কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচনায় বেশ কয়েকটি নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে আছেন খামেইনির ছেলে মোজতবা খামেইনি ও ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের  প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেইনিও। এই দুই পারিবারের বাইরেও একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম সম্ভাব্য তালিকায় আছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

৩৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি। রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যত নিয়ে। কে বা কারা এখন চালাচ্ছেন ইরান? এবং কে হবেন দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচনায় বেশ কয়েকটি নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে আছেন খামেইনির ছেলে মোজতবা খামেইনি ও ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের  প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেইনিও। এই দুই পারিবারের বাইরেও একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম সম্ভাব্য তালিকায় আছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। 

ইরানের সংবিধানের নীতিমালা অনুযায়ী, রবিবার একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে দেশটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে আছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগের প্রধান ঘোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই। সঙ্গে একজন সদস্য আছেন ইরানের ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ থেকে। 

মোজতবা খামেইনি

পারিবারিক সূত্রে সর্বোচ্চ নেতার পদ দেওয়া হলে সম্ভাবনায় থাকবেন খামেইনির ৫৬ বছর বয়সী ছেলে, মোজতবা, যিনি একজন শিয়া ধর্মযাজক। তবে পারিবারিক সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরুদ্ধে থাকতে পারেন খামেইনির সমর্থকরাও, কেননা ইরানে অনেকে এটিকে ইসলাম পরিপন্থী হিসেবে দেখেন। 

এ ছাড়া, মোজতবা উচ্চপদের ধর্মযাজক নন এবং ইরানের রাষ্ট্রযন্ত্রে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই।

আলিরেজা আরাফি

সর্বোচ্চ নেতার পদের জন্য আরেকজন সম্ভাব্য ব্যক্তি মনে করা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সাবেক সদস্য আলিরেজা আরাফিকে, যিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ধর্মযাজক। বিশ্লেষকদের মতে, আরাফির আমলাতান্ত্রিক দক্ষতায় ব্যাপক আস্থা ছিল খামেইনির।

মেহদি মিরবাঘেরি

আলোচনায় আরেকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি ইরানের ইসলামিক সায়েন্সেজ একাডেমির প্রধান মোহাম্মাদ মেহদি মিরবাঘেরি।   বিশেষজ্ঞ পরিষদের সবচেয়ে রক্ষণশীল এবং পশ্চিম-বিরোধী সদস্যদের একজন মেহদি সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। 

হাসান খোমেইনি

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লা রুহুল্লাহ খোমেইনির নাতি হাসান খোমেইনিকেও সম্ভাব্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ভাবা হচ্ছে।  

তবে তার রাজনৈতিক প্রভাব কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা, এবং কম রক্ষণশীল হওয়ায় ২০১৬ সালের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।   

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ বদল হয়েছে শুধু একবার, ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পদটি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু, এবং রাষ্ট্রের যেকোনো বিষয়ে তার কথাই শেষ সিদ্ধান্ত। সর্বোচ্চ নেতা দেশের সামরিক বাহিনী এবং রেভোল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও কাজ করেন।

কীভাবে নির্বাচিত হন সর্বোচ্চ নেতা

সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাধিক স্তর কাজ করে থাকে। ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। 

১২-সদস্য বিশিষ্ট গার্ডিয়ান কাউন্সিলের কাজ মূলত ইরানের রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের সংবিধান ও শরিয়া আইনের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা।

পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা মনোনিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগের প্রধান সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন। 

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ বা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ নামক ৮৮-সদস্য বিশিষ্ট প্যানেল। 

তাদের বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে গার্ডিয়ান কাউন্সিল 

‘বিশেষজ্ঞ পরিষদমূলত শিয়া ধর্মযাজকদের দ্বারা গঠিত। এই যাজকদের আট বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে মনোনীত করা হয়। নির্বাচনে তাদের প্রার্থিতা অনুমোদন কিংবা খারিজ করার দায়িত্বে থাকে গার্ডিয়ান কাউন্সিল।

সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হয় অত্যন্ত গোপনে, যে কারণে কোন ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ পদের জন্য পরিষদের সদস্যদের বিবেচনায় থাকতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন।  

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সর্বোচ্চ নেতা বাছাই করতে হবে সংবিধানে উল্লিখিত নিয়ম মেনে। নেতাকে হতে হবে রাজনৈতিক দক্ষতা সম্পন্ন পুরুষ ধর্মযাজক যিনি ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ২০২৪ সালের মে মাসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকেই মনে করা হতো খামেইনির উত্তরসূরি।

(এপি ও সিএনএন অবলম্বনে)