জিসান আহমেদ মন্টি। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে জিসান নামেই বেশি পরিচিত। নিজ জেলা কুমিল্লা হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন ঢাকার রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকায়। বলতে গেলে জিসানের অপরাধের হাতেখড়িও এখান থেকে। অপরাধ ইতিহাস বলছে, ৯০ দশকের শেষের দিকে মহল্লা ভিত্তিক চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইয়ের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করেন।
আস্তে আস্তে খিলগাঁও, রামপুরা এবং মালিবাগ এলাকার অপরাধ চক্রের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আসিফের সঙ্গে মিলে হত্যাকাণ্ড মিশনেও যুক্ত হন তিনি। এভাবেই তার অপরাধ নেটওয়ার্ক বিস্তার করে।
বিএনপি চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০১ সালের ২৬এ ডিসেম্বর ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’র তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় ছিলো জিসানের নাম।
২০০৩ সালে একটি আবাসিক হোটেলে জিসানকে ধরতে অভিযান চালায় ডিবির একটি টিম। ওই সময়ে ডিবির দুই সদস্যকে গুলি করে পালিয়ে যান। ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।
২০১৯ সালের ১লা অক্টোবর ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও আইনি জটিলতায় ছাড়া পেয়ে যান জিসান।
এখনো তিনি দেশের বাইরে থেকেও ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। তার নামে রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগ, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাসে কোটি কোটি টাকা চাঁদা ওঠে। এলাকা ভিত্তিক ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা, জমি সেটেলমেন্ট, কিলিং মিশন সবই হয় তার ইশারায়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জিসান বাহিনীর হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।
২০২৬ সালের ১২ই জুন দুপুরে রামপুরা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করা হয় আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’কে। ২৫ বছর পর কারামুক্ত পলাশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯এ জুন ভোরে হাসপাতালে মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসাবে পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জিসানের নাম উঠে আসে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালান নিহত পলাশ। সেই জেরেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরকম একজন ভয়ংকর অপরাধী বছরের পর বছর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছে। সম্প্রতি নব গঠিত রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সারাদেশের অপরাধীদের এক হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে। যেখানে অনেক অপরাধীর নাম স্থান পেয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সেই তালিকায় সন্ত্রাসী ক্যাটাগরিতে নেই রামপুরা, বনশ্রী, মলিবাগসহ নগরীর বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণকারী জিসান আহমেদ মন্টির নাম।
জিসানের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত খিলগাঁও-মতিঝিল অঞ্চলের অপর দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী হচ্ছে মানিক এবং মুরাদ।
আশির দশক থেকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ‘ফ্রিডম মানিক’। নগরীর মতিঝিল,পল্টন, খিলগাঁও, সবুজবাগ, শাহজানপুর ও রামপুরা এলাকায় তার একচ্ছত্র আধিপত্যর কথা কম-বেশি সবারই জানা। ভারত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে তার অনুসারীদের দিয়ে এখনো ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানোর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি তারই ঘনিষ্ঠ সহচর রাজধানীর আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ ওরফে ফ্রিডম মুরাদ।
যাকে ২০১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহর থেকে গ্রেপ্তার করে, পুলিশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপোল। পরে বাংলাদেশের সিআইডির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তার বিষয়েও পুরোনো আধিপত্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টার গুঞ্জনও আছে। তবে এই দুজনের নামও নেই তালিকায়।
এসআরবি নথিও বলছে, একজনও ‘আলোচিত সন্ত্রাসী’ নেই মালিবাগ, খিলগাঁও শাহজাহানপুর, মুগদা অঞ্চলে।
এ প্রসঙ্গে এসআরবির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী আলাপ-কে জানান, “পুরস্কার ঘোষিত মোস্টওয়ান্টেড জিসানের নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই না করে নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন হবে না।”
“তবে কোনো অপরাধীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকার অর্থ এই নয় যে, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বাইরে রয়েছেন”, আলাপ-কে জানান তিনি।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য, সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এসআরবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।
এসআরবির নতুন তালিকায় ২ হাজার ২৫৮ জন সন্ত্রাসীর নাম
গত ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ব্যাটালিয়ন অনুযায়ী আলোচিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং ছিনতাইকারীর সামারি’ শীর্ষক নথিতে সারাদেশের অন্য অপরাধীসহ আলোচিত সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ২ হাজার ২৫৮ নাম এই তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের তালিকায় ‘আলোচিত সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছেন ২ হাজার ২৫৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ জন নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১১-এর তালিকায়।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের তালিকায় ২৩৯ জন এবং সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১২ এর তালিকায় ৩২৪ জনের নাম রয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৭ এর তালিকায় আছেন ২৭৭ জন।
রাজশাহীতে (এসআরবি-৫) ২১৬, খুলনায় (এসআরবি-৬) ২১৪, সিলেটে (এসআরবি-৯) ১৯৫ এবং কেরানীগঞ্জ এসআরবি-১০ আওতাধীন এলাকায় ১০০ জনের নাম রয়েছে।
সারাদেশে অপরাধীদের নতুন তালিকা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী আলাপ-কে বলেন, “সারাদেশে বিভিন্ন শ্রেণি ও ক্যাটাগরির অপরাধীদের তালিকা প্রণয়ন মূলত অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অপরাধের ধরন, মাত্রা, অপরাধীদের অবস্থান এবং প্রাপ্ত তথ্যের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছিনতাইকারীর তালিকায় শীর্ষে ঢাকার মোহাম্মদপুর
এসআরবির তালিকায় ছিনতাইকারী হিসাবে নাম রয়েছে ৫৩৪ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩০ জনের নাম রয়েছে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও আশপাশের এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-২ এর তালিকায়।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিরপুর। এসআরবি-৪ এর তালিকায় আছে ১১২ জনের নাম। কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের তালিকায় ছিনতাইকারী হিসাবে নাম রয়েছে ১০৩ জনের।
অন্যদিকে, শাহজাহানপুর, পল্টন, খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৩ এর তালিকায় রয়েছেন ৯৯ জন।
উত্তরার এসআরবি-১ পেয়েছে ৯০ ছিনতাইকারীর নাম। সংস্থাটির বাকি ১০ ব্যাটালিয়নের ছিনতাইকারী অংশ শূন্য।
শিল্পাঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রাখবে এসআরবি
শিল্পাঞ্চলভিত্তিক চাঁদাবাজি ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি তালিকার ভিত্তিতে শিল্পাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে গত দুই মাসে চাঁদাবাজিসংক্রান্ত মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
চাঁদাবাজের তালিকায় শীর্ষে নারায়ণগঞ্জ
এসআরবির তালিকায় চাঁদাবাজের সংখ্যায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১১ এর তালিকায় নাম রয়েছে ৫৬৫ জনের।
এসআরবি-১১ এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট কিছু অংশ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে শিল্পকারখানার ঘনত্ব বেশি।
দ্বিতীয় অবস্থানে এসআরবি-৭ এর তালিকায় রয়েছেন ৫০৩ জন। মোট ১ হাজার ৬৮ জনের নাম আছে এই দুই ব্যাটালিয়নের তালিকায়, যা দেশজুড়ে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজের প্রায় ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, এসআরবি-৭ এর দায়িত্বরত এলাকার মধ্যে আছে চট্টগ্রাম মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলা, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা। শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক স্থাপনাকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ মোকাবিলায় এসব অঞ্চলের গুরুত্ব রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে আছে এসআরবি-১২। তাদের তালিকায় আছে ২৭৭ জনের নাম। এরপর রাজশাহী অঞ্চলের এসআরবি-৫ এর তালিকায় রয়েছে ২১৬ জন। খুলনা মহানগর ও জেলা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল ও গোপালগঞ্জের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৬ এর তালিকায় নাম রয়েছে ২০০ জনের।
অন্যদিকে, রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১৩ এর তালিকায় রয়েছেন ১৮৭ জন। বরিশাল অঞ্চলের এসআরবি-৮ এর তালিকায় ১৪৯ জন এবং সিলেট অঞ্চলের এসআরবি- ৯ এর তালিকায় রয়েছেন ১২৩ জন।
তুলনামূলকভাবে কম নাম রয়েছে কক্সবাজার ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের তালিকায়। কক্সবাজার অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১৫ এর তালিকায় রয়েছেন ৭২ জন, আর ময়মনসিংহ অঞ্চলের এসআরবি-১৪ এর তালিকায় রয়েছেন ৭০ জন।
ঢাকা ও আশপাশের পাঁচ ব্যাটালিয়নে ১ হাজার ২৫৪ চাঁদাবাজ
ঢাকা ও আশপাশের এসআরবির পাঁচটি ব্যাটালিয়নের তালিকায় চাঁদাবাজ হিসাবে নাম আছে ১ হাজার ২৫৪ জনের। এর মধ্যে উত্তরা, মিরপুর ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা তিনটি ব্যাটালিয়নের তালিকাতেই রয়েছে ১ হাজার ১৭ জন।
উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, গুলশান, বনানী, ভাটারা, রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১ এর তালিকায় রয়েছে ৩৯৩ জন।
মিরপুর, শাহ আলী, পল্লবী, রূপনগর, ভাষানটেক, দারুস সালাম, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, সাভার ও মানিকগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৪-এর তালিকায় রয়েছে ৩৪৭ জন। কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১০ এর তালিকায় নাম রয়েছে ২৭৭ জনের। এই ব্যাটালিয়নের আওতায় ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালি, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রয়েছে।
তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, শেরেবাংলা নগর, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-২ এর তালিকায় রয়েছেন ২১৫ জন।
অন্যদিকে, শাহজাহানপুর, পল্টন, খিলগাঁও, সবুজবাগ, রামপুরা, হাতিরঝিল, শাহবাগ ও রমনা এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৩-এর তালিকায় রয়েছেন ২২ জন।
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই বিএনপি নেতা
চাঁদাবাজির অভিযোগে সম্প্রতি বিএনপির দুই নেতাকে আটক করে এসআরবি।
খিলক্ষেত থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শাহিনুর আলম মারফতকে গত ৫ই অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করে সংস্থাটি। পরে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একই দিন শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপনকেও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করা হয়। পরে তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, “চাঁদাবাজির অভিযোগে করা একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে স্বপনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এসআরবি সূত্র আলাপ-কে জানায়, শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় স্বপনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি পোশাক কারখানা থেকে চাঁদা আদায়, নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট পরিচালনা, আগারগাঁওয়ের ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায় এবং শেরেবাংলা নগরের একটি বস্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।



