বিশ্বকাপের সেরা একাদশে মেসি, নেই ইয়ামাল এবং ব্রাজিলের কেউ

জায়গা করে নিতে পারেননি স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। আর ব্রাজিলের কোনো ফুটবলারই জায়গা পাননি ফিফা সেরা একাদশে।

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

উনচল্লিশ দিনের বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের লড়াই। একটিমাত্র সোনালি শিরোপা।

শেষ বাঁশি বাজার পর সেই শিরোপা উঠেছে স্পেনের হাতে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া ১১ জনের তালিকা দেখলে বোঝা যায়, এই টুর্নামেন্টের গল্পটা শুধু স্পেনের নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের আলাদা করে চিনিয়েছেন আরও কয়েকজন তারকা। কেউ অভিজ্ঞতায়, কেউ বিস্ফোরক পারফরম্যান্সে, কেউ আবার একেবারে নতুন ইতিহাস লিখে।

ফিফার ৪-৩-৩ ফরমেশনে সাজানো এই একাদশে স্পেনের তিন ফুটবলারের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজেনিয়া, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, দায়ো উপামেকানো ও মাইকেল ওলিসে, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড।

এই একাদশের সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত গোলবারে। বিশ্বকাপে অভিষেক করা আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজেনিয়া যেন নিজের জন্যই লিখেছেন আলাদা এক গল্প। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়ার পর সমর্থকদের ৩৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি, যা যথেষ্ট ছিল ফিফার অফিসিয়াল সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য।

রক্ষণভাগে অবশ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের ছাপ স্পষ্ট। দুই প্রান্তে মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো। মাঝখানে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো।

স্পেনের পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণ ছিল প্রায় দুর্ভেদ্য। সেই দুর্গের অন্যতম প্রহরী ছিলেন কুকুরেয়া। একটি মিনিটের জন্যও মাঠের বাইরে যাননি। নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও রেখেছেন ছাপ, করেছেন দুটি অ্যাসিস্ট।

অন্য প্রান্তে পেদ্রো পোরো ছিলেন রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে নিখুঁত সেতুবন্ধন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দৃঢ় ট্যাকল, নিখুঁত পজিশনিং ও খেলা পড়ার ক্ষমতা আর্জেন্টিনার রক্ষণকে দিয়েছে নির্ভরতা। আর উপামেকানো ছিলেন ফ্রান্সের রক্ষণভাগের অন্যতম শক্ত স্তম্ভ।

এই চারজনের উপস্থিতি যে কেবল নামের ভারে নয়, তার প্রমাণও আছে পরিসংখ্যানে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে সাতটি ক্লিন শিট নিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। আর সেই সাফল্যে রক্ষণভাগের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

মাঝমাঠে জায়গা পাওয়া তিনজনের প্রত্যেকের গল্প আলাদা। স্পেনের রদ্রি ছিলেন নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। বল দখল, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ-রক্ষণে সমান কার্যকর ভূমিকা; সব মিলিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান স্থপতি তিনি। স্বীকৃতিও এসেছে সবচেয়ে বড় মঞ্চে, জিতেছেন গোল্ডেন বল।

ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়। তার কাছ থেকে এসেছে সাতটি অ্যাসিস্ট। আর ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম? মাঝমাঠে নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং গোল; সবকিছুর এক দুর্দান্ত সমন্বয় দেখিয়েছেন তিনি। সাত গোল করে নিশ্চিত করেছেন নিজের জায়গা।

তারপর আসে সেই আক্রমণভাগ, যেখানে তিনটি নামই আলাদা করে একটি করে গল্প।

কিলিয়ান এমবাপে ছিলেন গোলের ক্ষুধায় অপ্রতিরোধ্য। ১০ গোল ও চার অ্যাসিস্টে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। শুধু টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতাই নন, এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেছেন ফ্রান্সের এই তারকা। সমর্থকদের ভোটে পেয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯.৬ শতাংশ সমর্থন।

আর মাঝখানে আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বয়স যেন তার কাছে শুধুই একটি সংখ্যা। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। বড় মঞ্চে মেসির গল্প যে এখনও শেষ হয়নি, সেটিই যেন আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আক্রমণের অন্য প্রান্তে নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তার দল কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেলেও হালান্ডের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স থামেনি। সাত গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতা হয়েছেন তিনি। আর তার বিধ্বংসী ফিনিশিংই এনে দিয়েছে সেরা একাদশে জায়গা।

তবু এই একাদশে জায়গা হয়নি কয়েকটি বড় নামের। স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছেন। আর ব্রাজিলের কোনো ফুটবলারই জায়গা পাননি ফিফার অফিসিয়াল বিশ্বকাপ সেরা একাদশে।

বিশ্বকাপ শেষ। শিরোপা স্পেনের। কিন্তু সেরা একাদশের গল্প বলছে আরও বড় কিছু,ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার আলো ভাগ করে নিয়েছেন একাধিক দেশের একঝাঁক তারকা।