১৮ই জুলাই পালিত হবে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

আগামী ১৮ই জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে’ এই দিবস পালন করা হবে বলে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। 

তিনি বলেন, এ উপলক্ষ্যে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিবাদী সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হবে।

“আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, যখন ১৬-১৭ তারিখ এক বর্বর হামলা, মানে হামলা তীব্র আকারে পৌঁছালো, তখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির যারা ছাত্র-ছাত্রীরা ১৮ তারিখে এক অভূতপূর্ব আন্দোলনে নেমে আসেন রাজপথে এবং সেখানে বেশ কয়েকজন, সম্ভবত চারজন সেদিনই শহিদ হন। আমরা মনে করি যে, পুরো আন্দোলনটির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে এটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো,” বলেন ইশরাক।  

“এ কারণেই ১৮ই জুলাইকে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,” যোগ করেন তিনি। 

এ বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অংশীজন এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর আলোচনা করে প্রতিবাদী সমাবেশের ‘প্রাথমিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ইশরাক। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শুরু হওয়া আন্দোলন জুলাইয়ে ব্যাপক রূপ ধারণ করে শেখ হাসিনার পতনের গণঅভ্যুত্থানে মোড় নেয়। ১৮ই জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করা হয়, যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্তত ৪৭টি জেলায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি এবং হামলার ঘটনা ঘটে। সারাদেশে অন্তত ২৭ থেকে ২৯ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার আহত হন।

সেদিনই রাত ৯টা থেকে সারা দেশে ব্রডব্যান্ডসহ সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেট্রোরেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয় বিজিবি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ই জুলাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

প্রদর্শনীর সম্ভাব্য নাম ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’। চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণ কিংবা শাহবাগের উন্মুক্ত স্থানে এটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।