ট্রাম্পের তদবির ব্যর্থ করে ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো লুলার নাটকীয় জয়
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএমআপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ব্রাজিলে চারবারের মতো প্রেসিডেন্ট হলেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ব্রাজিলে এ নিয়ে চারবারের মতো প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি। ২৫এ অক্টোবরের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এ জয়ের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থীদের ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের ধারায়ও বাধা তৈরি করলেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।
প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকলেও শেষমেশ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার কাছে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে পরাজয় মেনে না নিয়ে ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফলাফল বাতিলের আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফ্লাভিওর এই অবস্থান তার বাবা জাইর বলসোনারোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ২০২২ সালে লুলার কাছে পরাজয়ের পর সাবেক এই প্রেসিডেন্টও ফল মেনে নেননি। পরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
লুলার রাজনৈতিক জীবনে এই জয় আরেকটি বড় প্রত্যাবর্তন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড বাতিল হলে আবারও তার রাজনীতিতে ফেরার পথ সুগম হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও প্রেসিডেন্ট হন লুলা।
তবে এবারের নির্বাচনে তার এই জয় তেমন সহজ ছিল না। দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে লুলা এবং তার দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, অর্থনীতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর ও অনানুষ্ঠানিক কাজের বিস্তারও তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
নির্বাচনী প্রচারে লুলা দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে তার সরকারের অর্জন তুলে ধরেন। তার তৃতীয় মেয়াদে বেকারত্ব, নিরক্ষরতা ও বন উজাড়ের হার রেকর্ড পর্যায়ে কমেছে বলেও প্রচারে উল্লেখ করা হয়।
শেষ পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক নানা প্রতিশ্রুতি তার প্রচারে গতি আনে। এর মধ্যে ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দেশজুড়ে বিনা মূল্যে গণপরিবহন চালু এবং জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ১৫ শতাংশ অর্থ বাড়ানো। পাশাপাশি কংগ্রেসের সমর্থনে শ্রম খাতে বড় ধরনের সংস্কারও পাস হয়।
লুলার জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লুলা নির্বাচনী প্রচারে অভিযোগ করেন, বলসোনারো ক্ষমতায় এলে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় কমাতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে।
লুলার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলসো আমোরিমের মতে, লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন লুলা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে জয় পেলেও লুলার সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। গণতন্ত্রে ফেরার পর এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী কংগ্রেস পেয়েছে ব্রাজিল। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ও তাদের মিত্ররা নিম্নকক্ষে ২৮০টির বেশি আসন এবং সিনেটে ৫০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে। এতে বাজেট, আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধীদের প্রভাব বাড়বে।
আগামী বছর ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সময়ে সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ৮২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। উচ্চ সুদের হার ও ঋণের ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া পরিবারের ঋণ বেড়ে যাওয়াও অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় অনলাইন বাজির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং ঋণ থেকে মুক্তির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন লুলা।
ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধীদের প্রভাবশালী কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়াই হবে লুলার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্পের তদবির ব্যর্থ করে ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো লুলার নাটকীয় জয়
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ব্রাজিলে এ নিয়ে চারবারের মতো প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি। ২৫এ অক্টোবরের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এ জয়ের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থীদের ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের ধারায়ও বাধা তৈরি করলেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।
প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকলেও শেষমেশ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার কাছে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে পরাজয় মেনে না নিয়ে ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফলাফল বাতিলের আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফ্লাভিওর এই অবস্থান তার বাবা জাইর বলসোনারোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ২০২২ সালে লুলার কাছে পরাজয়ের পর সাবেক এই প্রেসিডেন্টও ফল মেনে নেননি। পরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
লুলার রাজনৈতিক জীবনে এই জয় আরেকটি বড় প্রত্যাবর্তন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড বাতিল হলে আবারও তার রাজনীতিতে ফেরার পথ সুগম হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও প্রেসিডেন্ট হন লুলা।
তবে এবারের নির্বাচনে তার এই জয় তেমন সহজ ছিল না। দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে লুলা এবং তার দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে, অর্থনীতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর ও অনানুষ্ঠানিক কাজের বিস্তারও তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
নির্বাচনী প্রচারে লুলা দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে তার সরকারের অর্জন তুলে ধরেন। তার তৃতীয় মেয়াদে বেকারত্ব, নিরক্ষরতা ও বন উজাড়ের হার রেকর্ড পর্যায়ে কমেছে বলেও প্রচারে উল্লেখ করা হয়।
শেষ পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক নানা প্রতিশ্রুতি তার প্রচারে গতি আনে। এর মধ্যে ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দেশজুড়ে বিনা মূল্যে গণপরিবহন চালু এবং জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ১৫ শতাংশ অর্থ বাড়ানো। পাশাপাশি কংগ্রেসের সমর্থনে শ্রম খাতে বড় ধরনের সংস্কারও পাস হয়।
লুলার জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লুলা নির্বাচনী প্রচারে অভিযোগ করেন, বলসোনারো ক্ষমতায় এলে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় কমাতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে।
লুলার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলসো আমোরিমের মতে, লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন লুলা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে জয় পেলেও লুলার সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। গণতন্ত্রে ফেরার পর এবারই সবচেয়ে শক্তিশালী কংগ্রেস পেয়েছে ব্রাজিল। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ও তাদের মিত্ররা নিম্নকক্ষে ২৮০টির বেশি আসন এবং সিনেটে ৫০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে। এতে বাজেট, আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধীদের প্রভাব বাড়বে।
আগামী বছর ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সময়ে সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ৮২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। উচ্চ সুদের হার ও ঋণের ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া পরিবারের ঋণ বেড়ে যাওয়াও অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় অনলাইন বাজির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং ঋণ থেকে মুক্তির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন লুলা।
ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধীদের প্রভাবশালী কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়াই হবে লুলার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিষয়: