যেসব কারণে ভাইকিং আধিপত্যে কুপোকাত ব্রাজিল

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড আগে থেকেই ছিল নাজুক। এই ম্যাচেও সেই ধারা বদলাতে পারেনি সেলেসাও। এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ খেলে একবারও জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম বিস্ময়কর পরিসংখ্যান।

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

নিউ জার্সিতে ভাইকিংদের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। এ নিয়ে ২০০২ এর পর থেকে টানা ৬ টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল বা তার আগে থেকেই বিদায় নিলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্যদিকে হালান্ডের জোড়া গোলে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে।

ম্যাচজুড়ে ব্রাজিল বেশি সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় নরওয়ে। সেলেসাওদের এবারও কপাল পোড়ার পেছনে কাজ করেছে বেশ কয়েকটি কারণ।

পেনাল্টির সহজ সুযোগ মিস

ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটেই পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস। তার নেওয়া শটে দুর্দান্ত সেভ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নাইল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপ ম্যাচের মূল সময়ে এই প্রথমবার কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেনাল্টি মিস করলেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই ব্যর্থতার মূল্য চুকাতে হয়েছে দলকে।

হালান্ডকে থামাতে ব্যর্থ ব্রাজিল

ঠিক যাকে ভাবা হচ্ছিলো ব্রাজিলের যমদূত। সেই আর্লিং হালান্ডই গড়ে দিয়েছেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। ম্যাচজুড়ে বল পায়ে হালান্ডকে জায়গা আর সময় দেওয়াই ছিলো ব্রাজিলের রক্ষণভাগের বড় ভুল। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া দুটি সুযোগই দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

আক্রমণভাগের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি

প্রথমার্ধের আগেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একাধিকবার ভালো অবস্থানে গেলেও শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ে দুর্বলতাই কাল হলো ব্রাজিলের। পরে বদলি হিসেবে নেমে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন এনদ্রিক। এছাডাও ব্রুনো গুমিরেস ও ক্যাসেমিরোর আক্রমণ থেকেও আসেনি প্রত্যাশিত সাফল্য।

কৌশলগত দুর্বলতা

ব্রাজিল পুরো ম্যাচেই  তুলনামূলক রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেলেছে। প্রত্যাশামতো হাই প্রেসিং ফুটবলও খেলেনি, যা নরওয়েকে ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিলো। ম্যাচ শেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও স্বীকার করেন, নরওয়ের শক্তির কথা ভেবেই তারা সতর্ক ছিলো।

মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সামলানোর ঘাটতি

পুরো ম্যাচে ম্যাচে মাত্র ৩৭ শতাংশ সময় বলের দখল রাখতে পারে ব্রাজিল। খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং চাপের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেসরা মাঝমাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। ফলে ম্যাচের ছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নরওয়ের হাতে চলে যায়। ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি যায়।

ভাইকিং ফিজিক্যালিটি

নরওয়ের খেলোয়াড়রা বিশেষত শারীরিক শক্তিতে ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। বিশেষ করে সেট-পিসগুলোতে নরওয়েজিয়ান খেলোয়াড়দের উচ্চতা ও শারীরিক শক্তিই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

নেইমারকে গেম টাইম দেয়ার সিদ্ধান্তহীনতা

পাকেতার অনুপস্থিতিতে শুরু থেকেই অনেকের নেইমারকে খেলানোর প্রত্যাশা থাকলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে শুরু থেকে মাঠে রাখেননি। ম্যাচের শেষ দিকে নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলানোর মতো সময় আর হাতে ছিল না। তবে শুরু থেকেই তিনি খেললে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারতো।

ইতিহাস বলছে, নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড আগে থেকেই ছিল নাজুক। এই ম্যাচেও সেই ধারা বদলাতে পারেনি সেলেসাও। এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ খেলে একবারও জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম বিস্ময়কর পরিসংখ্যান।

ব্রাজিলের বিদায়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে খেলবে আরেক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্যদিকে হতাশা ভুলে সেলেসাওদের সামনে সুযোগ এখন, নতুন করে দল গোছানো ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজানোর চ্যালেঞ্জ।