টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ পেলো এমন এক জয়, যাকে সাহসী বলাই যায়

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক স্মরণীয় দিন আছে। কিন্তু কিছু জয় থাকে, যেগুলো শুধু স্কোরবোর্ডে ধরা পড়ে না, ধরা পড়ে মানসিকতায়, সাহসে আর বিশ্বাসে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়টা ঠিক তেমনই।

পঞ্চম দিনের টেস্ট। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য দিয়ে মাঠ ছাড়ছে, এমন দৃশ্য খুব বেশি দেখা যায় না। সাধারণত এই জায়গায় এসে বাংলাদেশকে দেখা গেছে ড্র বাঁচানোর হিসাব করতে। কিন্তু এবার গল্পটা অন্যরকম। কারণ এটা ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল, যে দল গত কয়েক মাস ধরে নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটকে বদলে ফেলার কথা বলে এসেছে।

ম্যাচের ভিত গড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪১৩ রান। কঠিন শুরু সামলে সেখানে দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। নেতৃত্বের দায়িত্বটাও সামনে থেকে নিয়েছিলেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও খেললেন ৮৭ রানের আরেকটি ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসে ভরা ইনিংস।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা দেয়। সিদ্ধান্তটা ছিল সাহসী। কারণ তখনও ম্যাচ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কিন্তু শান্ত জানতেন, তার হাতে এমন এক বোলিং আক্রমণ আছে যারা ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। পরে পুরস্কার বিতরণীতে বাংলাদেশ অধিনায়কও বললেন, তারা শুরু থেকেই ব্যাটিং করতে চেয়েছিলেন এবং নিজেদের বোলিং আক্রমণের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল।

সেই বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় প্রতিদান দিলেন নাহিদ রানা। প্রথম ইনিংসে মোটামুটি পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ইনিংসে যেন অন্য এক রূপে দেখা গেল তাকে। গতি, আগ্রাসন আর আত্মবিশ্বাসে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে এলোমেলো করে দেন তরুণ এই পেসার। একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। বিশেষ করে সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট দুটো ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে এনে দেয়।

নাহিদের সঙ্গে দারুণ সমর্থন দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। স্কোরলাইন বলছে, বাংলাদেশ ৪১৩ ও ২৪০ রানে ৯ উইকেট, পাকিস্তান ৩১৩ ও ১৬৩। কিন্তু সংখ্যার বাইরে এই ম্যাচের গল্প আরও বড়।

এটা ছিল বাংলাদেশের প্রথম হোম টেস্ট জয় পাকিস্তানের বিপক্ষে। আর সেই জয় এলো এমন এক ভঙ্গিতে, যেখানে বাংলাদেশ শুধু ভালো খেলেনি, ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

এই জয় তাই শুধু একটি টেস্ট ম্যাচ জেতার গল্প নয়। এটা এমন এক দলের গল্প, যারা ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শিখছে, টেস্ট ক্রিকেটেও তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এবং সাহস নিয়ে জিততেও পারে।