সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর 'অপহরণে জড়িত' পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালের ৫ই নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধারের দাবি করলেও, তার পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ ছিলো আদালত চত্বর থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২১এ অগাস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে হাজির হয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরবর্তীতে সাঈদীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে বলপ্রয়োগপূর্বক গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিলো। 

সুখরঞ্জন বালীর অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১০ সালের জুলাই-অগাস্টের দিকে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন পিরোজপুরের পাড়েরহাটের রাজলক্ষ্মী স্কুলে তাকে ডেকে পাঠান। সেখানে ১৯৭১ সালে তার ভাই বিশা বালী হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুখরঞ্জন জানান, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তার ভাইকে হত্যা করেছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাকে জোরপূর্বক সাঈদীর নাম জড়ানোর জন্য চাপ দেন এবং আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বলেন। এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

এর কিছুদিন পর, সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী সুখরঞ্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য আদালতে তুলে ধরার অনুরোধ জানালে সুখরঞ্জন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।

এই ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ৩২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন সুখরঞ্জন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। 

অভিযুক্তদের তালিকায় অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক বিচারক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম আউয়াল।