মিয়ানমারের আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর কথা হয়েছে তার ছেলে কিম অ্যারিসের। বৃহস্পতিবার তিনি এ তথ্য জানান। গৃহবন্দি থাকা মায়ের সঙ্গে এই প্রথম সরাসরি কথা বললেন তিনি।
৮১ বছর বয়সী মায়ের বিষয়ে এত দিন বিচ্ছিন্নভাবে অন্যের মাধ্যমে খবর পেতেন কিম অ্যারিস। এবার সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন বলে ফেইসবুক পোস্টে জানান তিনি।
রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সমর্থিত প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যমে জানান, লন্ডনে মিয়ানমারের দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে সু চির সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যারিস। এ সময় মা ও ছেলের আলাদা দুটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চিকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রাখা হয়েছে। ওই সময় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে। অভিযান চালিয়ে বেসামরিক নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ফলে দরিদ্র দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘাতে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
সামরিক বাহিনীর পরিকল্পিত নির্বাচনের পর অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন। এরপর গত এপ্রিলে সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দিত্বে নেওয়া হয়।
বর্তমানে তার ১৮ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করার কথা। উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
কিম অ্যারিস বলেন, “আমার মাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত, সরাসরি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও দিতে হবে।”
বছরের পর বছর সু চির শারীরিক অবস্থা ও সুস্থতা নিয়ে খুব কম তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বছর অগাস্টে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেন সু চি। সে সময় এই সাক্ষাৎকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন তার ছেলে অ্যারিস।
সম্প্রতি সু চির কয়েকটি বিরল ছবি প্রকাশ করে সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার। ছবিতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা তার কাছে বই এবং যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের একটি চিঠি পৌঁছে দিচ্ছেন।
কিম অ্যারিস বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার মা এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। স্বাধীনতা কোনো অনুগ্রহ নয়, যা কাউকে দেওয়া হবে। এটি এমন কোনো ছাড়ও নয়, যা নিয়ে দর-কষাকষি করা যায়।”



