দশ বছর আগে হিমালয় কাঁপিয়ে দিয়েছিল এক প্রলয়ংকর ভূমিকম্প; মৃত্যু-ধ্বংস আর শোকের যে রেখাপাত ঘটেছিল, তা আজও দগ্ধ করে নেপালের জনগণকে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সেই গভীর ক্ষতের মধ্যেই নেপাল বারবার কাঁপছে রাজনৈতিক ভূমিকম্পে।
রাজতন্ত্রের পতনের দুই দশক পরও নেপালের স্থিতিশীলতা এখনো স্বপ্নের মতো। বারবার সরকার বদল, দলীয় বিভাজন, সাংবিধানিক টানাপড়েন আর ক্ষমতার দখলদারিত্বে দেশের রাজনীতি রীতিমতো এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে হাঁটছে।
সত্তর বছরে সাতবার নতুন সংবিধান তৈরি, অসংখ্য সংশোধন। আর গত ১৯ বছরে সরকার পরিবর্তন হয়েছে ১৪ বার। নির্বাচিত কোনো সরকারই পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি- যা দেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, যেখানে একসময় সিদ্ধান্ত হতো রাজ্যের ভাগ্য, সেখান থেকে শুরু করে বর্তমান সংসদ ভবন পর্যন্ত- সর্বত্র বিরাজ করছে অস্থিরতা। কখনো কমিউনিস্ট বিদ্রোহ, কখনো রাজপরিবারের রক্তাক্ত অধ্যায়, আবার কোনো সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে ন্যস্ত হয় সংকট সামাল দেওয়ার দায়িত্ব। কিন্তু অস্থিরতা যেন পিছু ছাড়ে না।
নেপালের রাজনীতি এখন এমন এক গোলকধাঁধা, যেখানে প্রবেশ সহজ হলেও সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন। এর পেছনে রয়েছে এক জটিল ইতিহাস, ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক কাঠামো, জাতিগত বৈচিত্র্য এবং ক্ষমতা কাঠামোর ঘন ঘন রদবদল।
বারবার নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ খোঁজা হয়েছে- এমন এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও বিভাজন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থপরতা এবং নেতৃত্বের জবাবদিহির অভাব।
“নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ। যেমন- ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা,” উল্লেখ করা হয়েছে ওই গবেষণায়।
এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে- কেন বারবার অস্থির হয়ে পড়ে নেপালের রাজনৈতিক মঞ্চ? আদৌ কি শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে হাঁটবে হিমালয়কন্যা? নাকি ভবিষ্যতেও চলবে অনিশ্চয়তার দীর্ঘ যাত্রা?
একটি প্রেম কাহিনি ও প্রাসাদ হত্যাকাণ্ড

নেপালের রাজতন্ত্র উচ্ছেদের শুরুটা হয়েছিল একটি প্রেম কাহিনিকে ঘিরে। তখন নেপালের রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ। যুবরাজ দীপেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ তার বড় ছেলে। ১৯৯০ সালের ঘটনা। ইংল্যান্ডের ইটন কলেজে পড়াশোনা করছেন দীপেন্দ্র। লন্ডনে ভাড়া থাকেন একটি বাড়িতে।
যে বাড়িতে দীপেন্দ্র থাকতেন, সেই বাড়িওয়ালার মেয়ের বান্ধবী ছিলেন দেবযানী রানা। নেপালের আরেকটি প্রতাপশালী বংশ হলো রানা। প্রায় একশ বছর নেপাল শাসন করেছে এই বংশটি।
লন্ডনে বান্ধবীর বাসায় প্রায়ই বেড়াতে যেতেন দেবযানী। সেখানেই পরিচয় হয় দীপেন্দ্রর সঙ্গে। এরপর প্রেমের সম্পর্ক, বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল দুই পরিবার। শাহ ও রানা বংশের শত্রুতা দীর্ঘদিনের। বারবার পরস্পরকে উচ্ছেদ করেছে তারা।
দীপেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা চাইছিলেন, যুবরাজ যেহেতু সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, তাই বিয়ে করুক শাহ পরিবারের মধ্যেই কাউকে। আর যদি দেবযানীকেই বিয়ে করেন, তাহলে ত্যাজ্যপুত্র করারও হুমকি দেয়া হয়।
দেবযানীও পড়লেন পরিবারের বাধায়। যুবরাজের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তাকে বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হলো। যত বাধাই আসুক যুবরাজকে ছেড়ে যাবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করলেন।
সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশায় নিমজ্জিত হলেন তরুণ দীপেন্দ্র। মনের কোণে জমতে শুরু করলো সন্দেহের মেঘ। রাজ উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে- এমন শঙ্কাও উঁকিঝুঁকি দিতে থাকলো।
সব সন্দেহ, শঙ্কা ও হতাশার মধ্যেও দুজনের সম্পর্ক কিন্তু এগিয়ে যেতে থাকলো। তবে অত্যন্ত সংগোপনে, লোকচক্ষুর আড়ালে। ২০০১ সালের পহেলা জুন, গ্রীষ্মের সন্ধ্যা। কাঠমান্ডুর নারায়ণহিটি রাজপ্রাসাদের ভেতর ঝাড়বাতির আলোয় ঝলমল করছে। নৈশভোজ উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন। রাজা, রাণীসহ উপস্থিত রাজপরিবারের সদস্যরা। আকণ্ঠ মদপান করে মাতাল হয়ে গেলেন যুবরাজ দীপেন্দ্র। বেসামাল অবস্থা। ছেলের বেগতিক অবস্থা দেখে রাজা তাকে পাঠালেন বিশ্রামে। ঢুলতে ঢুলতে নিজ কামরায় চলে গেলেন যুবরাজ।
এরপর হঠাৎ করেই টেলিফোন করলেন দেবযানীকে। কিছু কথা বললেন। প্রেমিকাকে ঘুমিয়ে পড়ার পরামর্শ দিয়ে শুভরাত্রি জানালেন। ফোন রেখে দীপেন্দ্র গায়ে জড়ালেন সামরিক উর্দি। হাতে তুলে নিলেন গুলিভর্তি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। ফিরে গেলেন নৈশভোজের আসরে, যেখানে পানাহারে ব্যস্ত পরিবারের সদস্যরা।
উর্দিপরা যুবরাজকে ফিরে আসতে দেখে সেদিন কেউ তাকে সন্দেহ করেনি। কারণ, এরকম বেশে রাতে প্রায়ই শিকারে বের হওয়ার অভ্যাস ছিল দীপেন্দ্রর। সবাই ভেবেছিলেন হয়ত শিকারে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেদিন ভিন্ন এক শিকারের নেশা পেয়ে বসে দীপেন্দ্রকে।
আচমকা অস্ত্র উঁচিয়ে বাবা বীরেন্দ্রর বুক লক্ষ্য করে গুলি চালালেন যুবরাজ। লুটিয়ে পড়লেন রাজা। একে একে গুলি করে মা, ছোট ভাই, বোনকে হত্যা করলেন। সব মিলে নয়জন মানুষ নিহত হলেন উম্মত্ত দীপেন্দ্রর গুলিতে। হত্যাকাণ্ড এখানেই শেষ হলো না। এবার তিনি নিজের মাথায় অস্ত্র ঠেকালেন। চালালেন গুলি। কিন্তু মারা গেলেন না। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হল তাকে। হাসপাতালে নেয়ার পর কোমায় চলে গেলেন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকলেন তিনদিন। এরপর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। কোমায় থাকা অবস্থাতেই তিনদিনের জন্য রাজা হয়েছিলেন দীপেন্দ্র।
তার মৃত্যুর পর নেপালের রাজতন্ত্রে পরিবর্তন এলো। পরবর্তী রাজা হলেন দীপেন্দ্রর চাচা ও নিহত বীরেন্দ্রর ছোট ভাই জ্ঞানেন্দ্র। ইতিহাস তৈরি করলেন তিনি। জ্ঞানেন্দ্র হলেন নেপালের শেষ রাজা। পাঁচবছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে নেপাল থেকে উচ্ছেদ হলো আড়াইশো বছরের রাজতন্ত্র। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ষষ্ঠবারের মতো নতুন করে বানানো হলো নেপালের আরেকটি সংবিধান।
এর আগে ও পরে কীভাবে বারবার সংবিধান বদলানো হয়েছে সেসব ঘটনাও আমরা জানব। তার আগে জেনে আসি কীভাবে গঠিত হলো আজকের নেপাল রাষ্ট্র।
নেপাল রাষ্ট্রের জন্ম

প্রাচীনকাল থেকে হিমালয়ের কোল ঘেঁষে তৈরি হয় ছোট ছোট জনপদ ও স্বাধীন রাজ্য। কাঠমান্ডু, পাটন, ভক্তপুর ও গোর্খা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি রাজ্যেরই ছিলো নিজস্ব সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কাঠামো। একইসঙ্গে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধ।
যুদ্ধের জন্য দুনিয়াজোড়া খ্যাতি গোর্খা সৈন্যদের। অদম্য সাহস, রণকৌশল, দক্ষতা ও শৃঙ্খলার জন্য সুপরিচিত। ব্রিটিশরা বারবার চেষ্টা করেছে নেপাল দখল করার। কিন্তু কখনোই সফল হতে পারেনি। কারণ, গোর্খা সেনাবাহিনী। তাদের পাহাড়ি যুদ্ধকৌশল ও সাহসের কাছে হার মানতে হয়েছে ব্রিটিশদের। আধুনিক নেপালের ইতিহাস শুরু এই গোর্খা রাজ্য থেকেই।
এখন থেকে ২৮৩ বছর আগের কথা। ১৭৪২ সাল। তখন গোর্খার রাজা ছিলেন পৃথ্বী নারায়ণ শাহ। তার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন রাজস্থানের বাসিন্দা। চিতোর রাজবংশের লোক। পৃথ্বী নারায়ণ শাহ হলেন নেপালের প্রতিষ্ঠাতা।
শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রগঠনের পরিকল্পনা করেন তিনি। লক্ষ্য পূরণে আশ্রয় নেন যুদ্ধ ও কূটনীতির। সফলতা পান পৃথ্বী। গোর্খা ও আশেপাশের ২৪টির বেশি রাজ্য নিয়ে ১৭৬৮ সালে গঠিত হয় আজকের নেপাল। পরবর্তী প্রায় আড়াইশো বছর বিভিন্ন সময় দেশটি শাসন করেছেন এই শাহ পরিবারের সদস্যরা।
রানা বংশের উত্থান

নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের আঘাত আঘাত আসে ১৮৪৬ সালে। রাজপ্রাসাদের অন্ধকার চত্বরে ঘটে যায় নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড। প্রধানমন্ত্রী ফতেহ জঙ্গ শাহকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে দেন জং বাহাদুর কুনওয়ার। এই ব্যক্তিই হলেন রানা বংশের প্রতিষ্ঠাতা। আগে যে দেবযানীর কথা বলেছি, তিনি ছিলেন এই রানা বংশের।
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পর নিজেই প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন জং বাহাদুর কুনওয়ার। পরের ১০৫ বছর নেপালে চলে জং বাহাদুরের উত্তরসূরি, অর্থাৎ রানা পরিবারের শাসন। তারা সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এর ফলে রাজা হয়ে পড়েন শুধুই ক্ষমতার প্রতীক - রানাদের পুতুল। সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন প্রধানমন্ত্রী।
শতাধিক বছর পর রানা পরিবারের ভিত নড়ে ওঠে ১৯৪৮ সালে। উপমহাদেশে তখন ঘটছে নতুন নতুন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। মাত্র এক বছর আগে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশ। তখনো রানা পরিবার নেপালের ক্ষমতায়। স্বৈরশাসনে অতিষ্ঠ মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে দানা বাঁধে ক্ষোভ। শুরু হয় রাজনৈতিক আন্দোলন।
পদ্ম শমশের জং বাহাদুর রানা তখন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। গণআন্দোলনে চাপে পড়ে তৈরি করলেন সংবিধান। সেটিই হলো নেপালের প্রথম সংবিধান। রাজতন্ত্র জারি রাখা হলো। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রিত একটি সংসদীয় ব্যবস্থা।
আইনসভার সদস্য নিয়োগ ও বাতিল করার একক ক্ষমতা চলে গেলো প্রধানমন্ত্রীর হাতে। কিন্তু নেপালের প্রথম সংবিধানে জনআকাঙ্ক্ষার স্বীকৃতি ছিলো না। তাই প্রশ্ন ওঠে, এটা কি রানা শাসনের সাংবিধানিক রূপ দেয়ার কৌশল?
রানা যুগের অবসান ও রাজার প্রত্যাবর্তন

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলেন জওহরলাল নেহরু। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। নেপালের রাজনীতি ও সংবিধান বোঝার জন্য নেহরুর নীতিগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন স্বার্থগত বিষয় জড়িত থাকায় রানাদের শাসনকে সমর্থন দিয়েছিল ব্রিটিশরা। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বদলে যায় সেই নীতি। নেহরু প্রধানমন্ত্রী হয়েই রানাদের সমর্থন বন্ধ করেন। এর প্রভাব হয় ব্যাপক। রানা শাসনবিরোধী আন্দোলন বেগবান হয়। তিন বছরের গণআন্দোলনে ধসে পড়ে শতাধিক বছরের রানা শাসন।
রানাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠী থাকলেও তারা এক হতে পারছিলেন না। কিন্তু ১৯৫০ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ একত্রিত হয়ে যায়। আর তারা মিত্র হিসেবে পান রাজা ত্রিভুবনকে। ১৯৫১ সালে পতন ঘটে রানা শাসনের।
নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্র হলেন- রাজা ত্রিভুবন বীর বিক্রম শাহ। রাজতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন মোড় দিয়েছিলেন তিনি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ১৯১১ সালে রাজা হয়েছিলেন। ত্রিভুবনের বাবাও ছিলেন রাজা।
কিন্তু রানারা যখন দেশ চালাতেন, তখন শুধু মুখে মুখেই রাজা ছিলেন ত্রিভুবন। তার ছিলো না কোনো ক্ষমতা। ১৯৪৮ সালে রানা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হলে, নিজের প্রাসাদে গৃহবন্দী করা হয় ত্রিভুবনকে।
একদিন প্রাসাদ থেকে পালালেন ত্রিভুবন। আশ্রয় নিলেন কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে। সেখান থেকে চলে যান ভারত। তবে যাওয়ার আগেই নেপালের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময় নেহরুকে চিঠি লিখেছিলেন ত্রিভুবন। জবাব দিয়েছিলেন নেহরু।
এই সময় দিল্লির প্রচেষ্টায় ঘটে ঐতিহাসিক একটি ঘটনা, যার ফলে রানাদের পতন ত্বরাণ্বিত হয়। দিল্লি চুক্তি, যা দিল্লি অ্যাকর্ড নামেও পরিচিত; স্বাক্ষরিত হয় ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। চুক্তি হয় দিল্লিতে। সই করে নেপালের তিনটি পক্ষ।
এই পক্ষগুলো হলো- রানা শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বিশেষ করে তখনকার প্রধানমন্ত্রী মোহন শমশের জং বাহাদুর রানা, ভারতে নির্বাসনে থাকা রাজা ত্রিভুবন বীর বিক্রম শাহ এবং তখন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দল নেপালি কংগ্রেস।
দিল্লি চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয় যে- রাজা ত্রিভুবন নেপালে ফিরে যাবেন, রানা ও গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে এবং নেপালে ধীরে ধীরে চালু করা হবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা।
দিল্লির চেষ্টায় ১৯৫১ সালে আবার নেপালে ফিরে এলেন রাজা ত্রিভুবন। সেদিন কাঠমান্ডুর রাজপথে ছিল জনতার বাঁধভাঙা উল্লাস। সেই উল্লাসে সিক্ত হয়ে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেন ত্রিভুবন। এর কয়েকদিন পরই গণআন্দোলনে পতন হয় ১০৫ বছরের রানা শাসনের।
ত্রিভুবন ও মাহেন্দ্রার শাসন

ক্ষমতা ফিরে পেয়েই রাজা ত্রিভুবন জারি করেন অন্তর্বর্তী সংবিধান। এটি নেপালের দ্বিতীয় সংবিধান। প্রথম সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। নতুন সংবিধানে তা কমিয়ে ফেলা হলো। বাতিল করা হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রিত আইনসভা ব্যবস্থা। আর এর মাধ্যম ফের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করলেন রাজা।
ত্রিভুবন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সংবিধান সভা গঠন করা হবে। কিন্তু কথা রাখেননি। এ নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন রাজনৈতিক নেতারা। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিবাদের সুযোগ নেন ত্রিভুবন। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা কৌশলে এবং ব্যাপকভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেন।
নিয়মতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা থাকলেও ত্রিভুবনের কৌশলের কারণে তা কাজ করেনি। প্রায় সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন তিনি। ত্রিভুবন মারা যান ১৯৫৫ সালে। রাজা হন তার ছেলে রাজা মাহেন্দ্রা। ১৯৫৯ সালে আবার সংবিধান বানালেন। মানে তৃতীয়বারের মতো নতুন সংবিধান পেল নেপালিরা।
নতুন সংবিধানের অধীনে ঘোষণা করা হলো পার্লামেন্ট নির্বাচন। এটাই ছিলো প্রথম ভোট; যার মাধ্যমে নেপালে বহুদলীয় সরকার গঠিত হয়। কিন্তু জটিলতা বাধে অন্য এক ঘটনায়।
সরকার ও সংসদের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়- তৃতীয় সংবিধানে এমন এক বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল রাজাকে। আর সেই ক্ষমতাবলে ১৯৬০ সালে সংবিধানই বাতিল করে দেন রাজা মাহেন্দ্রা। বিলুপ্ত করা হয় পার্লামেন্ট। সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়ে যায়। নির্বাহীসহ রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন মাহেন্দ্রা। পুরো মাত্রায় একনায়কতান্ত্রিক শাসনে ডুবে যায় নেপাল।
প্রশ্ন ওঠে, সংবিধান কি শুধুই শাসকের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশল? ক্ষোভ দানা বাধতে থাকে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাজা মাহেন্দ্রা ভিন্ন কৌশল নিলেন। আরেকটি সংবিধান বানালেন ১৯৬২ সালে। এটি তার দ্বিতীয় ও নেপালের চতুর্থ সংবিধান।
এবার সংসদ ভেঙে দিয়ে চালু করলেন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। পার্লামেন্ট সদস্য কারা হবেন- সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে তা মনোনীত করতেন পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা। এতে কমে যায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব। আরও শক্তিশালী হয় রাজতন্ত্র। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পান রাজা।
বীরেন্দ্রর শাসন
রাজ মাহেন্দ্রা মারা যান ১৯৭২ সালে। সিংহাসনে বসেন রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ। ইনি হলেন সেই বীরেন্দ্র, যার হত্যাকাণ্ডের কথা আমরা আগে বলেছি। ২০০১ সালের সেই ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিলো সারাবিশ্বকে।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে উচ্চশিক্ষা নিয়েছিলেন বীরেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী ইটন কলেজ, জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
ক্ষমতায় বসে নানা ধরনের উদারনীতি গ্রহণ করেন। এতে অন্য রাজাদের তুলনায় জনগণের আস্থা বেশি অর্জন করতে পেরেছিলেন বীরেন্দ্র। তিনিও ১৯৯০ সালে নতুন সংবিধান বানান। কিন্তু এতেও উপেক্ষা করা হয় জনস্বার্থ।
রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে দাবি করে যে, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য গঠন করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব দাবিতে উত্তাল হয় নেপাল। ৫০ দিনের গণআন্দোলনে চাপে পড়ে যান বীরেন্দ্র।
অবশেষে নতুন সংবিধানে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা অনুমোদন পায়। রাজাকে রাষ্ট্রপ্রধান রেখে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করা হয়। অন্তর্ভুক্ত করা হয় কিছু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মৌলিক অধিকার। তবু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজার কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগতই থাকে।
রাজতন্ত্রের অবসান

নতুন সংবিধান রাজতন্ত্রের আধিপত্য নিরসনে ব্যর্থ হয়। যেমন- সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে যায় রাজার হাতে। এই দুর্বলতাই পরবর্তীতে বড় বিপর্যয়ের জন্ম দেয়।
পঞ্চম সংবিধানে গণতন্ত্র এলেও রাজতন্ত্রের ক্ষমতা অব্যাহত থাকে। দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক দলগুলো। নেতাদের দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও দলীয় স্বার্থপরতায় আবারও হতাশ হয় নেপালের সাধারণ মানুষ। হতাশা থেকে ক্ষোভ। ক্ষোভ থেকে প্রতিবাদ, বিদ্রোহ, এমনকি তা সশস্ত্র আন্দোলনে গড়ায়।
সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ, শ্রেণি বৈষম্যের অবসান; সর্বোপরি নতুন সমাজব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক কাঠামো বদলে ফেলতে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় চীনপন্থি কমিউনিস্ট পার্টি। পুরো নাম কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল- মাওয়িস্ট বা নেপালের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল। সশস্ত্র আন্দোলনে জেরবার নেপাল। ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি ক্রমেই জোরালো হতে থাকে।
কমিউনিস্ট নেতা পুষ্প কমল দোহাল- বেশি পরিচিত প্রচন্ড নামে। রাজতন্ত্র বিলুপ্তির জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। নেপাল তখন উত্তাল। রাজা বীরেন্দ্র ও তার উত্তরাধিকারী নিহত হয়েছেন। সিংহাসনে বসেছেন ভাই জ্ঞানেন্দ্র।
রাজা ত্রিভুবন যখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন রানা সরকার তিন বছরের জ্ঞানেন্দ্রকে রাজা ঘোষণা করেছিল। তবে ভাইয়ের মৃত্যুর পর রাজার দায়িত্ব পেয়ে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৫ সালে তার শাসনের বিরুদ্ধে শুরু হয় গণবিক্ষোভ। এক বছরের মধ্যে তা গণআন্দোলন রূপ নেয়।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। পাশাপাশি সশস্ত্র সংগ্রাম। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন রাজা জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৭ সালে আরও একবারের মতো তৈরি হয় সংবিধান। নেপালের ষষ্ঠ সংবিধান এটি।
এখানেই ঘোষণা করা হয়- দেশের সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের। বিলুপ্ত হয় রাজতন্ত্র। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংবিধান সভা বা গণপরিষদ গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হন কমিউনিস্ট নেতা প্রচন্ড। তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।
জেন-জি বিক্ষোভ

নেপালের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিস্ট নেতা হলেন কেপি শর্মা ওলি। ২০১৫ সাল থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু তিনিও কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।
জেন-জিদের আন্দোলনের মুখে গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করে কাঠমান্ডু ত্যাগ করেন। চলে যান অজ্ঞাতস্থানে। বিক্ষোভকারীরা পুড়িয়ে দিয়েছেন ওলির বাড়িঘর। দুর্নীতির অভিযোগ ও সরকারের স্বচ্ছতার অভাবে জনগণের ক্ষোভ ক্রমেই পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। সবশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয় ওলির সরকার। অবশেষে পতন ঘটে।
কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতায় আসার পরই সর্বশেষ অর্থাৎ সপ্তমবারের মতো তৈরি করা হয় নেপালের সংবিধান। নানা প্রক্রিয়া এবং আলোচনা-সমালোচনার পর ২০১৫ সালের ২০এ সেপ্টেম্বর স্থায়ীভাবে গৃহীত হয় নতুন সংবিধান। নেপালকে ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়।
সাতটি প্রদেশ নির্ধারণ করে নারী, দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের জন্য রাখা হয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা। আধুনিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেক ধারাও যুক্ত করা হয় এতে। সে সময় বাধ ভাঙা আনন্দ- উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসে নেপালের বহু মানুষ। তারা ভেবেছিলেন- এবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, পাবেন নিরাপত্তা।
কিন্তু নেপালিদের সেই স্বপ্ন ফিকে হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। কিছুদিনের মধ্যেই জনগণের বড় একটি অংশ মনে করা শুরু করে যে, নতুন সংবিধান তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। আবার দাবি ওঠে সংবিধান পরিবর্তনের।
এদিকে দুর্নীতি, অনিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে মানুষ। দানা বাঁধতে শুরু করে ক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দেন। রাস্তায় নামে মানুষ। কয়েকদিনের বিক্ষোভে পতন হয় ওলি সরকারের। এরপর গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার শাসক খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে।
তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ?

নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. শান্ত বাহাদুর থাপা। নেপালের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ খুঁজেছেন তিনি। তার একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে জার্নাল অব পলিটিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় নেপালের গণতান্ত্রিক পথচলাকে প্রভাবিত করার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীদের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক উপাদানগুলোকে দায়ী করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে অশিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।
নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষক শান্ত বাহাদুর। তৃতীয় দেশ বলতে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
গবেষণায় বলা হচ্ছে, “আন্তর্জাতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে, নেপালের রাজনৈতিক সংকটের সময় চীন বিপাকে পড়লেও ভারত ধীরস্থিরভাবে অপেক্ষা করেছে সতর্ক আশাবাদ নিয়ে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির উত্থানের ফলে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে যায়।
“অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুবিধা নেয়। প্রধানমন্ত্রীর (অলি) নেওয়া বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে কোনো আপত্তি জানায়নি। বরং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নেপালে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে।”
তাহলে নেপালে কি অস্থিরতা চলতেই থাকবে? নেপালের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন পল স্ট্যানিল্যান্ড, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিয়ে দুটি বইয়ের লেখক তিনি।
গত সেপ্টেম্বরে জার্নাল অব ডেমোক্রেসিতে নেপাল নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন পল। তিনি লিখেছেন, জনগণ নির্বাচিত সরকারের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ হলেও সামরিক শাসনের মতো বিকল্প কেউ দেখতে চায় না। আবার চীনা ধাঁচের একদলীয় শাসন ব্যবস্থাও দক্ষিণ এশিয়ায় জনপ্রিয় নয়। অর্থাৎ, গণতন্ত্রই পরিবর্তনের কাঙ্ক্ষিত পথ, যদিও তার কাঠামো কেমন হবে তা এখনো অনির্দিষ্ট।
“নেপালের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। আসন্ন নির্বাচন হয়ত সব সমস্যার সমাধান আনবে না। পুরোনো দলগুলো টিকে থাকতে পারে, দুর্নীতি ও দুর্বলতাও হয়ত অব্যাহত থাকবে। তবে দ্রুত সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক স্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ফের সেনাবাহিনীর প্রভাব কিংবা নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়ে যাবে।”
তিনি লিখেছেন, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এই দুই ধাপে অগ্রসর হওয়াই নেপালের স্থায়ী রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করতে পারে।
ফের রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি
নেপালের গণতন্ত্র এখন এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। আবার রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছে। নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা কোনো আকস্মিক ঘটনাপ্রবাহ নয়। বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রে উত্তরণ, কমিউনিস্ট বিদ্রোহের অবসান, সংবিধান প্রণয়ন- প্রতিটা ঐতিহাসিক ধাপই নতুন আশা তৈরি করেছে। কিন্তু সেই আশার স্থায়ী রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা, দলীয় বিভাজন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব।
দলীয় রাজনীতির সংস্কার না হওয়া, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্বের দূরত্ব এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি- এই তিনটি বিষয় আজকের নেপালের অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন গবেষকরা।
পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক চাপ- ভারত, চীন ও পশ্চিমা শক্তির প্রভাবের টানাপড়েন, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


চীনের ’ওয়াটার বম্ব’ বনাম ভারতের ’ওয়াটার শিল্ড’ ব্রহ্মপুত্র হচ্ছে এশিয়ার নতুন রণাঙ্গন?
