ইতালিতে সহিংসতার ঘটনায় ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

ইতালির মিলানে বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নতুন করে সংঘর্ষ ও লুটপাটের সম্ভাবনা থাকায় মিলান শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার দোকানপাট আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। 

মিলানের অভিজাত এলাকার ভিয়া মনতেনাপোলেওনে সড়কে অবস্থিত শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের আউটলেটগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। 

সোমবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, 'মিলানকে রক্ষা করতে' সরকার অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েন করবে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এক্স পোস্টে তাজানি আরও জানান, "রাষ্ট্রের ওপর এসব হামলার জবাব কঠোরভাবে দেবে সরকার। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।"

সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৭ই অক্টোবর মিলানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে সপ্তাহের শেষে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ডাস্টবিনে আগুন দেয়, দোকানপাটে লুটপাট চালায় এবং বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, রবিবারের সহিংসতার ঘটনায় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়। সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া তরুণদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের ২৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

চলমান সহিংসতা দমনে অংশ হিসাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আটক আদেশের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে দেশটির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা এ তথ্য জানিয়েছে। 

মিলানের বাইরেও ইতালির কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো ও তুরিনে অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে। তুরিন শহরে ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রতিবেশী ফ্রান্সেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। দেশটিতে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের কিছু এলাকায় রাতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।