স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৬৮

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার পর স্পেনের মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাদ্রিদ থেকে সেভিলের উদ্দেশে ছেড়ে আসে একটি ট্রেন রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী , স্পেনের গত ১৩ বছরের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা এটি।

দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি একটি বগিতে আগুনও ধরে যায়। কেউ আসনের মধ্যে আটকে পড়েন, কেউ আহত অবস্থায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন,বিবিসির বর্ণনায় ঠিক এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইরিওর ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে ট্রেনটি রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন থেকে রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের আরেকটি ট্রেন সেটিতে ধাক্কা দেয়। রেনফের ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন।

অস্কার পুয়েন্তের মতে, ইরিওর ট্রেনের কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে মাদ্রিদের কন্ট্রোল সেন্টার সেটির দায়িত্ব নেয়। কিন্তু কোনো গতিসীমা নির্ধারণ না করেই ট্রেনগুলোকে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে একজন যাত্রী বিবিসিকে জানায়, সংঘর্ষের সময় লাগেজ ছিটকে পড়ছিল, আর যাত্রীরা চিৎকার করছিলেন। বাইরে বেরিয়ে তিনি একটি বগিকে পুরোপুরি উল্টে থাকতে দেখেন। তার বাবা আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ স্যাম্পল প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে স্পেনের সিভিল গার্ড।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, পুরো স্পেন শোকাহত। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি নিহতের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্দোবা এলাকায় আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন।