বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, জারি হতে পারে জরুরি অবস্থা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

ফ্রান্সে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের কিছু এলাকায় সন্ধাকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় মেয়রদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী কারফিউ জারির ক্ষমতা দিয়েছে সরকার। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে অর্থ সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, শহরের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া শহরের কিছু এলাকায় অনুমতি ছাড়া লোকসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দক্ষিণের মার্সেই, বোর্দো, নিস ও লিওঁ এবং উত্তরের লিলসহ বিভিন্ন শহরেও আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। কোথাও তরুণদের চলাচল, আবার কোথাও জনসমাগম সীমিত করা হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় মেয়ররা কারফিউ জারি করতে পারবেন। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে যারা সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন, তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। দাঙ্গার কারণে কাজে যেতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য আংশিক বেকারত্ব তহবিল চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

গত মাসে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। সপ্তাহান্তে শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ সময় কয়েকটি শহরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাট লুটের ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়া গ্রেনেডে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলো। দাঙ্গা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগের চেষ্টা করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কী ঘাটতি ছিলো, তা স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

দাঙ্গা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন ২০০ জন তদন্তকারী।

ফ্রান্সের চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে। 

লুট হওয়া পণ্য অনলাইনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ভিনটেড জানিয়েছে, চুরি করা পণ্য বিক্রি তাদের প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ। এ ধরনের বিজ্ঞাপন সরাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাট লুটের ঘটনা ঘটে। মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে আগুনে উনিশ শতকে নির্মিত সিটি হলের বড় অংশ পুড়ে যায়। ধসে পড়ে ভবনটির ছাদ ও ঘড়ির টাওয়ার।

এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে থাকা নিজেদের নাগরিকদের বিক্ষোভকবলিত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। চীন ও জার্মানিও সতর্কতা জারি করেছে।

ফ্রান্সের দাঙ্গায় বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবী করেছেন কয়েকজন রাজনীতিবিদ। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রমাণ দাবি করেছেন দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। প্রমাণ দিতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।