গাজা সংকট: যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ টোনি ব্লেয়ার ও মার্কো রুবিও

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

হামাস-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা সমস্যা সমাধানে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছে হোয়াইট হাউস। 

বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টোনি ব্লেয়ার এবং মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও-এর নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস।

দুই মেয়াদে দশ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা ব্লেয়ারের নেতৃত্বেই যুক্তরাজ্য ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।  

দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন।  

তবে ব্লেয়ার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে গাজা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার অংশ ছিলেন। গত বছর অগাস্টে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে এই বিষয়ে এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ব্লেয়ার।

‘গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার অভিযোগে ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন-ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। পরে অবশ্য সে ধরণের কোন অস্ত্র পাওয়া না যাওয়ায় বিতর্কে মুখে পড়ে যান ব্লেয়ার।

আর তাই গাজা শান্তি আলোচনায় ব্লেয়ারকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত “প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে” বলে গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উয়েস স্ট্রিটিং।

বিবিসি’কে দেওয়া সে সময়ে এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য স্ট্রিটিং ১৯৯৮ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংঘাত বন্ধে শান্তি চুক্তিতে ব্লেয়ারের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,“তিনি যদি তার সেই দক্ষতাকে এবার কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে।” 

বোর্ড অব পিস-এ ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ‘প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডে’-এর সদস্য হিসেবে থাকছেন বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। 

বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন ট্রাম্প। “এটি যে কোনো সময়ের তুলনায় গঠিত হওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানজনক বোর্ড,” রবিবার বোর্ডের ঘোষণা আসার পর বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বোর্ড অব পিসের মূল কাজ হবে সাময়িকভাবে গাজার পরিচালনা ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া তদারকি ও ব্যবস্থাপনা করা। 

এই কমিটির ঘোষণার আসার আগে প্যালেস্টিনিয়ান নাগরিকদের নিয়ে একটি ১৫ সদস্যের ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা’ (এনসিএজি) গঠন করা হয়েছে, যার কাজ হবে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন চালানো। 

এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি'র (পিএ) সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আলি সাদ।প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরের মুক্ত অঞ্চলে প্রশাসন পরিচালনা করে পিএ।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলকরণ বাহিনী’ মোতায়েন করা হবে গাজায়, যার মূল দায়িত্ব হবে প্যালেস্টাইনের পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া, সীমান্তে নিরাপত্তা দেয়া এবং গাজার বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা। এর নেতৃত্ব রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল । 

গেল অক্টোবরে শুরু হওয়া  ট্রাম্পের ২০-দফা ‘গাজা পিস প্ল্যান’ এখন তার দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে। 

প্রথম পর্যায়ে, হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে যেতে এবং বন্দী বিনিময় করতে একমত হয়, যদিও ইসরায়েল পরে কিছুটা পিছু হটে। সেসময় ত্রানসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তাও পাওয়া শুরু করেছিল গাজাবাসী। 

দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজার পুনর্গঠন ও বেসামরিকীকরণ করা হবে, পাশাপাশি হামাস ও প্যালেস্টাইনের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করা হবে, বলে এ সপ্তাহের শুরুর দিকে জানিয়েছেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত উইটকফ। 

“যুক্তরাষ্ট্র আশা করে হামাস সব বাধ্যবাধকতা মেনে চলবে। তা করতে ব্যর্থ হলে চরম পরিণতি ভুগতে হবে,” সতর্ক করে তখন বলেছিলেন ট্রাম্পের এই দূত।

ইসরায়েল ও হামাস দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। হামাসের দাবি, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ৪৫০ জন নিহত হয়েছে। 

অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে প্যালেস্টাইনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলায় একই সময়ে তাদের সামরিক বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজাবাসীদের অবস্থা এখনও ভয়াবহ এবং সেখানে প্রয়োজনীয়  ত্রানসামগ্রীর অবাধ সরবরাহ প্রয়োজন। 

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলায় এক হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিকের মৃত্যুর পর গাজার যুদ্ধ শুরু হয়। সেসময় ২৫১ জন ইসরায়েলি নাগরিককেও জিম্মি করা হয়।

হামাসের তথ্যমতে, এই দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় গাজাতে ৭১ হাজার ২৬০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।  

[বিবিসি’র প্রতিবেদন অবলম্বনে]