এখনো জানা যায়নি স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম

স্পেনে মুখোমুখি ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোন কারণ জানা যায়নি। তবে আলামত সংগ্রহে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে তদন্তদল। 

১৮ই জানুয়ারি রাতে দক্ষিণ স্পেনে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত এবং অন্তত ২৪ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে "দেশের জন্য গভীর বেদনার রাত" বলে অভিহিত করেছেন।

স্পেনের রেল অবকাঠামো কর্তৃপক্ষ আদিফ, এক্স পোস্টে জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে  কর্ডোবা প্রদেশের আদমুজ পৌরসভার কাছে মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগতির ইরিও ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি অন্য ট্র্যাকে উঠে সামনের দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনকে ধাক্কা দেয়।

মাদ্রিদভিত্তিক সাংবাদিক গ্রাহাম কিলি বলেছেন, “ সংঘর্ষে আহত ১৫০ জনেরও বেশি লোকের মধ্যে ২৪ জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন বলে জানা গেছে।”

কিলি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরিস্থিতি এবং কারণ এখনও স্পষ্ট নয়,  তবে ধারণা করা হচ্ছে যে সম্ভবত মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী প্রথম ট্রেন ট্র্যাক থেকে ছিটকে যায়। তারপর সেই ট্রেনের কিছু ধ্বংসাবশেষ আলগা হয়ে দ্বিতীয় ট্রেনে আঘাত করে।"

"সুতরাং, এটি হয়তো মুখোমুখি সংঘর্ষ ছিল না," আল জাজিরাকে বলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেল অপারেটর রেনফের সভাপতি আলভারো ফার্নান্দেজ হেরেদিয়া জানিয়েছেন দুর্ঘটনাটি ’অদ্ভুত পরিস্থিতিতে’ ঘটেছে। তবে এতো জলদি এর কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে না।

স্পেনের অত্যাধুনিক রেলসেবা

স্পেনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেল অবকাঠামো প্রশাসক আদিফের তথ্যমতে, দেশটির উচ্চগতির রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ইউরোপের বৃহত্তম এবং চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।

স্বল্প খরচে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উচ্চগতির এই রেল সেবা চালু করা হয় ২০২০ সালে। রেনফে'স অ্যাভিনিউ ট্রেনের অধীনে একে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। 

রেনফের এক বিবৃতি অনুসারে, সংঘর্ষ হওয়া ইরিও এবং আলভিয়া পরিচালিত দুটি ট্রেনে প্রায় ৪০০ জন যাত্রী ছিলেন।

ইরিও হচ্ছে ইতালীয় রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে অপারেটর ফেরোভি ডেলো স্ট্যাটো, বিমান সংস্থা ‍এয়ার নস্ট্রাম এবং স্প্যানিশ অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল গ্লোবালভিয়ার একটি যৌথ উদ্যোগ। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরে কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে মাদ্রিদ-বার্সেলোনা রুট থাকলেও পরে অন্যান্য প্রধান শহরগুলিতে প্রসারিত হয়।

দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা অবলম্বনে