হঠাৎ করেই রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত ৫৩টি অস্থায়ী চেকপোস্ট, পুরো দেশে ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি চৌকি। অগাস্ট মাস ঘিরে বড় কোনো নাশকতার ছক কষা হচ্ছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সতর্কতা জারির পেছনে চার সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
দীপু সারোয়ার
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৭ পিএমআপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে পুলিশের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। ছবি: এআই
নাশকতা ও জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কায় দেশজুড়ে আবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ও তল্লাশিচৌকির সংখ্যা।
গত ১লা আগস্ট রাতে প্রথম দফায় বিশেষ সতর্কতা জারির পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় দফায় জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আলাপ-কে জানান, “বোমা হামলার আশঙ্কার তথ্য পাওয়ার পর, বেতার বার্তার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।”
“রাতের টহল, মোবাইল ডিউটি ও চেকপোষ্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়,” বলেন ওই কর্মকর্তা।
সতর্কতা জারির পর ঢাকাসহ সারাদেশে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। ‘অপরাধী’ গ্রেপ্তারে বাড়ানো হয়েছে অভিযানও। একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের প্রায় ৮০০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের তিনটি আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এমন সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে বাড়ানো হয়েছে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাও।
মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণকে ঘিরে এই কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে পুলিশের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম দফায় সতর্কতা ও নাশকতা
গত ১লা অগাস্ট সতর্কতা জারির পর পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আলাপ-কে বলেছিলেন, “যে কোনো উগ্রপন্থার বিষয়ে সতর্ক আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।”
“এটা বিশেষ কোনো সতর্কতা না। নিয়মিত যেসব বার্তা দেওয়া হয় তারই অংশ এই সতর্কতা,” তখন বলেছিলেন ওই কর্মকর্তা।
তবে ওই সতর্কতা জারির পেছনে বেশ কয়েকটি ঘটনার পরম্পরাও ছিলো।
গত ২৪এ জুলাই ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ‘দূর-নিয়ন্ত্রিত আইইডি’ বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দ্রুত মতিঝিলে পৌঁছে ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা সেসময় জানিয়েছিলেন।
এরপর সাভারের আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় এক মুদি দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘসময় ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগটি খুলে ভেতরে প্রেশার কুকার আকৃতির বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
গত ১লা অগাস্ট দুপুরে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেইটে সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে প্রায় দেড় ঘণ্টা থামেনি কোনো ট্রেন।
এই চার ঘটনার সাথে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সম্প্রতি চালানো অভিযানে অস্ত্র, বিস্ফোরক, ককটেল, পেট্রোল বোমা উদ্ধারের ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
দেশজুড়ে গত সপ্তাহে সতর্কতা জারির নেপথ্যে ওইসব ঘটনা বড় কারণ ছিলো বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করছেন। তবে এবারের সতর্কতা জারির পেছনে সুর্নিদিষ্টভাবে ‘বোমা হামলার’ আশঙ্কার কথা বলছে পুলিশ।
সারাদেশে এবার সতর্কতা জারির পেছনে মূলত চারটি কারণের কথা জানাচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে:
১. ১৫ই অগাস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল বাড়বে। এসব মিছিল থেকে যানবাহন ও প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ হতে পারে।
২. নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনটির জন্য অগাষ্ট মাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০০৫ সালের ১৭ই অগাষ্ট ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০ বোমা ফাটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলো জেএমবি।
৩. নিষিদ্ধঘোষিত আনসার আল ইসলামসহ উগ্রপন্থি গ্রুপগুলোর তৎপরতা বাড়তে পারে।
৪. বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে পারে। এর সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করতে পারে কোনো কোনো গোষ্ঠী।
সতর্কতা জারির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেছেন, “আমরা সতর্ক আছি।”
মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। অগাষ্ট মাস ঘিরে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এমন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আলামিন সরকার বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের সবাই কাজ করছে। শুক্রবার রাত থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল-চেকপোস্টসহ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।”
“সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি একইসঙ্গে উত্তরার মেট্রোরেল স্টেশন ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ইসিবি চত্বর, বিজয় সরণি, গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ ঢাকায় বসানো হয়েছে ৬৪টি চেকপোস্ট। স্বাভাবিক অবস্থায় ঢাকায় থাকে ১১টি স্থায়ী চেকপোস্ট। নিরাপত্তার প্রয়োজনে ৫৩টি অস্থায়ী চেকপোস্ট যুক্ত করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা আলাপ-কে বলেন, “টহল, চেকপোস্ট ও তল্লাশি জোরদারের পাশাপাশি ‘অপরাধী’ গ্রেপ্তার অভিযানও বাড়ানো হয়েছে। ১লা থেকে ৮ই অগাষ্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ হাজার ৫২২ জন ব্যক্তি।”
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকায় বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম এলাকায় মশাল মিছিল করার সময় পুলিশের অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় 'গোপন বৈঠক' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মীকে। এছাড়া মিরপুর ও উত্তরায় আওয়ামী লীগের তৎপরতার বিষয়ে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরে এক কর্মকর্তা জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বেড়েছে। এসব এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘হামলা’র আশঙ্কায় দেশজুড়ে সতর্কতা
হঠাৎ করেই রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত ৫৩টি অস্থায়ী চেকপোস্ট, পুরো দেশে ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি চৌকি। অগাস্ট মাস ঘিরে বড় কোনো নাশকতার ছক কষা হচ্ছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সতর্কতা জারির পেছনে চার সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
নাশকতা ও জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কায় দেশজুড়ে আবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ও তল্লাশিচৌকির সংখ্যা।
গত ১লা আগস্ট রাতে প্রথম দফায় বিশেষ সতর্কতা জারির পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় দফায় জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আলাপ-কে জানান, “বোমা হামলার আশঙ্কার তথ্য পাওয়ার পর, বেতার বার্তার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।”
“রাতের টহল, মোবাইল ডিউটি ও চেকপোষ্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়,” বলেন ওই কর্মকর্তা।
সতর্কতা জারির পর ঢাকাসহ সারাদেশে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। ‘অপরাধী’ গ্রেপ্তারে বাড়ানো হয়েছে অভিযানও। একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের প্রায় ৮০০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের তিনটি আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এমন সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে বাড়ানো হয়েছে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাও।
মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণকে ঘিরে এই কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে পুলিশের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম দফায় সতর্কতা ও নাশকতা
গত ১লা অগাস্ট সতর্কতা জারির পর পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আলাপ-কে বলেছিলেন, “যে কোনো উগ্রপন্থার বিষয়ে সতর্ক আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।”
“এটা বিশেষ কোনো সতর্কতা না। নিয়মিত যেসব বার্তা দেওয়া হয় তারই অংশ এই সতর্কতা,” তখন বলেছিলেন ওই কর্মকর্তা।
তবে ওই সতর্কতা জারির পেছনে বেশ কয়েকটি ঘটনার পরম্পরাও ছিলো।
গত ২৪এ জুলাই ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ‘দূর-নিয়ন্ত্রিত আইইডি’ বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দ্রুত মতিঝিলে পৌঁছে ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা সেসময় জানিয়েছিলেন।
এরপর সাভারের আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় এক মুদি দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘসময় ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগটি খুলে ভেতরে প্রেশার কুকার আকৃতির বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
গত ১লা অগাস্ট দুপুরে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেইটে সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে প্রায় দেড় ঘণ্টা থামেনি কোনো ট্রেন।
এই চার ঘটনার সাথে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সম্প্রতি চালানো অভিযানে অস্ত্র, বিস্ফোরক, ককটেল, পেট্রোল বোমা উদ্ধারের ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
দেশজুড়ে গত সপ্তাহে সতর্কতা জারির নেপথ্যে ওইসব ঘটনা বড় কারণ ছিলো বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করছেন। তবে এবারের সতর্কতা জারির পেছনে সুর্নিদিষ্টভাবে ‘বোমা হামলার’ আশঙ্কার কথা বলছে পুলিশ।
যে চার কারণে নিরাপত্তা সতর্কতা
সারাদেশে এবার সতর্কতা জারির পেছনে মূলত চারটি কারণের কথা জানাচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে:
১. ১৫ই অগাস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল বাড়বে। এসব মিছিল থেকে যানবাহন ও প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ হতে পারে।
২. নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনটির জন্য অগাষ্ট মাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০০৫ সালের ১৭ই অগাষ্ট ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০ বোমা ফাটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলো জেএমবি।
৩. নিষিদ্ধঘোষিত আনসার আল ইসলামসহ উগ্রপন্থি গ্রুপগুলোর তৎপরতা বাড়তে পারে।
৪. বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে পারে। এর সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করতে পারে কোনো কোনো গোষ্ঠী।
সতর্কতা জারির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেছেন, “আমরা সতর্ক আছি।”
মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। অগাষ্ট মাস ঘিরে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এমন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আলামিন সরকার বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের সবাই কাজ করছে। শুক্রবার রাত থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল-চেকপোস্টসহ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।”
“সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি একইসঙ্গে উত্তরার মেট্রোরেল স্টেশন ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
ঢাকায় চেকপোস্ট ও গ্রেপ্তার বেড়েছে
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ইসিবি চত্বর, বিজয় সরণি, গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ ঢাকায় বসানো হয়েছে ৬৪টি চেকপোস্ট। স্বাভাবিক অবস্থায় ঢাকায় থাকে ১১টি স্থায়ী চেকপোস্ট। নিরাপত্তার প্রয়োজনে ৫৩টি অস্থায়ী চেকপোস্ট যুক্ত করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা আলাপ-কে বলেন, “টহল, চেকপোস্ট ও তল্লাশি জোরদারের পাশাপাশি ‘অপরাধী’ গ্রেপ্তার অভিযানও বাড়ানো হয়েছে। ১লা থেকে ৮ই অগাষ্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ হাজার ৫২২ জন ব্যক্তি।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- ১লা অগাস্ট ৪৩১ জন, ২রা অগাস্ট ৪৩১ জন, ৩রা অগাস্ট ৪১৯ জন, ৪ঠা অগাস্ট ৪৫৮ জন, ৫ই অগাস্ট ৪১৮ জন, ৬ই অগাস্ট ৪৬৬ জন, ৭ই অগাস্ট ৪১৪ জন এবং ৮ই অগাস্ট ৪৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আওয়ামী লীগের মিছিল ও গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকায় বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম এলাকায় মশাল মিছিল করার সময় পুলিশের অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় 'গোপন বৈঠক' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ৬ নেতা-কর্মীকে। এছাড়া মিরপুর ও উত্তরায় আওয়ামী লীগের তৎপরতার বিষয়ে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরে এক কর্মকর্তা জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বেড়েছে। এসব এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়: