বন্যার পানি নামছে, ভেসে উঠছে মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র হয়েছে, বাড়ছে জ্বর-ডায়রিয়ার ঝুঁকি। দুর্গতদের অভিযোগ, ত্রাণ কার্যক্রম চললেও প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা অপ্রতুল এবং সমন্বয়ের ঘাটতি রয়ে গেছে।

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

চারদিকে শুধু পানি আর পানি, কিন্তু অভাব বিশুদ্ধ পানির। চলাচলের রাস্তা বুক সমান পানির নিচে, বিচ্ছিন্ন জনপদ। বিশুদ্ধ পানির খোঁজে প্রায় দুই মাইল বন্যার স্রোতে সাঁতরেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পূর্ব ইলশা গাজিরপাড়ার বাসিন্দা মো. তৌহিদকে।

এরই মধ্যে বানের পানিতে ভেঙে গেছে তার একমাত্র বসতঘর। প্রতিবেশীদের সহায়তায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও সামনে কীভাবে খাবার, সুপেয় পানি কিংবা ত্রাণ মিলবে, সেই অনিশ্চয়তাই এখন তার সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

শুধু তৌহিদ নন, একই গ্রামের সামাদ দম্পতির ঘর থেকেও সরে গেছে বানের পানি, রেখে গেছে পুরু কাদার স্তর। ভেসে গেছে আসবাবপত্র, বন্ধ হয়ে গেছে আয়-রোজগার। টানা চার দিন না খেয়ে কাটানোর পরও তাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বেঁচে থাকার লড়াই চলবে কীভাবে?

রবিবার বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে সোমবার কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও সংকট কাটেনি। বরং এখন সামনে এসেছে বন্যা-পরবর্তী মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা।

বহু এলাকায় এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব এবং আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জ্বর, ডায়রিয়া এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাগর তীরবর্তী বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, ছনুয়া, গন্ডামারা, কাথারিয়াসহ ১৪টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার মানুষ।

শুধু পূর্ব ইলশা গাজিরপাড়াতেই প্রায় ৭০টি পরিবারের মধ্যে ৬০টির বেশি বসতভিটা তলিয়ে গেছে। পানি নামা শুরু হলেও দুর্গত মানুষের জন্য প্রকৃত লড়াই এখনই শুরু হয়েছে—পুনর্বাসন, খাদ্য, নিরাপদ পানি এবং রোগবালাই থেকে বাঁচার লড়াই।

বন্যার পানি নামলেও বাড়ছে মানবিক সংকট

টানা বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেক মানুষ বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু বন্যার পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে আরেক বাস্তবতা— গভীর মানবিক বিপর্যয়।

অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বহু এলাকায় বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ। নিরাপদ পানীয় জল ও খাদ্যের সংকট কাটেনি। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এরই মধ্যে দুর্গত এলাকায় জ্বর, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ এখনো অপ্রতুল এবং অনেক এলাকায় তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন আলাপ-কে বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগেও বিতরণ করা হচ্ছে ত্রাণ। সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।

তবে এর পাশাপাশি “সংকট কিছুটা” আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, "রবিবার বিকেল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।"

মঙ্গলবারও বৃষ্টি না হলে অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

দুর্গত মানুষের নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ৮০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

বাঁশখালীর পাশাপাশি সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বন্যার পানিতে আক্রান্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া পৌরসভা এবং বাজালিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ, চরতি, ছদাহা ও কেওছিয়া ইউনিয়ন। সেখানে পানি নামতে শুরু করলেও দুর্গতদের দুর্ভোগ কমেনি।

সোমবার সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তবে সরকারি আশ্বাসের পাশাপাশি মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্রও। ত্রাণ সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে শত শত মানুষকে। সামাজিক অবস্থানের বিভাজন মুছে দিয়ে সবাইকে একই সারিতে এনে দাঁড় করিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় সুরক্ষা বাধ ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের একাধিক অংশ ভেঙে যাওয়ায় রাতারাতি কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। অন্তত চারটি স্থান দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে লক্ষাধিক মানুষকে বন্যাকবলিত করেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান আলাপ-কে বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ধীরে ধীরে নিজ বাড়িতে ফিরছেন।

সাঙ্গু নদীবিধৌত চন্দনাইশেও পানি কমতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছেন অনেক পরিবার। তবে ঘরে ফিরে তারা দেখছেন ভাঙা বাড়ি, কাদায় ডুবে থাকা বসতভিটা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া জীবিকার শেষ সম্বল।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও সামনে আসছে। ভেঙে গেছে সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, নষ্ট হয়েছে ধানের বীজতলা ও সবজির খেত। কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কয়েক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি বা বন্যার অভিঘাত থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চললেও দুর্গতদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা অপ্রতুল এবং সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো সহায়তার বাইরে রয়ে গেছে।

কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলায় বন্যা পরিস্থিতি

বৃষ্টি কমে আসায় কক্সবাজার সদর, রামু ঈদগাঁও, উখিয়া, টেকনাফ ও চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পেকুয়া ও মাতামুহুরীর নিম্নাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্দি। 

পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি এখনো। জ্বলছে না চুলা, বিচ্ছিন্ন অনেক এলাকার যোগাযোগ। দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট। ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। সংকট দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির। 

মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের মাঝের পাড়ার বাসিন্দা মো. আলামিন আলাপ-কে বলেন, “পুরো এলাকা তীব্র মানবিক সংকটে পড়েছে। দ্রুত ত্রাণ না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।” 

“সরকারি ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়, বেসরকারি উদ্যোগে যেটুকু দেওয়া হচ্ছে সেখানেও আছে সমন্বয়হীনতা,” ত্রাণ নিয়ে বলেন তিনি। 

কক্সবাজারের ইউএনও তাহমিনা আক্তার আলাপ-কে জানান, সদর উপজেলায় ২৯ হাজারের মতো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি প্রায় সব জায়গা থেকেই নেমে গেছে। 

ত্রাণের চাহিদা আছে জানিয়ে তাহমিনা আক্তার বলেন, “সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” 

চকরিয়ার ইউএনও শাহিন দেলোয়ার আলপ-কে জানান, ১ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। তবে অনেকেই এখনও ত্রাণ পাননি। 

পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম বলেন, “সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে। পার্বত্য জেলায় বন্যার পানি কমেছে।”

বর্ষণের মাত্রা কমে আসায় বান্দরবানে কমতে শুরু করেছে সাঙ্গু নদীর পানি। পানি কমলেও ঝুঁকি বিবেচনায় এখনো এই জেলার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।  

খাগড়াছড়িতে বন্যা দুর্গত এলাকার পানি নামতে শুরু করলেও দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত। এই জেলায় অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা, বিভিন্ন ধরনের সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়ক।

রাঙ্গামাটিতেও বৃষ্টি কিছুটা কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির কিছু নিম্নাঞ্চল এখনো পানিবন্দি। দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনী, প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিজিবি, রেডক্রিসেন্ট ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেও নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি

বিশুদ্ধ পানির সংকট, কর্দমাক্ত সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে বলে মনে করেন হবিগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী।

রহমত আলাপ-কে বলেন, ‘এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বাঁধ সংস্কারও জরুরি।, সেই সাথে খাদ্য ও পুনর্বাসন সহায়তা বাড়ানো না গেলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।’

উজান থেকেও ঢলের চাপ আগের তুলনায় কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পানি সরে গেলেও ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। নিম্নাঞ্চলের আউস ধান ও অন্যান্য ফসলের জমি ডুবে যাওয়ায় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

হবিগঞ্জ জেলার আব্দাবখাই, নোয়াগাঁও ও কালীগঞ্জ এলাকার কিছু অংশ ছাড়া অধিকাংশ স্থান থেকেই পানি নেমে গেছে।  

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঈনুল হক আলাপ-কে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। 

মৌলভীবাজারেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকা মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও নদীর বাঁধ ভেঙে রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। প্রায় ৩৫টি গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। 

রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের আবদুস সালাম আলাপ-কে জানান, টানা তিনদিন পানির নিচে থাকার পর শনিবার রাত থেকে তাদের বাড়ি ও আশপাশ এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অনেক পরিবার এখনো সরকারি সহায়তা পায়নি। কোথাও কোথাও শিশুদের জ্বর ও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান আলাপ-কে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। 

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল আলাপ-কে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিক্যাল টিম কাজ করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৯টি উপজেলায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এখনও পানিবন্দি। এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন। নিহত হয়েছেন ৫৪ জন।