বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চনা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বাধ্যতামূলক অবসর এবং বরখাস্ত হওয়া সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রবিবার (২৮এ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এই সুবিধার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালী, মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী, মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মেজর জেনারেল নিজাম আহমেদ, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর মতো আলোচিত সামরিক কর্মকর্তারা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় চাকরিতে বৈষম্য ও প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি একটি কমিটি ও বাহিনী সদর দপ্তরগুলোতে পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৩ মে গঠিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সেই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই সরকারি আদেশ জারি করা হয়।
আদেশের আওতায় সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জনসহ মোট ১৫০ জন কর্মকর্তাকে যোগ্যতা অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর বা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এটি বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ আমলে সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বঞ্চিত কর্মকর্তারা চাকরি ও মর্যাদা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে এই চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করে।
কমিটির সুপারিশে বলা হয়, বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



