হয় ভারতে বিশ্বকাপ খেলো না হয় পয়েন্ট হারাও: বাংলাদেশকে আইসিসি

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশে আয়োজনের যে অনুরোধ বিসিবি করেছিল, তা গ্রহণ করা হয়নি বলে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জানিয়েছে আইসিসি, এই খবর দিচ্ছে ইএসপিএনক্রিকইনফো। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতি দিয়ে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইটটির দাবিকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

 

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উদ্দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারতেই খেলতে হবে। অন্যথায় পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি নিয়ে টুর্নামেন্টের বাইরে থাকতে হতে পারে।

ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর আইসিসি এই অবস্থান বাংলাদেশকে জানিয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশে আয়োজনের যে অনুরোধ বিসিবি করেছিল, তা গ্রহণ করা হয়নি বলেই জানিয়েছে আইসিসি, বলছে ইএসপিএনক্রিকইনফো।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি বিবৃতি দিয়ে ইসএসপিএনক্রিকইনফো'র ওই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে বিসিবি বলছে, এ ধরণের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং আইসিসির সাথে বিসিবির যে যোগাযোগ হয়েছে তার ফলাফলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিসিবি বলছে, তারা ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ জানিয়েছিল এবং ভেন্যু পরিবর্তনের যে দাবি জানিয়েছিল সে ব্যাপারে আইসিসির প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। আইসিসি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্পূ‍র্ণ ও বাধাহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যাক্ত করেছে।

আইসিসি এ ব্যাপারে বিসিবির সাথে ঘণিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং উদ্ভূত উদ্বেগ নিরসনে কাজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। একই সাথে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিসিবির দেয়া ইনপুটগুলোকেও তারা স্বাগত জানিয়েছে, বিবৃতিতে লিখেছে বিসিবি।

এদিকে মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে এখনো পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেয়নি। 

রবিবার বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিল। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই আইসিসি এই ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০ দলের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। 

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ মার্চ।

এই পরিস্থিতির শুরু মূলত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে কেন্দ্র করে। আইপিএলের ১৯তম আসরের জন্য গেল ১৬ই ডিসেম্বর আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত নিলামে কোলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল।

তার পরপরই ভারতের কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ শুরু করে। তারা কেকেআর এবং দলটির একাংশের স্বত্বাধিকারী শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্যাম্পেইন চালায়।

এসব সংগঠনের দাবি ছিল, ভারতীয়দের আবেগকে উপেক্ষা করে কেকেআর একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছে। 

এই অভিযোগের পেছনে তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনে। 

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই তারা বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে আইপিএলের দলে নেওয়াকে ভারতীয়দের আবেগের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে।

এর ধারাবাহিকতায় গত তেসরা জানুয়ারি ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক - বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) জানায়, তারা কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশনা দিয়েছে যেন মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই দিন কোলকাতা নাইট রাইডার্সও আনুষ্ঠানিকভাবে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিষয়টি নিয়ে দুই দফা বোর্ড সভা করে। রোববার বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন ভারতের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যুতে আয়োজন করা হয়, সে বিষয়ে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়। 

বিসিবির বিবৃতিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হলেও, মোস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তাজনিত কারণেই আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।

এদিকে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, বিসিবি এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়ে বিসিসিআইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আইপিএল নিলামের আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়পত্র দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও পরে কেন তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চায় বিসিবি।

তবে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই চিঠিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।