২০১৭ সালের পান্থপথ হোটেল ওলিও আত্মঘাতী বোমা হামলা মামলার আসামি ‘বোমারু মামুন’, প্রকৃত নাম নাজমুল হাসান মামুন, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে পান জামিন। চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে তাকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। এরপর থেকেই দেশজুড়ে নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
দীপু সারোয়ার
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পিএমআপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
এই বছরের ৫ই জানুয়ারি সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব দেখিয়ে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামুনসহ ১৪ আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দেন।
ঢাকার সাভারে আবারও পাওয়া গেলো বোমা। একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রাম, ভেতরে কাপড়চোপড়, একটা কোরআন শরীফ আর তার মধ্যে লুকানো প্রেসার কুকার বোমা।
বুধবার সকাল ৮টায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় মঙ্গলবার রাতে তিনজন অচেনা ব্যক্তি সেটা রেখে গিয়েছিল। পরে পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
ঠিক আগের দিন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুরে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়ি ঘিরে রাখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। খবর ছিল, ভেতরে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা রয়েছে, সঙ্গে প্রচুর বিস্ফোরক।
এর আগে সিটিটিসির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নব্য জেমবি সদস্য মোহাম্মদ আরিফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম আলাপ-কে বলেন, আরিফের কাঁধে থাকা কালো ব্যাগ থেকে পাঁচটি পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ তিনটি বোমা ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার ভাড়া বাসার ঠিকানা এবং সেখানে আরও কিছু বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য দেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি ও ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট শ্যামপুরে অভিযান চালায়। সেখানে আরও বোমা পাওয়া যায়, যা রাতভর নিষ্ক্রিয় করা হয়।
অভিযানের সাথে যুক্ত একজন কর্মকতা জানান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানিয়েছে নরসিংদী থেকে বোমা তৈরি করে নিয়ে আসে সে। যাত্রাবাড়ী মোড়, আবদুল্লাহপুর ও সাভার ইপিজেড এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিলো তার। “দীর্ঘ সময় ধরে আরিফকে ট্র্যাক করা হয়। নানা পথ ঘুরে সাভারের হেমায়েতপুরে এসে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে”, আলাপ-কে বলেন তিনি।
আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে একটি নাম উঠে আসে—নাজমুল হাসান মামুন, পুলিশের খাতায় যার নাম ‘বোমারু মামুন’।
সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আলাপ-কে বলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে সাভারের ৩টি ঘটনা, মতিঝিল, ফার্মগেইট, মিরপুর ১০, যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদের ঘটনা এবং দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একটি মাদ্রাসার বিস্ফোরণের ঘটনা, সবকিছুর পেছনেই মামুন।
তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন সিটিটিসি’র এই কর্মকর্তা।
২০১৭ সাল থেকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে থাকা মামুন ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে জামিনে বের হয়ে আসেন।
কে এই ‘বোমারু মামুন’?
২০১৭ সালের ৩১এ ডিসেম্বর ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো মামুনকে নব্য জেমবি’র তখনকার এক শীর্ষ নেতা হিসেবে। এরপর মামলা চলেছে। কিন্তু এই বছরের ৫ই জানুয়ারি সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব দেখিয়ে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামুনসহ ১৪ আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশন অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।
মামলাটা ছিল ২০১৭ সালের ১৫ই অগাস্ট পান্থপথের ওলিও হোটেলের ঘটনা নিয়ে, যেখানে সোয়াটের অভিযানের মুখে সাইফুল ইসলাম নামে একজন যুবক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলো। বিস্ফোরণের তীব্রতায় হোটেলের দেয়াল আর রেলিং রাস্তায় ভেঙে পড়ে।
সিটিটিসি বলছে, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মামুন নতুন করে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার কাজে নামেন। দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একটা মাদ্রাসাকে বানান সদর দপ্তর।
বাগেরহাটের ফকিরহাট, যশোরের বাঘারপাড়ার দড়িআগড়া গ্রাম, আর মনিরামপুরের পাড়িয়ালি গ্রামে গড়ে তোলেন অস্ত্র চালানো আর বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
আট মাসে যা ঘটেছে
২৬এ ডিসেম্বর: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিংয়ে উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় রাসায়নিক বিস্ফোরণ।
৫ই জানুয়ারি: নাজমুল হাসান মামুনসহ ১৪ আসামির বেকসুর খালাস।
৩০এ জানুয়ারি: কেরাণীগঞ্জ মাদ্রাসার বিস্ফোরণে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আবদুর রহমান গ্রেপ্তার।
২৫ ফেব্রুয়ারি: মাদ্রাসা পরিচালক আল-আমিন আদালতে হাজির, রিমান্ড মঞ্জুর।
৭ই মার্চ: কুমিল্লার একটি মন্দির ও মসজিদের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ।
মার্চ: সায়েদাবাদের জনপদ মোড়ে বিস্ফোরণ।
২৪এ জুলাই: মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে দূর-নিয়ন্ত্রিত আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়।
৩০এজুলাই: আশুলিয়ায় প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার।
১লা অগাস্ট: মিরপুর ১০ ও ফার্মগেটে বোমাতঙ্ক।
তদন্তে যুক্ত সিটিটিসি’র এক কর্মকর্তা বলছেন, এই ঘটনার সঙ্গেও মামুনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদেও বারবার উঠে এসেছে তার নাম।
কেরাণীগঞ্জ থেকে যে সূত্র ধরে এগোলো তদন্ত
ডিসেম্বরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিংয়ে উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের তদন্তেই বেরিয়ে আসে নব্য জেমবি’র নেটওয়ার্কের সন্ধান। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার চারপাশের দেয়াল আর ছাদের কিছুটা ধসে পড়েছিল। দুই দিনের অভিযানে সেখান থেকে মেলে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিড, ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক, আর কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো ৯টি তাজা ককটেল।
ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন মাদ্রাসার পরিচালক বাগেরহাটের মোল্লারহাটের শেখ আল-আমিন ওরফে রাজিব ইসলাম। এর আগে বিস্ফোরণের সময় গ্রেপ্তার হন তার স্ত্রী আছিয়া, আছিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এবং আসমানী।
এর আগে জানুয়ারির শেষে গ্রেপ্তার হন যশোরের আব্দুর রহমান। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) অভিযান চালায় যশোরের বাঘারপাড়ার দড়িআগড়া গ্রাম রায়হান উদ্দিনের বাড়িতে।
সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে এই অভিযুক্তরা সবাই এক আরেকজনের আত্মীয়।
রায়হান ছিলেন তার ভায়রা ভাই হাফিজ ইব্রাহিমের ট্রাকচালক। আব্দুর রহমানের জামাতা এই হাফিজ ইব্রাহিম। কেরাণীগঞ্জ মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিনও তাদের আত্মীয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রায়হান, হাফিজ ইব্রাহিম, আল-আমিন আর আবদুর রহমান, বাগেরহাটের ফকিরহাটের সাতবাড়িয়া গ্রামে গোপন সভা করতেন। সেখানেই নিতেন অস্ত্র আর বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ।
বরিশাল আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ
বুধবার সাভারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিস্ফোরণে খবর আসে বরিশাল থেকে। সকাল পৌনে ১১টা, আদালতের কার্যক্রম তখনও চলছে, বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরে ঘটে বিস্ফোরণ।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার আলাপ-কে বলেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।”
এই ঘটনার সঙ্গে মামুন বা তার নেটওয়ার্কের কোনো সংযোগ আছে কি না, সেটা এখনও অস্পষ্ট।
‘বোমারু মামুনের’ নব্য জেএমবি’র নেটওয়ার্ক
২০১৭ সালের পান্থপথ হোটেল ওলিও আত্মঘাতী বোমা হামলা মামলার আসামি ‘বোমারু মামুন’, প্রকৃত নাম নাজমুল হাসান মামুন, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে পান জামিন। চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে তাকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। এরপর থেকেই দেশজুড়ে নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঢাকার সাভারে আবারও পাওয়া গেলো বোমা। একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রাম, ভেতরে কাপড়চোপড়, একটা কোরআন শরীফ আর তার মধ্যে লুকানো প্রেসার কুকার বোমা।
বুধবার সকাল ৮টায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় মঙ্গলবার রাতে তিনজন অচেনা ব্যক্তি সেটা রেখে গিয়েছিল। পরে পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
ঠিক আগের দিন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাভারের হেমায়েতপুরে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়ি ঘিরে রাখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। খবর ছিল, ভেতরে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা রয়েছে, সঙ্গে প্রচুর বিস্ফোরক।
এর আগে সিটিটিসির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নব্য জেমবি সদস্য মোহাম্মদ আরিফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম আলাপ-কে বলেন, আরিফের কাঁধে থাকা কালো ব্যাগ থেকে পাঁচটি পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ তিনটি বোমা ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার ভাড়া বাসার ঠিকানা এবং সেখানে আরও কিছু বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য দেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি ও ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট শ্যামপুরে অভিযান চালায়। সেখানে আরও বোমা পাওয়া যায়, যা রাতভর নিষ্ক্রিয় করা হয়।
অভিযানের সাথে যুক্ত একজন কর্মকতা জানান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানিয়েছে নরসিংদী থেকে বোমা তৈরি করে নিয়ে আসে সে। যাত্রাবাড়ী মোড়, আবদুল্লাহপুর ও সাভার ইপিজেড এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিলো তার। “দীর্ঘ সময় ধরে আরিফকে ট্র্যাক করা হয়। নানা পথ ঘুরে সাভারের হেমায়েতপুরে এসে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে”, আলাপ-কে বলেন তিনি।
আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে একটি নাম উঠে আসে—নাজমুল হাসান মামুন, পুলিশের খাতায় যার নাম ‘বোমারু মামুন’।
সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আলাপ-কে বলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে সাভারের ৩টি ঘটনা, মতিঝিল, ফার্মগেইট, মিরপুর ১০, যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদের ঘটনা এবং দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একটি মাদ্রাসার বিস্ফোরণের ঘটনা, সবকিছুর পেছনেই মামুন।
তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন সিটিটিসি’র এই কর্মকর্তা।
২০১৭ সাল থেকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে থাকা মামুন ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে জামিনে বের হয়ে আসেন।
কে এই ‘বোমারু মামুন’?
২০১৭ সালের ৩১এ ডিসেম্বর ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো মামুনকে নব্য জেমবি’র তখনকার এক শীর্ষ নেতা হিসেবে। এরপর মামলা চলেছে। কিন্তু এই বছরের ৫ই জানুয়ারি সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব দেখিয়ে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামুনসহ ১৪ আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশন অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।
মামলাটা ছিল ২০১৭ সালের ১৫ই অগাস্ট পান্থপথের ওলিও হোটেলের ঘটনা নিয়ে, যেখানে সোয়াটের অভিযানের মুখে সাইফুল ইসলাম নামে একজন যুবক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলো। বিস্ফোরণের তীব্রতায় হোটেলের দেয়াল আর রেলিং রাস্তায় ভেঙে পড়ে।
সিটিটিসি বলছে, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মামুন নতুন করে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার কাজে নামেন। দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একটা মাদ্রাসাকে বানান সদর দপ্তর।
বাগেরহাটের ফকিরহাট, যশোরের বাঘারপাড়ার দড়িআগড়া গ্রাম, আর মনিরামপুরের পাড়িয়ালি গ্রামে গড়ে তোলেন অস্ত্র চালানো আর বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
আট মাসে যা ঘটেছে
তদন্তে যুক্ত সিটিটিসি’র এক কর্মকর্তা বলছেন, এই ঘটনার সঙ্গেও মামুনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদেও বারবার উঠে এসেছে তার নাম।
কেরাণীগঞ্জ থেকে যে সূত্র ধরে এগোলো তদন্ত
ডিসেম্বরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিংয়ে উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের তদন্তেই বেরিয়ে আসে নব্য জেমবি’র নেটওয়ার্কের সন্ধান। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার চারপাশের দেয়াল আর ছাদের কিছুটা ধসে পড়েছিল। দুই দিনের অভিযানে সেখান থেকে মেলে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিড, ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক, আর কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো ৯টি তাজা ককটেল।
ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন মাদ্রাসার পরিচালক বাগেরহাটের মোল্লারহাটের শেখ আল-আমিন ওরফে রাজিব ইসলাম। এর আগে বিস্ফোরণের সময় গ্রেপ্তার হন তার স্ত্রী আছিয়া, আছিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এবং আসমানী।
এর আগে জানুয়ারির শেষে গ্রেপ্তার হন যশোরের আব্দুর রহমান। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) অভিযান চালায় যশোরের বাঘারপাড়ার দড়িআগড়া গ্রাম রায়হান উদ্দিনের বাড়িতে।
সেখান থেকে পাওয়া যায় গ্রেনেড, ৪টি পিস্তল, ৩৯ রাউন্ড গুলি, ৭৪টি বোমা, ওয়াকিটকি, সিসি ক্যামেরা।
সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে এই অভিযুক্তরা সবাই এক আরেকজনের আত্মীয়।
রায়হান ছিলেন তার ভায়রা ভাই হাফিজ ইব্রাহিমের ট্রাকচালক। আব্দুর রহমানের জামাতা এই হাফিজ ইব্রাহিম। কেরাণীগঞ্জ মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিনও তাদের আত্মীয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রায়হান, হাফিজ ইব্রাহিম, আল-আমিন আর আবদুর রহমান, বাগেরহাটের ফকিরহাটের সাতবাড়িয়া গ্রামে গোপন সভা করতেন। সেখানেই নিতেন অস্ত্র আর বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ।
বরিশাল আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ
বুধবার সাভারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিস্ফোরণে খবর আসে বরিশাল থেকে। সকাল পৌনে ১১টা, আদালতের কার্যক্রম তখনও চলছে, বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরে ঘটে বিস্ফোরণ।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার আলাপ-কে বলেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।”
এই ঘটনার সঙ্গে মামুন বা তার নেটওয়ার্কের কোনো সংযোগ আছে কি না, সেটা এখনও অস্পষ্ট।