‘নতুন কুঁড়ি’তে তৃণমূলের মাঠে জেগে উঠছে নতুন স্বপ্ন
যে নামটি একসময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগামীর শিল্পীদের তুলে ধরেছিল, সেই ‘নতুন কুঁড়ি’ এখন ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো জ্বালাতে চলেছে। হয়তো এই উদ্যোগ থেকেই উঠে আসবে ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক তারকা, যে একদিন দেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে উড়াবে।
মীর রায়হান মাসুদ
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১১:১৭ এএমআপডেট : ০২ মে ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
একসময় অনেক পরিবারে টেলিভিশনের সামনে জড়ো হওয়ার এক বিশেষ কারণ ছিল ‘নতুন কুঁড়ি’। ছোট ছোট কণ্ঠে গান, মঞ্চে নাচ, আবৃত্তির আবেগ কিংবা অভিনয়ের ছোঁয়ায় ফুটে উঠত আগামীর শিল্পীরা। সেই নামটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, ছিল সম্ভাবনার এক জানালা। অনেক বড় বড় নাম কয়েক দশক মাতিয়েছেন আমাদের টেলিভিশন, রেডিও তথা সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।
বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে আসছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠে; আলো নয়, ঘামের ঝিলিকে। জন্ম নিয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
২রা মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দর্শনের সূচনা। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে এর উদ্বোধন হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই যাত্রার সূচনা করবেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হাজারো কিশোর কিশোরী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবে এই উদ্বোধনের সঙ্গে, যেন একসঙ্গে শুরু হচ্ছে এক স্বপ্নযাত্রা।
এই উদ্যোগের মূল শক্তি তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় অভিযোগ ছিল, প্রতিভা আছে, কিন্তু সেই প্রতিভাকে খুঁজে বের করার কার্যকর কোনো কাঠামো নেই। শহরের কিছু পরিচিত ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অসংখ্য সম্ভাবনা অদেখাই থেকে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পর্যবেক্ষণ করে, তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বুঝে নির্দিষ্ট খেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিবেশী ভারত বা শ্রীলঙ্কাও এ ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে। সেখানে প্রতিভা বাছাই একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলে।
বাংলাদেশে সেই জায়গাটিই পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাজানো এই কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন করেছে। সংখ্যাটা শুধু বড় নয়, এটি দেখিয়ে দেয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাধুলা নিয়ে কতটা আগ্রহ, কতটা স্বপ্ন লুকিয়ে আছে।
এই প্রতিযোগিতায় রাখা হয়েছে আটটি জনপ্রিয় ডিসিপ্লিন, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার এবং মার্শাল আর্ট। প্রতিটি খেলাই এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতার শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা খুঁজে নিতে পারে। কেউ হয়তো দৌড়ে দ্রুত, কেউ কৌশলে পারদর্শী, কেউবা সহনশীলতায় এগিয়ে, এই প্ল্যাটফর্ম সেই ভিন্নতাগুলোকে স্বীকৃতি দিতে চায়।
বাছাই প্রক্রিয়াটিও সাজানো হয়েছে ধাপে ধাপে। প্রথমে উপজেলা পর্যায়, তারপর জেলা, এরপর বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে সেরা প্রতিযোগীরা পৌঁছাবে ঢাকার চূড়ান্ত পর্বে। দেশের ৬৪টি জেলাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে একযোগে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে একসঙ্গে শুরু হবে এই আয়োজন। এই কাঠামো নিশ্চিত করবে কোনো অঞ্চলের প্রতিভা যেন উপেক্ষিত না হয়।
শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজনই নয়, অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্বে যারা নির্বাচিত হবে, তাদের জন্য রয়েছে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ, যা বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দেওয়া হবে বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তি এবং নিয়মিত ভাতা। ইতোমধ্যে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু প্রতিভা খুঁজে বের করাই নয়, সেই প্রতিভাকে ধরে রাখা এবং এগিয়ে নেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই উদ্যোগকে দেখছেন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে। তার ভাষায়, দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। অনেক সময় অর্থনৈতিক চাপই তাদের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। তাই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ কারণে ক্রীড়া বৃত্তি, ভাতা এবং প্রশিক্ষণ সুবিধার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বচ্ছতা। অতীতে ক্রীড়াঙ্গনে স্বজনপ্রীতি বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে এবার বাছাই প্রক্রিয়ায় সরাসরি তদারকির কথা বলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি, নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের আরেকটি দিক বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ক্রীড়ার সংযোগ। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ক্রীড়াকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, খেলাধুলা আর অতিরিক্ত কোনো কার্যক্রম নয়, বরং শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ তাই কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি একটি মানসিকতার পরিবর্তন। এটি মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভা শুধু বড় শহরের স্টেডিয়ামে জন্মায় না, তা জন্মায় গ্রামের মেঠোপথে, স্কুলের ছোট মাঠে, কিংবা বিকালের খেলায়। প্রয়োজন শুধু সেই প্রতিভাকে খুঁজে বের করা, পরিচর্যা করা এবং সুযোগ দেওয়া।
যে নামটি একসময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগামীর শিল্পীদের তুলে ধরেছিল, সেই ‘নতুন কুঁড়ি’ এখন ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো জ্বালাতে চলেছে। হয়তো এই উদ্যোগ থেকেই উঠে আসবে ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক তারকা, যে একদিন দেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে উড়াবে। আর সেই গল্পের শুরুটা লেখা হবে এই তৃণমূলের মাঠ থেকেই, যেখানে এক কিশোর বা কিশোরী প্রথমবার নিজের স্বপ্নকে সত্যি মনে করতে শুরু করবে।
‘নতুন কুঁড়ি’তে তৃণমূলের মাঠে জেগে উঠছে নতুন স্বপ্ন
যে নামটি একসময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগামীর শিল্পীদের তুলে ধরেছিল, সেই ‘নতুন কুঁড়ি’ এখন ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো জ্বালাতে চলেছে। হয়তো এই উদ্যোগ থেকেই উঠে আসবে ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক তারকা, যে একদিন দেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে উড়াবে।
একসময় অনেক পরিবারে টেলিভিশনের সামনে জড়ো হওয়ার এক বিশেষ কারণ ছিল ‘নতুন কুঁড়ি’। ছোট ছোট কণ্ঠে গান, মঞ্চে নাচ, আবৃত্তির আবেগ কিংবা অভিনয়ের ছোঁয়ায় ফুটে উঠত আগামীর শিল্পীরা। সেই নামটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, ছিল সম্ভাবনার এক জানালা। অনেক বড় বড় নাম কয়েক দশক মাতিয়েছেন আমাদের টেলিভিশন, রেডিও তথা সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।
বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে আসছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠে; আলো নয়, ঘামের ঝিলিকে। জন্ম নিয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
২রা মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দর্শনের সূচনা। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে এর উদ্বোধন হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই যাত্রার সূচনা করবেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হাজারো কিশোর কিশোরী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবে এই উদ্বোধনের সঙ্গে, যেন একসঙ্গে শুরু হচ্ছে এক স্বপ্নযাত্রা।
এই উদ্যোগের মূল শক্তি তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় অভিযোগ ছিল, প্রতিভা আছে, কিন্তু সেই প্রতিভাকে খুঁজে বের করার কার্যকর কোনো কাঠামো নেই। শহরের কিছু পরিচিত ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অসংখ্য সম্ভাবনা অদেখাই থেকে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পর্যবেক্ষণ করে, তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বুঝে নির্দিষ্ট খেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিবেশী ভারত বা শ্রীলঙ্কাও এ ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে। সেখানে প্রতিভা বাছাই একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলে।
বাংলাদেশে সেই জায়গাটিই পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাজানো এই কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন করেছে। সংখ্যাটা শুধু বড় নয়, এটি দেখিয়ে দেয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাধুলা নিয়ে কতটা আগ্রহ, কতটা স্বপ্ন লুকিয়ে আছে।
এই প্রতিযোগিতায় রাখা হয়েছে আটটি জনপ্রিয় ডিসিপ্লিন, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার এবং মার্শাল আর্ট। প্রতিটি খেলাই এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতার শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গা খুঁজে নিতে পারে। কেউ হয়তো দৌড়ে দ্রুত, কেউ কৌশলে পারদর্শী, কেউবা সহনশীলতায় এগিয়ে, এই প্ল্যাটফর্ম সেই ভিন্নতাগুলোকে স্বীকৃতি দিতে চায়।
বাছাই প্রক্রিয়াটিও সাজানো হয়েছে ধাপে ধাপে। প্রথমে উপজেলা পর্যায়, তারপর জেলা, এরপর বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে সেরা প্রতিযোগীরা পৌঁছাবে ঢাকার চূড়ান্ত পর্বে। দেশের ৬৪টি জেলাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে একযোগে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে একসঙ্গে শুরু হবে এই আয়োজন। এই কাঠামো নিশ্চিত করবে কোনো অঞ্চলের প্রতিভা যেন উপেক্ষিত না হয়।
শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজনই নয়, অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্বে যারা নির্বাচিত হবে, তাদের জন্য রয়েছে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ, যা বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দেওয়া হবে বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তি এবং নিয়মিত ভাতা। ইতোমধ্যে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু প্রতিভা খুঁজে বের করাই নয়, সেই প্রতিভাকে ধরে রাখা এবং এগিয়ে নেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই উদ্যোগকে দেখছেন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে। তার ভাষায়, দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। অনেক সময় অর্থনৈতিক চাপই তাদের স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়। তাই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ কারণে ক্রীড়া বৃত্তি, ভাতা এবং প্রশিক্ষণ সুবিধার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বচ্ছতা। অতীতে ক্রীড়াঙ্গনে স্বজনপ্রীতি বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে এবার বাছাই প্রক্রিয়ায় সরাসরি তদারকির কথা বলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি, নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের আরেকটি দিক বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ক্রীড়ার সংযোগ। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ক্রীড়াকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, খেলাধুলা আর অতিরিক্ত কোনো কার্যক্রম নয়, বরং শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ তাই কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি একটি মানসিকতার পরিবর্তন। এটি মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভা শুধু বড় শহরের স্টেডিয়ামে জন্মায় না, তা জন্মায় গ্রামের মেঠোপথে, স্কুলের ছোট মাঠে, কিংবা বিকালের খেলায়। প্রয়োজন শুধু সেই প্রতিভাকে খুঁজে বের করা, পরিচর্যা করা এবং সুযোগ দেওয়া।
যে নামটি একসময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগামীর শিল্পীদের তুলে ধরেছিল, সেই ‘নতুন কুঁড়ি’ এখন ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো জ্বালাতে চলেছে। হয়তো এই উদ্যোগ থেকেই উঠে আসবে ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক তারকা, যে একদিন দেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে উড়াবে। আর সেই গল্পের শুরুটা লেখা হবে এই তৃণমূলের মাঠ থেকেই, যেখানে এক কিশোর বা কিশোরী প্রথমবার নিজের স্বপ্নকে সত্যি মনে করতে শুরু করবে।
বিষয়: