চব্বিশে জেল পালানো ডজন ডজন ফাঁসির আসামির কতজনকে ফেরানো গেলো

শুধু কাশিমপুর থেকেই পালিয়ে যান ২০১ জন বন্দি। তাদের ৮৮ জনই ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গোপালগঞ্জের আব্দুল্লাহ শিকদার ছিলেন এমন একজন বন্দি যাকে রাষ্ট্র সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রেখেছিলো।

সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীকে হাতুড়িপেটা ও পরে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আব্দুল্লাহ এবং তার তিন সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে তাকে রাখা হয় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে, যেখানে সাধারণত রাখা হয় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের।

কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, তার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল একমাত্র আদালতের নির্দেশে অথবা আইনগত প্রক্রিয়া শেষে।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট ঘটনাপ্রবাহ অন্য দিকে মোড় নেয়।

সেদিন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বিদ্রোহ শুরু হয়। কিছু বন্দিরা মিলে কারাগারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় কারা কর্তৃপক্ষকে। 

একপর্যায়ে কয়েকজন কারারক্ষীকে জিম্মি করা হয়। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পালিয়ে যান আব্দুল্লাহ শিকদার।

কয়েক মাস আগেও যিনি দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত কারাগারে বন্দি ছিলেন, মুহূর্তের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের সবচেয়ে বেশি খোঁজা পলাতক আসামিদের একজন।

আব্দুল্লাহ শিকদারের এই পালিয়ে যাওয়া ছিল নিঃসন্দেহে আলোচিত একটি ঘটনা। কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, এটি ছিল আরও বড় এক নিরাপত্তা বিপর্যয়ের ক্ষুদ্র অংশমাত্র।

কারণ সেদিন কাশিমপুর থেকে শুধু আব্দুল্লাহ নন, পালিয়ে যান আরও ২০২ জন বন্দি। তাদের মধ্যে ৮৮ জনই ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

কাশিমপুরের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিলো না। বরং জুলাই-অগাস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিদ্রোহের একটি অংশ।

আর সেই ঘটনাগুলোর পর শেষ হিসাব বলছে, দেশের ১৭টি কারাগার থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন ২ হাজার ২৩২ বন্দি।

অনেককে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণও করেছেন। তবে, দুই বছর পরও ৭০০ জনের বেশি বন্দি এখনো পলাতক।

তাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ৫২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এই ৫২ জনের সবাই কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

বরং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় জুলাই-অগাস্টের অস্থির সেই দিনগুলোতে, যখন দেশের কারাগারগুলো একের পর এক ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল।

শুরুটা ১৯এ জুলাই, নরসিংদী জেলা কারাগারে।

সেদিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল চরম অস্থির। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন ও সংঘর্ষ চলছিল। সেই অস্থিরতার মধ্যেই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলার মুখে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে।

অল্প সময়ের মধ্যেই কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারায় কর্তৃপক্ষ। সুযোগ পেয়ে পালিয়ে যান ৮২৬ বন্দি। তাদের মধ্যে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, জঙ্গি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বন্দিরাও।

তবে শুধু বন্দিদের পালিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় ক্ষতি ছিলো না। লুট হয় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৮ হাজার ১৫ রাউন্ড গুলি। পরে ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ২৭টি অস্ত্র এবং ৬ হাজার ৩৫২ রাউন্ড গুলি।

হামলার সময় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় প্রায় ২৯ হাজার মামলার নথিপত্রও।

কারা কর্মকর্তাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি কারাগারে হামলা ছিলো না, বরং এমন একটি ঘটনা, যার প্রভাব দেশের অন্য কারাগারগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরও পড়েছিলো।

এর কয়েক সপ্তাহ পর, ৬ই অগাস্ট, সেই চাপ গিয়ে পৌঁছায় কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৭২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আবার কারা হেফাজতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন আলাপ-কে বলেন,“ঘটনা পরবর্তী এক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় নরসিংদী কারাগার আক্রান্ত হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে যাদেরকে এই কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো তারাই মূলত এই ঘটনা শুরু করে।”

তিনি জানান, কারাগারে ফিরে আসা পলাতক বন্দিদের এখন আগের চেয়ে আরও কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। “এখনো কাশিমপুর কারাগারের ৪৩ জন ফাঁসির আসামি পলাতক আছে। তবে যেসব পলাতক আসামি পরবর্তী সময়ে কারা কর্তৃপক্ষ বুঝে পেয়েছে, তাদের আরো বেশি কঠোর নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছে।”

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এসব বন্দিকে 'ঝুঁকিপূর্ণ বন্দি' হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

কিন্তু তদন্ত এখানেই শেষ হয় না। কারণ কাশিমপুর এবং নরসিংদী মিলিয়েই পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না।

জুলাই-অগাস্টের সেই অস্থির সময়ে দেশের আরও কয়েকটি কারাগার থেকেও বন্দিরা পালিয়ে যান। সবগুলো ঘটনার হিসাব একসঙ্গে করলে সামনে আসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কারাগার নিরাপত্তা বিপর্যয়ের চিত্র।

যখন ভেঙে পড়েছিলো পুরো কারা ব্যবস্থার নিরাপত্তা

কাশিমপুর বা নরসিংদী, কোনোটিই শেষ পর্যন্ত আলাদা কোনো ঘটনা হয়ে থাকেনি।

তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং কারা অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, জুলাই-অগাস্টের সেই অস্থির সময়ে দেশের অন্তত ১৭টি কারাগারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। কোথাও বাইরের হামলায় নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে, কোথাও আবার ভেতরের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই ধারাবাহিক ঘটনার সুযোগে কারাগার থেকে পালিয়ে যাইয় দুই হাজারের বেশি বন্দি।

সংখ্যাটা বিস্ময়কর। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই বন্দিদের পরিচয়।

তাদের মধ্যে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বন্দিরা। অর্থাৎ, যাদের সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়, তাদের একটি অংশই কারাগারের বাইরে চলে যায়।

অবশ্য পরে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করে। অনেক পলাতক বন্দিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু তাতেও পুরো সংকটের অবসান হয়নি। কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৭০০ জনের বেশি বন্দি পলাতক।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটি অন্যখানে।

একাধিক কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৯৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাকি ৫২ জন এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সংখ্যার হিসাবে এটি হয়তো ৫২ জন মানুষ।

কিন্তু নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে এটি ৫২টি আলাদা ঝুঁকি। কারণ, এদের প্রত্যেকেই এমন মামলায় দণ্ডিত, যেখানে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন।

এদের মধ্যে কেউ হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি, কেউ সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত, আবার কারও বিরুদ্ধে রয়েছে জঙ্গিবাদের অভিযোগ।

ফলে দুই বছর পরও এই ব্যক্তিদের পলাতক থাকা শুধু কারা কর্তৃপক্ষের জন্য নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও কেন তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি?

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, পলাতকদের অনেকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন, নিয়মিত অবস্থান বদলাচ্ছেন এবং আত্মগোপনে থাকতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। তাই তাদের খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

তবে সাবেক ও বর্তমান কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, কারাগার থেকে একবার পালিয়ে যাওয়ার পর সময় যত গড়ায়, একজন পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করা ততই কঠিন হয়ে পড়ে।

আর সেই কারণেই, জুলাই-অগাস্টের সেই কারাগার হামলার ঘটনাগুলো শুধু অতীতের কোনো নিরাপত্তা ব্যর্থতা নয়; তার প্রভাব এখনো বহন করছে রাষ্ট্র।

রাষ্ট্রের সামনে এখনো যে প্রশ্ন

কাশিমপুর কিংবা নরসিংদীর ঘটনার পর দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের।

নরসিংদী জেলা কারাগারের জেল সুপার তারেক কামাল আলাপ-কে বলেন, “২০২৪ সালের ১৯এ জুলাই কারাগারে হামলার পর এখন নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে কারাগারের দক্ষিণ পাশের গেট। বাড়ানো হয়েছে জনবল। সিসিটিভি মনিটরিংয়ের পাশাপাশি বন্দিদের সাক্ষাৎ প্রার্থীদের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারেও পলাতক বন্দিদের ফিরে আসার পর তাদের ওপর আরও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা।

তবে নিরাপত্তা জোরদারের এই দাবি এই বাস্তবতাকে বদলে দেয় না যে দুই বছর পরও অর্ধশত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক।

আর এই বাস্তবতা স্বীকার করেছন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনও।

“জুলাই-অগাস্টে ১৭টি কারাগারে যেসব অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।

তার ভাষ্য, ঘটনাগুলো পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। তবে নরসিংদী কারাগারে হামলার আগে থেকেই পরিস্থিতির অবনতির তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, “নরসিংদী জেলা কারাগারে প্রথম আক্রমণ এবং পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার তথ্য বিভিন্ন সোর্সে কারাগারে পৌঁছাচ্ছিল। আর সেই সুযোগ তাৎক্ষণিক কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র লুট সর্বোপরি আসামিদের পালানোর মতো ঘটনা ঘটেছিলো।”

শীর্ষ এই কারা কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

“রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে র‌্যাব-৪ যে ফাঁসির আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল তা কারা কর্তৃপক্ষ বুঝে পেয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা বা বাহিনীগুলোর তথ্য অনুযায়ী পলাতক সব আসামিরা তাদের নাম পরিচয় গোপন করে নানান কৌশল অবলম্বন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।”

তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল আলাপ-কে বলেন, “ফাঁসির দণ্ড পাওয়াসহ পলাতক জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ অন্যসব বন্দীরা পলাতক থাকায় সাধারণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।”

তিনি মনে করেন, পলাতকদের একটি অংশ আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন ঘটনায় ধারণা পাওয়া যায়।

তার ভাষায়,“পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা না করা গেলে সামনে কোনো আন্দোলনে আবারও দেশের কারাগারগুলোতে হামলা ও বন্দি পালানোর ঘটনাট ঘটনার শঙ্কা থেকে যাবে।”

দুই বছর আগে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের ভেতর থেকে পালিয়ে যাওয়া আব্দুল্লাহ শিকদারকে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু তার গল্পেই এই অনুসন্ধানের শেষ নয়।

কারণ, আব্দুল্লাহর মতো আরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো দেশের কোথাও না কোথাও আত্মগোপনে আছেন।

তাদের কেউ ভুয়া পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন, কেউ নিয়মিত অবস্থান বদলাচ্ছেন, আবার কেউ হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে বহু দূরে সরে গেছেন।

জুলাই-অগাস্টের সেই অস্থির দিনে ভেঙে পড়েছিল শুধু কয়েকটি কারাগারের দেয়াল নয়। পরীক্ষার মুখে পড়েছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরীক্ষার ফল এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। কারণ, দেশের কোথাও না কোথাও এখনো মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা।