২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৪ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭১৪ জন। অথচ ২০২৩ সালেও মাত্র ৫৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। এশিয়ার অন্যান্য দেশ-বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাম সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ড. এ টি এম বদরুজ্জামান
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএমআপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
বাস্তবতা হলো, হাম কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, বরং আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পুঁজি করে এটি বারবার ফিরে আসে: ড. এ টি এম বদরুজ্জামান
বাংলাদেশে আবারও হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আমরা কি সত্যিই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পেরেছি?
বাস্তবতা হলো, হাম কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, বরং আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পুঁজি করে এটি বারবার ফিরে আসে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- কার্যকর ও নিরাপদ ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও এই রোগ ছড়াতে পারে।
এর অর্থ একটাই, শুধু ভ্যাকসিন বা টিকাদান কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বহুমাত্রিক প্রতিরোধ কৌশল। হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি।
মিজেলস ভাইরাসের ব্যসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার বা R₀ প্রায় ১২ থেকে ১৮, যার মানে হলো একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, যদি তারা ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকে।
ভ্যাকসিন প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক সত্য হলো, ভাইরাসটির সংক্রমন ক্ষমতা যত বেশি, ততো বেশি ভ্যাকসিন কভারেজ প্রয়োজন।
হামের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ৯৫% জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এই মাত্রার নিচে নামলেই সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
সবাই যেমনটি বলে থাকে হাম শিশুদের হয়ে থাকে। আসলে তা নয়। হাম যেকোনো বয়সীকেই আক্রান্ত করতে পারে।
তবে এ রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে সব বয়স ও জনগোষ্ঠী সমান ঝুঁকিতে থাকে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট “high-risk group” রয়েছে। তাদের এই রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বিশেষ করে যারা অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের ইমিউন সিস্টেম সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি।
৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তারা সাধারণত টিকাদান সূচির বাইরে থাকে।
এছাড়া immunocompromised ব্যক্তিরা, যেমন ক্যান্সার রোগী, যাদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেয়াদি immunosuppressive থেরাপিতে আছে, তাদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
এছাড়াও গর্ভবতী নারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ। তাদের ক্ষেত্রে হাম সংক্রমণ গর্ভপাত, প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি বা নবজাতকের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ high-risk ক্যাটাগরি হলো যারা কোন ভ্যাকসিন নেয়নি অথবা মাত্র একটি ডোজ নিয়েছে এরকম শিশু ও কিশোররা। এই গ্রুপটি সরাসরি সংক্রমণের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এখনও হাম বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ হাম আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ মারা গেছে। যার অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
উন্নয়নশীল দেশে কেইস ফ্যাটালিটি রেট সাধারণত ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আর অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে তা ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নিউমোনিয়ায় ভোগে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ। এছাড়া এনসেফালাইটিসসহ মারাত্মক জটিলতা দেখা যায়, যা স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাম শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে “immune amnesia” তৈরি করতে পারে। এর ফলে আক্রান্ত শিশু পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে একটি সফল উদাহরণ ছিল। ২০০০ সালের শুরুতে দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার কেইস রিপোর্ট হতো। ২০০৫-২০০৬ সালের জাতীয় ক্যাম্পেইন এবং পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে আসে।
২০১০-২০১৫ সময়কালে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এই সাফল্য স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সালের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হামের খবর পাওয়া যায়।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় (২০২০–২০২২) নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বিঘ্ন এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আবারও কিছু এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
তবে ২০২৬ সালে এসে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার ভাষ্যমতে দুইশরও বেশী শিশু ইতিমধ্যে মারা গেছে। হামের এই পুনরুত্থানের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো “immunity gap”।
এই প্রেক্ষাপটে “immunity gap” বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন। যদি কোনো জনগোষ্ঠীর একটি নির্দিষ্ট অংশ ভ্যাকসিন বঞ্চিত থাকে, তাহলে তারা একটি “susceptible cohort” তৈরি করে।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সময়কালে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে MR ভ্যাকসিন পায়নি। এই missed cohort এখন স্কুলগামী বয়সে প্রবেশ করছে। স্কুলে শিশুদের পারস্পরিক সংস্পর্শে আসার সুযোগ বেশি।
তাছাড়া বদ্ধ শ্রেনীকক্ষে হামের জীবাণু প্রায় দুই ঘন্টা এয়ারবর্ন (Airborne) হয়ে থাকতে পারে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়ছে। তাছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিন কভারেজ ৯০ শতাংশের কাছাকাছি হলেও, যদি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়- যেমন শহরের বস্তি বা দুর্গম অঞ্চলে বা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বা তার নিচে নেমে যায়, তাহলে সেই এলাকাগুলো “pocket of susceptibility” হিসেবে কাজ করে।
আমার ধারণা, আমাদের দেশে হাম প্রাদুর্ভাব এই ধরনের pocket থেকেই শুরু হয়েছে। ভবিষ্যৎ ঝুঁকির দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট আকারের প্রাদুর্ভাবগুলো যদি সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তা সহজেই জেলাভিত্তিক বা আঞ্চলিক এপিডেমিক (Epidemic) এ রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশের উচ্চ জনঘনত্ব হাম সংক্রমণ বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বেশি থাকায় এয়ারবর্ন ভাইরাস হিসেবে হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা প্রাদুর্ভাবকে স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃহত্তর আকার ধারণ করতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ইতোমধ্যেই এপিডেমিকসদৃশ আকার ধারণ করেছে। সময়মতো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ের এপিডেমিক এ রূপ নিবে।
উল্লেখ্য, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশের নয়- বৈশ্বিক পর্যায়েও হাম আবার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। US Centers for Diseases Control and Prevention (CDC) দেয়া তথ্যমতে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২২৮৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল।
আর, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৪ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭১৪ জন। অথচ ২০২৩ সালেও মাত্র ৫৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। এশিয়ার অন্যান্য দেশ-বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাম সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটা বাস্তবতা আমাদের মনে রাখতে হবে, হাম একটি সীমান্তহীন রোগ। এক দেশে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পাশের দেশের প্রাদুর্ভাব সহজেই নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি “মহামারি” বলা হবে কিনা? আমার দৃষ্টিতে এটি মহামারি নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ঝুঁকি কম।
আমি বলবো, বাংলাদেশে এপিডেমিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতার কারণে এটি দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে, যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের লক্ষণ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগীকে আলাদা রাখা যায়।
স্কুলগুলো সংক্রমণ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রখে। এ পরিস্থিতে সারা দেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্কুল বন্ধ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকায় স্বল্পমেয়াদি, লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই অধিক কার্যকর।
কন্টাক্ট ট্রেসিং ও দ্রুত ভ্যাকসিন প্রদান এই রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন প্রদান করলে সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
হাম আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা শিশুদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে MR ভ্যাকসিন দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো, এই সময়ের মধ্যে ভাইরাস শরীরে সম্পূর্ণভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ভ্যাকসিনপ্রণোদিত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ বা রোগের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
একইসাথে কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব প্রতিরোধও জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অভ্যন্তরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, সরকার কি দেরি করছে? সরাসরি দেরি বলা না গেলেও, বাস্তবতা হলো আমাদের প্রতিক্রিয়া এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রাদুর্ভাবের পরেই শুরু হয়।
Proactive প্রস্তুতি-যেখানে আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সময়ের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে জাতীয় পর্যায়ে একটি “Measles Epidemic Control Command Center” গঠন করা।
তাইওয়ানের Central Epidemic Command Center (CECC) মডেল দেখিয়েছে, কীভাবে কেন্দ্রীয় সমন্বয়, রিয়েল-টাইম ডেটা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে।
হাম প্রাদুর্ভাবের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। একটি বড় প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ায় এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট করে।
একইসাথে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য জরুরি হলো সক্রিয় নজরদারি, দ্রুত কন্টাক্ট ট্রেসিং, টার্গেটেড ভ্যাকসিনেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা।
একইসাথে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব পুনরায় না ঘটে।
সবশেষে বলা যায়, হাম প্রতিরোধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভ্যাকসিন, সচেতনতা, নজরদারি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া-এই চারটি স্তম্ভকে সমানভাবে শক্তিশালী করতে পারলেই আমরা এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব।
অন্যথায় এই প্রাদুর্ভাব দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং তা আঞ্চলিক এমনকি আন্তঃদেশীয় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ যদি আবারও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা হবে শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নয়, আমাদের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতারও প্রতিফলন।
লেখক:
ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশাস ডিজিজেস অ্যান্ড ভ্যাকসিনোলজি
হাম ফিরে আসছে: টিকার বাইরেও যা ভাবতে হবে
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৪ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭১৪ জন। অথচ ২০২৩ সালেও মাত্র ৫৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। এশিয়ার অন্যান্য দেশ-বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাম সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে আবারও হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আমরা কি সত্যিই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পেরেছি?
বাস্তবতা হলো, হাম কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, বরং আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পুঁজি করে এটি বারবার ফিরে আসে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- কার্যকর ও নিরাপদ ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও এই রোগ ছড়াতে পারে।
এর অর্থ একটাই, শুধু ভ্যাকসিন বা টিকাদান কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বহুমাত্রিক প্রতিরোধ কৌশল। হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি।
মিজেলস ভাইরাসের ব্যসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার বা R₀ প্রায় ১২ থেকে ১৮, যার মানে হলো একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, যদি তারা ভ্যাকসিন না নিয়ে থাকে।
ভ্যাকসিন প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক সত্য হলো, ভাইরাসটির সংক্রমন ক্ষমতা যত বেশি, ততো বেশি ভ্যাকসিন কভারেজ প্রয়োজন।
হামের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ৯৫% জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এই মাত্রার নিচে নামলেই সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
সবাই যেমনটি বলে থাকে হাম শিশুদের হয়ে থাকে। আসলে তা নয়। হাম যেকোনো বয়সীকেই আক্রান্ত করতে পারে।
তবে এ রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে সব বয়স ও জনগোষ্ঠী সমান ঝুঁকিতে থাকে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট “high-risk group” রয়েছে। তাদের এই রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বিশেষ করে যারা অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের ইমিউন সিস্টেম সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি।
৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তারা সাধারণত টিকাদান সূচির বাইরে থাকে।
এছাড়া immunocompromised ব্যক্তিরা, যেমন ক্যান্সার রোগী, যাদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেয়াদি immunosuppressive থেরাপিতে আছে, তাদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
এছাড়াও গর্ভবতী নারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ। তাদের ক্ষেত্রে হাম সংক্রমণ গর্ভপাত, প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি বা নবজাতকের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ high-risk ক্যাটাগরি হলো যারা কোন ভ্যাকসিন নেয়নি অথবা মাত্র একটি ডোজ নিয়েছে এরকম শিশু ও কিশোররা। এই গ্রুপটি সরাসরি সংক্রমণের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এখনও হাম বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ হাম আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ মারা গেছে। যার অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
উন্নয়নশীল দেশে কেইস ফ্যাটালিটি রেট সাধারণত ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আর অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে তা ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নিউমোনিয়ায় ভোগে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ। এছাড়া এনসেফালাইটিসসহ মারাত্মক জটিলতা দেখা যায়, যা স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাম শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে “immune amnesia” তৈরি করতে পারে। এর ফলে আক্রান্ত শিশু পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে একটি সফল উদাহরণ ছিল। ২০০০ সালের শুরুতে দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার কেইস রিপোর্ট হতো। ২০০৫-২০০৬ সালের জাতীয় ক্যাম্পেইন এবং পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে আসে।
২০১০-২০১৫ সময়কালে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এই সাফল্য স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সালের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হামের খবর পাওয়া যায়।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় (২০২০–২০২২) নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বিঘ্ন এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আবারও কিছু এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
তবে ২০২৬ সালে এসে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার ভাষ্যমতে দুইশরও বেশী শিশু ইতিমধ্যে মারা গেছে। হামের এই পুনরুত্থানের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো “immunity gap”।
এই প্রেক্ষাপটে “immunity gap” বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন। যদি কোনো জনগোষ্ঠীর একটি নির্দিষ্ট অংশ ভ্যাকসিন বঞ্চিত থাকে, তাহলে তারা একটি “susceptible cohort” তৈরি করে।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সময়কালে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে MR ভ্যাকসিন পায়নি। এই missed cohort এখন স্কুলগামী বয়সে প্রবেশ করছে। স্কুলে শিশুদের পারস্পরিক সংস্পর্শে আসার সুযোগ বেশি।
তাছাড়া বদ্ধ শ্রেনীকক্ষে হামের জীবাণু প্রায় দুই ঘন্টা এয়ারবর্ন (Airborne) হয়ে থাকতে পারে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়ছে। তাছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিন কভারেজ ৯০ শতাংশের কাছাকাছি হলেও, যদি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়- যেমন শহরের বস্তি বা দুর্গম অঞ্চলে বা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বা তার নিচে নেমে যায়, তাহলে সেই এলাকাগুলো “pocket of susceptibility” হিসেবে কাজ করে।
আমার ধারণা, আমাদের দেশে হাম প্রাদুর্ভাব এই ধরনের pocket থেকেই শুরু হয়েছে। ভবিষ্যৎ ঝুঁকির দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট আকারের প্রাদুর্ভাবগুলো যদি সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তা সহজেই জেলাভিত্তিক বা আঞ্চলিক এপিডেমিক (Epidemic) এ রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশের উচ্চ জনঘনত্ব হাম সংক্রমণ বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বেশি থাকায় এয়ারবর্ন ভাইরাস হিসেবে হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা প্রাদুর্ভাবকে স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃহত্তর আকার ধারণ করতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ইতোমধ্যেই এপিডেমিকসদৃশ আকার ধারণ করেছে। সময়মতো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ের এপিডেমিক এ রূপ নিবে।
উল্লেখ্য, এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশের নয়- বৈশ্বিক পর্যায়েও হাম আবার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। US Centers for Diseases Control and Prevention (CDC) দেয়া তথ্যমতে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২২৮৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল।
আর, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৪ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭১৪ জন। অথচ ২০২৩ সালেও মাত্র ৫৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। এশিয়ার অন্যান্য দেশ-বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাম সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটা বাস্তবতা আমাদের মনে রাখতে হবে, হাম একটি সীমান্তহীন রোগ। এক দেশে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পাশের দেশের প্রাদুর্ভাব সহজেই নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি “মহামারি” বলা হবে কিনা? আমার দৃষ্টিতে এটি মহামারি নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ঝুঁকি কম।
আমি বলবো, বাংলাদেশে এপিডেমিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতার কারণে এটি দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে, যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের লক্ষণ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগীকে আলাদা রাখা যায়।
স্কুলগুলো সংক্রমণ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রখে। এ পরিস্থিতে সারা দেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্কুল বন্ধ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকায় স্বল্পমেয়াদি, লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই অধিক কার্যকর।
কন্টাক্ট ট্রেসিং ও দ্রুত ভ্যাকসিন প্রদান এই রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন প্রদান করলে সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
হাম আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা শিশুদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে MR ভ্যাকসিন দেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো, এই সময়ের মধ্যে ভাইরাস শরীরে সম্পূর্ণভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ভ্যাকসিনপ্রণোদিত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ বা রোগের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
একইসাথে কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব প্রতিরোধও জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অভ্যন্তরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, সরকার কি দেরি করছে? সরাসরি দেরি বলা না গেলেও, বাস্তবতা হলো আমাদের প্রতিক্রিয়া এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রাদুর্ভাবের পরেই শুরু হয়।
Proactive প্রস্তুতি-যেখানে আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সময়ের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে জাতীয় পর্যায়ে একটি “Measles Epidemic Control Command Center” গঠন করা।
তাইওয়ানের Central Epidemic Command Center (CECC) মডেল দেখিয়েছে, কীভাবে কেন্দ্রীয় সমন্বয়, রিয়েল-টাইম ডেটা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে।
হাম প্রাদুর্ভাবের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। একটি বড় প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ায় এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট করে।
একইসাথে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য জরুরি হলো সক্রিয় নজরদারি, দ্রুত কন্টাক্ট ট্রেসিং, টার্গেটেড ভ্যাকসিনেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা।
একইসাথে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব পুনরায় না ঘটে।
সবশেষে বলা যায়, হাম প্রতিরোধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভ্যাকসিন, সচেতনতা, নজরদারি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া-এই চারটি স্তম্ভকে সমানভাবে শক্তিশালী করতে পারলেই আমরা এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব।
অন্যথায় এই প্রাদুর্ভাব দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং তা আঞ্চলিক এমনকি আন্তঃদেশীয় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ যদি আবারও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা হবে শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নয়, আমাদের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতারও প্রতিফলন।
লেখক:
ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশাস ডিজিজেস অ্যান্ড ভ্যাকসিনোলজি
ন্যাশনাল হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটস (NHRI), তাইওয়ান