দিন পরই চিত্র পালটে যায়। ২১এ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পালটা শুল্ক চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে।
তবে এরপরই অন্য আইনের আওতায় প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
প্রশ্ন উঠছে এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি কী এখনও কার্যকর, বাতিল নাকি ‘ডরমেন্ট’ বা স্থবির?
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ১৯ শতাংশ, ১০ শতাংশ নাকি ১৫ শতাংশ কোন হারে শুল্ক দিচ্ছেন? চুক্তিটির ভবিষ্যৎ কী? সরকারের অবস্থান কী?
চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য ‘অসম’ ও ‘বঞ্চনা’র দাবি করে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এর পুনর্বিবেচনার দাবি করছেন নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে।
'এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ‘র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আলাপ-কে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তিটি হয়েছে তা অসম। নতুন সরকারের উচিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে এটি পুনর্বিবেচনা করা।”
এদিকে একই দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
“যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শিরোনামে বুধবার আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত অন্যায়, অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি থেকে বিএনপি সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশোতে একশো নম্বর পেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এই চুক্তিটিকে দেখছেন বঞ্চনার হিসাবে।
তার ভাষ্য, “এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য আরও বাড়বে। কারণ, এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি।”
এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না এমনকি এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে। যাতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য আরও বাড়বে বলেই মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
বিএনপি-জামায়াতের সম্মতি
ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদরা নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানালেও বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দাবি করেছিলেন, চুক্তি যখন হয়েছে তার আগে বিএনপি ও জামায়াতের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়া গিয়েছিল।
“ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল। সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি,” গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর যখন ঢাকায় এসে ছিলেন তখন এ কথা বলে ছিলেন তিনি।
রবিবার তিনি সাংবাদিকদের আবারও বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই; আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে।”
কোনো চুক্তির আওতায় তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হবে- এমন দাবি 'সম্পূর্ণ মিথ্যা' বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাহলে রাশিয়া থেকে সরাসরি পরিশোধিত ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় পাওয়ার অনুরোধ কেন জানিয়েছে বাংলাদেশ?
এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, “রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে (রাশিয়া থেকে) কিছু আমদানির ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি আসে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তির কারণে নয়।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জ্বালানি আমদানির বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত বা বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রসঙ্গত, ইউনূস সরকারের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
যিনি ছিলেন এই চুক্তির অন্যতম প্রধান আলোচনাকারীদের একজন।
জানতেন না উপদেষ্টারা
খলিলুর রহমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার কথা বললেও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আলোচনাতে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্তত দুইজন উপদেষ্টা।
“সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যে, (যুক্তরাষ্ট্র) ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ বসিয়ে দেবে। ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ তো বিশাল একটা সমস্যা, যাতে আমাদের গার্মেন্টস ভয়ানকভাবে এফেকটেড হবে। তো আমি এ আলোচনাতে ছিলাম না বা আমি জানি না,” আলাপ-কে বলেন সাবেক অন্তবর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তবে মাংস আমদানির ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হলেও দায় এড়িয়ে সম্প্রতি একই কথা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলও।
তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে আমাকে কোনো দিনও ডাকা হয়নি।”
চুক্তির অবস্থা ও সরকারের পদক্ষেপ কী?
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পালটা শুল্ক চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করার পর বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি আর কার্যকর নেই বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পরামর্শক মোস্তফা আবিদ খান।
“চুক্তিটি এখন ডরমেন্ট (স্থবির) অবস্থায় রয়েছে। কারণ এটা যে আইনের আওতায় করা হয়েছিল সে আইনটিকেই তো আমেরিকার আদালত বাতিল করেছে,” আলাপ-কে বলেছেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক এই সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি কার্যকর করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানও।
“চুক্তিটি এখন কার্যকর নয়। এটা ভ্যালিড করতে হলে ওদের সংসদের অনুমোদন লাগবে” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি নিয়ে কিছু না জানানো পর্যন্ত এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না।
বাণিজ্য সচিব বলেন, “ওদের সংসদে অনুমোদন হলে ওরা আমাদের নোটিফাই (জানাবে) করবে। সেই নোটিশ পাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নেব।”
চুক্তি বাতিল সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ১৫ই মার্চ ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতেও ঢোকা এবং বের হয়ে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, “এন্ট্রি ক্লজ হচ্ছে, নোটিফিকেশন না হলে এটা কার্যকর হবে না। এখনও নোটিফিকেশনে যায়নি, সরকার ইচ্ছা করলে রিভিউ করতে পারে। আর এক্সিট ক্লজ হচ্ছে, আপনি ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এমন না যে, আমরা একটা বন্ধ ঘরে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছি।”
এ দিকে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোসি উইন্টারটনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডায়ালগ পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়ে দুই দেশের সম্মতি রয়েছে।
এখন শুল্ক কত?
ট্রাম্পের পালটা শুল্ক হিসেবে প্রথমে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছিল বাংলাদেশি পণ্যের উপর।
এরপর তা কমে আসে ২০ শতাংশে। আর অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের আগে আগে ৯ই ফেব্রুয়ারি করা চুক্তির পর তা আরও এক শতাংশ কমে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত পালটা শুল্ক চুক্তি বাতিল করলে কার্যত শুল্ক শূন্য হয়ে যায়।
এর পরপরই নতুন করে প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
তবে শেষ পর্যন্ত তা ১০ শতাংশেই স্থির রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
“রেসিপ্রোকাল ট্রেড বাস্তবায়ন হয়নি। এখন ১০ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর রয়েছে,” আলাপকে বলেন বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
আরেকটু বিস্তারিত জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান আলাপ-কে বলেন, “আমেরিকা ওদের সেকশন ১২২ ধারায় নতুন যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল এখন সেটাই কার্যকর রয়েছে।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে আরএমজি পণ্য আমদানিতে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন গ্লোবাল ট্যারিফটি জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তখন কংগ্রেস এটি বাড়াতে পারে কিনা বা প্রেসিডেন্ট নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ দেবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এর মধ্যে অন্যতম ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা, যা ‘স্পেশাল ৩০১’ নামেও পরিচিত।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান বাণিজ্য আইন, যা অন্য কোনো দেশের “অন্যায়” বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেয়। এর মাধ্যমে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) তদন্ত করে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।
ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ৩০১ বাস্তবায়নের পথে হাঁটলে আর তার আগেই বাংলাদেশ ‘এআরটি’ বাতিল করলে শুল্ক আরও বেড়ে যেতে পারে বলেই সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
“আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমরা আনফেয়ার ট্রেডের ওই সেকশনে পড়ে না যাই। সেক্ষেত্রে বাড়তি ট্যারিফ ৫০ শতাংশেও পৌঁছে যেতে পারে,” আলাপ-কে বলেছেন এই অর্থনীতিবিদ।
বিষয়: