বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএমআপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
বুধবার রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া এক মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।
৩২ বছর বয়সী মঞ্জুর আলম লস্করকে প্রথমে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পরে কোমারোলু এলাকায় কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঞ্জুরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তিনি প্রায় গত ১০ বছর ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় জরির কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকলেও, তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হয় এবং ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হতো।
পরিবারের দাবি, মঞ্জুরকে জিম্মি করা হয়েছিল এবং অপহরণকারীরা ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ চেয়েছিল।
মঞ্জুরকে ছাড়াতে মুক্তিপণ দাবি করে গত মঙ্গলবার তার স্ত্রীর কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। মঞ্জুরকে বাঁচাতে কোনোভাবে ৬ হাজার রুপি জোগাড় করে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে পাঠিয়ে দেয়। বুধবার রাতে মঞ্জুরের পরিবার জানতে পারে যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের বড় ভাই, গিয়াসুদ্দিন লস্কর একজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল এবং হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তরাই এটি ঘটিয়েছে।
গিয়াসুদ্দিন বলেন, “এটা পরিষ্কার যে মুক্তিপণ চেয়ে যে কল করেছিল, সে এবং অন্যরা মিলে আমার ভাইকে হত্যা করেছে।”
পরিবারের সদস্যরা পরে জানতে পারেন যে, মঞ্জুরকে প্রথমে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হয় এবং পরে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
পরিবারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেন অবিলম্বে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত নিশ্চিত করে। অন্ধ্রপ্রদেশে এখন টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় আছে।
মঞ্জুরের পরিবার ইতিমধ্যে কোমারোলু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের ফোন এসেছিল সেটি পুলিশকে জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গের অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর একের পর এক সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
উস্থির তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনাকে একটি বিশেষ ছক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, বিজেপি ও তাদের সহযোগী দলশাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী সংখ্যালঘুদের অবাধ চলাচল রুখে দিতে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই এই কাজ করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, “নরেন্দ্র মোদির সরকার বাংলার অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের টনক নড়তে বাংলার আর কত মায়ের কোল খালি হতে হবে? এই ধরনের উদাসীনতা ক্ষমার অযোগ্য।”
মৃতদেহ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের রেললাইনের পাশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুরের এক অভিবাসী শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২৯ বছর বয়সী আলমগীর মন্ডল চেন্নাই থেকে হায়দ্রাবাদে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর আট দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে।
আলমগীরের ভাই আবু সামা বলেছেন, “আলমগীর হায়দ্রাবাদগামী এক ট্রেনে উঠেছিল এবং ফোনে তার স্ত্রী হাবানুর বিবির সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু এরপর আট দিন তার আর কোনো খোঁজ ছিল না।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, আলমগীর চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন।
বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাঙালি শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
বুধবার রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া এক মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।
৩২ বছর বয়সী মঞ্জুর আলম লস্করকে প্রথমে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পরে কোমারোলু এলাকায় কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঞ্জুরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তিনি প্রায় গত ১০ বছর ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় জরির কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকলেও, তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হয় এবং ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হতো।
পরিবারের দাবি, মঞ্জুরকে জিম্মি করা হয়েছিল এবং অপহরণকারীরা ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ চেয়েছিল।
মঞ্জুরকে ছাড়াতে মুক্তিপণ দাবি করে গত মঙ্গলবার তার স্ত্রীর কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। মঞ্জুরকে বাঁচাতে কোনোভাবে ৬ হাজার রুপি জোগাড় করে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে পাঠিয়ে দেয়। বুধবার রাতে মঞ্জুরের পরিবার জানতে পারে যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের বড় ভাই, গিয়াসুদ্দিন লস্কর একজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল এবং হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তরাই এটি ঘটিয়েছে।
গিয়াসুদ্দিন বলেন, “এটা পরিষ্কার যে মুক্তিপণ চেয়ে যে কল করেছিল, সে এবং অন্যরা মিলে আমার ভাইকে হত্যা করেছে।”
পরিবারের সদস্যরা পরে জানতে পারেন যে, মঞ্জুরকে প্রথমে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হয় এবং পরে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
পরিবারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেন অবিলম্বে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত নিশ্চিত করে। অন্ধ্রপ্রদেশে এখন টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় আছে।
মঞ্জুরের পরিবার ইতিমধ্যে কোমারোলু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের ফোন এসেছিল সেটি পুলিশকে জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গের অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর একের পর এক সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
উস্থির তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনাকে একটি বিশেষ ছক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, বিজেপি ও তাদের সহযোগী দলশাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী সংখ্যালঘুদের অবাধ চলাচল রুখে দিতে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই এই কাজ করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, “নরেন্দ্র মোদির সরকার বাংলার অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের টনক নড়তে বাংলার আর কত মায়ের কোল খালি হতে হবে? এই ধরনের উদাসীনতা ক্ষমার অযোগ্য।”
মৃতদেহ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের রেললাইনের পাশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুরের এক অভিবাসী শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২৯ বছর বয়সী আলমগীর মন্ডল চেন্নাই থেকে হায়দ্রাবাদে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর আট দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে।
আলমগীরের ভাই আবু সামা বলেছেন, “আলমগীর হায়দ্রাবাদগামী এক ট্রেনে উঠেছিল এবং ফোনে তার স্ত্রী হাবানুর বিবির সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু এরপর আট দিন তার আর কোনো খোঁজ ছিল না।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, আলমগীর চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন।
(দ্য টেলিগ্রাফ অবলম্বনে)