ছিল লোকগানও। ছায়ানটের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০০ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেয়।
১৯৬৭ সাল থেকেই বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের লক্ষ্য।
রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পর ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, “যে সঙ্গীত মুক্তিযুদ্ধ থেকে সকল অধিকার অর্জনে আমাদের অবলম্বন, যে সঙ্গীত জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে, কোনো অপশক্তি শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিরস্ত করতে চায়। আবহমান বাংলা গানে যে সংস্কৃতি, যে ঐতিহ্য তা থেকে শেকড় বিচ্ছিন্ন করতে চায়।”
সারওয়ার আলী বলেন, “বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরে, প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করি বিশ্বশান্তি। আমরা সমাজের কাছে অভয় বাণী শুনতে চাই। আমরা যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারি। সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পরে।”
ঢাকায় নববর্ষের আয়োজনে ছিল ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা। এবার যার নাম ‘বৈশাখী শোভযাত্রা’।
সকাল ৯ টায় জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে, চারুকলা থেকে বের হয় শোভাযাত্রা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ঘুরে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বরে যায়। পরে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবারও ফিরে আসে চারুকলায়।
এ যাত্রায় সাথে ছিল পাঁচটি প্রধান মোটিফ। মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া।
অন্ধকার পথে আলোর আশা, নতুন শুরুর বার্তা বয়েছিল মোরগের মোটিফ। বাঙালি সংস্কৃতির শেকড়কে তুলে ধরে দোতারা। একইসাথে এই প্রতীক সঙ্গীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে বানানো হয় কাঠের হাতি। লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক এই মোটিফ।
গ্রামবাংলার সহজ সরল জীবনের বার্তা বহন করেছিল টেপা আকৃতির ঘোড়া। আর শান্তির প্রতীক ছিলো পায়রা।
নববর্ষ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ নিষিদ্ধ করা হলেও শোভাযাত্রায় অনেককেই মুখোশ পড়ে উদযাপন করতে দেখা গেছে।
শোভাযাত্রার নাম নিয়ে নানা বিতর্ক থাকায় বহুদিন ধরে চলে আসা মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।
তবে রাজধানীতে বর্ষবরণে মঙ্গল শোভাযাত্রারও আয়োজন ছিল। বর্ষবরণ পরিষদ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার থেকে শুরু করে এই শোভাযাত্রা।
অংশ নেয় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বাসিন্দারা। এই শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’।
নববর্ষের শোভাযাত্রা: ঢাকার রাস্তায় ‘বৈশাখী’ও ছিল, ‘মঙ্গল’ও ছিল
“জাগো আলোক-লগনে,
এলো ঊষা উদয় তোরণে।
ললাটে জ্বলে রবি
একি রে রূপছবি,
ফুল রাঙে বনে বনে
লাজ-হিম নয়নে।”
ভোরে আলো ফোটার পরই গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকার রমনার বটমূল। অজয় ভট্টাচার্যের গান দিয়ে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
দলবদ্ধ সঙ্গীতে বেজে ওঠে ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’।
বাংলা নববর্ষ বরণ করে নিতে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের ২২টি গান দিয়ে সাজানো হয় এবারের অনুষ্ঠান।
ছিল লোকগানও। ছায়ানটের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০০ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেয়।
১৯৬৭ সাল থেকেই বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের লক্ষ্য।
রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পর ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, “যে সঙ্গীত মুক্তিযুদ্ধ থেকে সকল অধিকার অর্জনে আমাদের অবলম্বন, যে সঙ্গীত জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে, কোনো অপশক্তি শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিরস্ত করতে চায়। আবহমান বাংলা গানে যে সংস্কৃতি, যে ঐতিহ্য তা থেকে শেকড় বিচ্ছিন্ন করতে চায়।”
সারওয়ার আলী বলেন, “বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরে, প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করি বিশ্বশান্তি। আমরা সমাজের কাছে অভয় বাণী শুনতে চাই। আমরা যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারি। সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পরে।”
ঢাকায় নববর্ষের আয়োজনে ছিল ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা। এবার যার নাম ‘বৈশাখী শোভযাত্রা’।
সকাল ৯ টায় জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে, চারুকলা থেকে বের হয় শোভাযাত্রা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ঘুরে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বরে যায়। পরে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবারও ফিরে আসে চারুকলায়।
এ যাত্রায় সাথে ছিল পাঁচটি প্রধান মোটিফ। মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া।
অন্ধকার পথে আলোর আশা, নতুন শুরুর বার্তা বয়েছিল মোরগের মোটিফ। বাঙালি সংস্কৃতির শেকড়কে তুলে ধরে দোতারা। একইসাথে এই প্রতীক সঙ্গীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে বানানো হয় কাঠের হাতি। লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক এই মোটিফ।
গ্রামবাংলার সহজ সরল জীবনের বার্তা বহন করেছিল টেপা আকৃতির ঘোড়া। আর শান্তির প্রতীক ছিলো পায়রা।
নববর্ষ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ নিষিদ্ধ করা হলেও শোভাযাত্রায় অনেককেই মুখোশ পড়ে উদযাপন করতে দেখা গেছে।
শোভাযাত্রার নাম নিয়ে নানা বিতর্ক থাকায় বহুদিন ধরে চলে আসা মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।
তবে রাজধানীতে বর্ষবরণে মঙ্গল শোভাযাত্রারও আয়োজন ছিল। বর্ষবরণ পরিষদ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার থেকে শুরু করে এই শোভাযাত্রা।
অংশ নেয় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বাসিন্দারা। এই শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’।