‘সাইবার সুরক্ষা আইন- ২০২৬’ কি অপব্যবহার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কার্টুন শেয়ার করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর এই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। আইনজীবীরা দাবি করছেন, মামলাটি ত্রুটিযুক্ত।
প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে গত বছর, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংসদ নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ পাস করে চলতি মাসে। যা এখন থেকে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ নামে অভিহিত হবে।
এই আইনটি ব্যবহার করেই ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ হাসান নাসিম নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে, যা নিয়ে ১৯এ এপ্রিল সংসদে চলে তুমুল সমালোচনা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপের সমালোচনা করেন।
এরপর থেকেই আইনের অপব্যবহার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও বিতর্ক তৈরি হয়।
আইনজীবী, বিশ্লেষক এবং রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, আগের সময়ের মতোই বর্তমান সরকার ভিন্নমতকে দমনের চেষ্টা করছে।
যদিও অনেকে মনে করেন, মানহানি এবং বাক-স্বাধীনতার একটি সীমাও নির্ধারণ করা জরুরি।
মামলাটি যে কারণে ত্রুটিযুক্ত
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাওসার আহ্মেদ আলাপ-কে বলেন, "সাইবার সুরক্ষা আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজে বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ মামলা করতে পারবেন না। এখন আমরা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বলতে বুঝি, যিনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপরাধের শিকার হয়েছেন। মামলার বাদী নজরুল ইসলাম নিজেকে চিফ হুইপের একনিষ্ঠ কর্মী বলে দাবি করেছেন।"
তিনি আরও জানান, "একটা বিষয় দেখা যেতে পারে, আদালতের ফাইলে চিফ হুইপ কর্তৃক বাদীকে প্রদত্ত কোনো ক্ষমতাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কিনা। কারণ এজহারে বলা আছে, বাদী চিফ হুইপের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।"
অ্যাডভোকেট কাওসার আহ্মেদ বলেন, "যদিও চিফ হুইপ সংসদে বলেছেন, তাকে নিয়ে কার্টুন শেয়ার করার কারণে কেউ গ্রেফতার হলে যেন ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কি কাউকে মামলা করার জন্য ক্ষমতাপত্র দিয়েছেন? সেটাও স্পষ্ট করেননি।"
অ্যাডভোকেট কাওসার আহ্মেদ মনে করেন, মামলার এজহারে আরও একটি ত্রুটি রয়েছে।
তিনি বলেন, "এজহার পড়লে বোঝা যায় এটা ব্ল্যাকমেইলের কেস। কী সুবিধার জন্য ব্ল্যাকমেলিং করা হলো, সেটা এজহারে উল্লেখ নেই। অথচ অধ্যাদেশের ২৫ ধারা অনুযায়ী, ব্ল্যাকমেইলিং অপরাধ তখনই সংঘটিত হবে, যখন কোনো ব্যক্তিকে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের বা ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে ‘বেআইনি সুবিধা, সেবা, বা চাহিত কোনো কার্য’ সম্পাদনে বাধ্য করা বা চেষ্টা করা হবে। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে কোনও অবৈধ সুবিধা দাবি করার বিষয়েও বলা হয়নি।"
"এজহার পড়লে বোঝা যায়, ২৫ ধারার অধীনে অপরাধ সংঘঠনের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হয়নি। আবার অন্যদিকে ৪০ ধারা অনুযায়ী বাদীকে কি চিফ হুইপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পত্র দিয়েছেন কিনা সেটাও অস্পষ্ট। সুতরাং এটাকে ত্রুটিযুক্ত মামলা বলা যেতে পারে," বলেন কাওসার আহ্মেদ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খায়ের মাহমুদ বলেন, "ধারা ৪০, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা আইন অনুযায়ী অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ এই আইনে মামলা করতে পারবেন না। বর্তমান মামলায় সেই আইনগত শর্ত মানা হয়েছে বলে কাগজপত্রে সুস্পষ্ট নয়। এতে শুধু এই মামলার গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় না, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করে আরও মানুষকে আক্রমণ, হয়রানি বা ভীত করার ঝুঁকিও তৈরি হয়।"
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আলাপ-কে বলেন, "মামলার এজহার অনুযায়ী অভিযোগকারী নিজেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একজন ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বিবরণ নিজেই নির্দেশ করে তিনি সরাসরি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। পাশাপাশি, তিনি কোনোভাবেই উল্লেখ করেননি, তিনি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে বা প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতায় মামলা দায়ের করছেন। সুতরাং মামলা দায়েরের অধিকার নিয়ে একটি গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্যতার পর্যায়ে বিবেচিত হওয়া উচিত।"
তিনি আরও বলেন, "এমন পরিস্থিতিতে, অভিযোগকারীর এই মৌলিক যোগ্যতা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক বিষয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও উত্থাপন করা যায়।"
২৫ এবং ২৭ ধারায় গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা
হাসান নাসিমের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের যে দুই ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের প্রভাষক মো. ফাহমিদুল ইসলাম দেওয়ান মনে করেন সাইবার সুরক্ষা আইন যদি রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা স্যাটায়ারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার পরিপন্থী হবে।
“হাসান নাসিমের শেয়ার করা পোস্ট যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা সমালোচনার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, এবং এতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর বা বেআইনি কিছু না থাকে, তাহলে ধারা ২৫ এবং ধারা ২৭ এর আওতায় কোনোভাবেই আসবে না। কারণ ধারা ২৫-এ ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন এবং শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য করা হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি অন্যকে হুমকি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপরাধ হবে,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
ধারা ২৭ নিয়ে ফাহমিদুল বলেন, "যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের অপরাধে সহায়তা করে, তবে তাকে মূল অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে।"
“এখন যদি হাসান নাসিমের পোস্টটি শুধুমাত্র মতামত প্রকাশের উদ্দেশ্যে হয় এবং এতে কোনো অপরাধমূলক বিষয় না থাকে, তাহলে এটি ধারা ২৭ এর আওতায় পড়বে না। সুতরাং পোস্টটি রাজনৈতিক সমালোচনা বা স্যাটায়ার হয় এবং কোনো অপরাধে সহায়তা না করে, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে আইনের অপপ্রয়োগ।”
ফাহমিদুলের মতে সরকারের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে এই আইনের প্রয়োগে সতর্কতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছেন, ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতি হলো দোষী মনোবৃত্তি প্রমাণ করতে হবে।
“ধারা ২৫(১) নিজেই ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে’ শব্দ ব্যবহার করেছে। এর অর্থ হলো — শুধু পোস্টটি করা হয়েছে, এটুকু বললেই হবে না। প্রমাণ করতে হবে যে, অভিযুক্ত জানতেন এই পোস্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে বেআইনি সুবিধা আদায় করা হবে। এবং সেটাই তার লক্ষ্য ছিল। রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও কার্টুন এই মানদণ্ড পূরণ করে না। ব্যঙ্গচিত্র হলো মতপ্রকাশের ঐতিহ্যবাহী হাতিয়ার, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রে যার বৈধতা স্বীকৃত। ব্যঙ্গ করলেই তা ব্ল্যাকমেইলিং হয় না— এই দুটোর মধ্যে আইনগত ব্যবধান বিশাল,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, "ধারা ২৭ অনুযায়ী, মূল অপরাধে সহায়তাকারীও একই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কিন্তু এই ধারা প্রযোজ্য হওয়ার পূর্বশর্ত হলো মূল অপরাধটির অস্তিত্ব প্রমাণ করা। যদি ধারা ২৫-এর অধীনে কোনো অপরাধই সংঘটিত না হয়ে থাকে, তাহলে সহায়তার প্রশ্নও ওঠে না।"
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক খায়ের মাহমুদ আলাপ-কে বলেন, ‘‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৫ ও ২৭ প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেখানে স্পষ্ট ও গুরুতর ক্ষতির উপাদান থাকতে হয়, সেখানে এ মামলায় সামাজিক বা রাজনৈতিক মতপ্রকাশকেই অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। অতীতে সাইবার নিরাপত্তা আইন যেভাবে ভিন্নমত দমন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এই মামলাও সেই পুরনো ধারার পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেয়—যা উদ্বেগজনক।’’
যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ
“ছেলেটাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আবার আদালত তাকে জেলে পাঠিয়ে দিল। কেউ একবার জিজ্ঞেস করলো না যে মানহানি হয়েছে নুরুল ইসলাম মনির, তাহলে উনি কেন মামলা করলেন না? মামলা তার একনিষ্ঠ কর্মী কেন করলেন? এ ঘটনায় বোঝা যায় উনিই (চিফ হুইপ) মামলাটি করিয়েছেন”, বলছিলেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মন্তব্য, “যে যায় লঙ্কায়, সে-ই হয় রাবণ, আর পরের রাবণ আগেরটার চেয়েও আকারে প্রকারে বড় হয়।”
অনলাইনকে সবার জন্য নিরাপদ রাখার জন্য অবশ্যই একটি স্পষ্ট নীতিমালা ও আইন দরকার, বিশেষ করে নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, বিরোধী মতসহ সবার জন্য অনলাইন স্পেসকে নিরাপদ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব - বলছেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও গবেষক আসিফ বিন আলী।
“কিন্তু বাংলাদেশে দুঃখজনকভাবে অনলাইন নিরাপত্তার নামে করা আইন ও রেগুলেশন অনেক সময় নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ হয়নি। বহু ক্ষেত্রে সেগুলো সরকারের স্বার্থ বা শক্তিশালী সামাজিক চাপগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
সরকার কি অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ কামাল বলেছেন, “এমন ঘটনা অতীতেও আমাদের দেশে ঘটেছে। শেখ হাসিনার সময়েও ঘটেছে। তাই সরকার যদি আইনের শাসন কায়েম করতে চায়, তাহলে এই লোকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। নজরুল ইসলামের মতো কর্মীদের ডিজওন (খারিজ) করা উচিত। এরা আসলে সমর্থক না। যদি বিএনপি সরকার এ ধরনের কয়েকটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে, তাহলে এ ধরনের মামলা আর হবে না।”
গণতান্ত্রিক সমাজের সহিষ্ণতার সংস্কৃতিটা হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, “আমরা তো এগুলোকে তো সমর্থন করি না। একটা গণতান্ত্রিক সমাজে কার্টুন কিংবা বিরোধী মত প্রকাশ থাকবে।”
তবে তার মতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানহানির বিষয়ও থাকে।
“আমি দেখছি যে লেংথে, যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে মানুষের চরিত্রহনন যে লেভেলে হচ্ছে, এটাকে আবার আমি গণতান্ত্রিক চর্চা বলতে ঠিক রাজি না। এর মাত্রা ঠিক করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক করতে হবে কোন পর্যন্ত গেলে চরিত্রহননের পর্যায়ে পড়বে। আর কোনটা ভিন্নমত প্রকাশের মধ্যে পড়বে। এখন বর্ডার লাইন ড্র করতে পারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
কার্টুন নিয়ে ২০২৫ সালে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে তারেক রহমান তার ফেসবুক পোস্টে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে মেহেদী হকের একটি কার্টুন শেয়ার করেন।
তার সাথে ক্যাপশানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, “যদি আমরা একটি শক্তিশালী ও টেকসই গণতন্ত্র পেতে চাই, তাহলে সাংবাদিকতার সততা ও স্বাধীনতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। আসুন, আমরা সব বিভেদ এক পাশে সরিয়ে রেখে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার সবার জন্য গণমাধ্যমসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন নিশ্চিত করবে।”
সাইবার সুরক্ষার আইনের ধারাগুলো কি বাক-স্বাধীনতায় নতুন করে বাধার সৃষ্টি করছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গবেষক আসিফ বিন আলী আলাপ-কে বলেন, “হাসান নাসিমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ও অপতথ্যের মিশ্রণ করেছেন। নারীকে হেয় করেছেন, এমনকি ধর্মীয় সহিংসতাকে সমর্থন করে এমন কথাও বলেছেন। কিন্তু এসবের কোনোটাই এমন অপরাধ নয়, যার কারণে তাকে আইন বহির্ভূতভাবে বা প্রক্রিয়াগত ব্যত্যয় ঘটিয়ে গ্রেফতার করতে হবে। এই কারণে তার গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আইনের শাসনের ব্যত্যয় হয়েছে বলেই মনে হয়।”
আইনের ধারার অপপ্রয়োগ নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল আলাপ-কে বলেন, “আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল টকশোতে কথা বলার জন্য। মামলা দিয়েছিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। কথা বললে ‘সন্ত্রাসী’ হয়ে যায়? কেউ কি এই প্রশ্ন করেছিল- কেন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হলো? তার মানে সব গায়ের জোরে হয়। একইভাবে এই ঘটনাটিও ঘটেছে। কেউ প্রশ্ন করছে না, ছেলেটাকে কেন কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো।”
হাসান নাসিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি’র একটি মন্তব্যকে উদ্ধৃতি করে এ এম হাসান নাসিম ১০ই এপ্রিল পাথরঘাটা ডট কম নামের ফেইসবুক পেইজে একটি কার্টুন পোস্ট শেয়ার করেন।
কার্টুনের বিষয়বস্তু ছিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ উপস্থিত সংসদ সদস্যদের খাবার পরিবেশন করছেন চিফ হুইপ। যেখানে লেখা, “সাগর থেকে ৩টা তিমি মাছ নিয়ে এসেছি, ২টা হাঙর আসতেছে ইনশাআল্লাহ, সবার দাওয়াত। চিফ হুইপ।”
গ্রেফতারের পরদিন ১৮ই এপ্রিল হাসান নাসিমকে আদালতে হাজির করে পুলিশ রিমান্ড চাইলেও আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।



