ভারতের দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। এ ছাড়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দাবি, দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর আটক করা হয়েছে দলটির নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে।
১০ই অক্টোবর, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়মের প্রতিবাদে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামে এই কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটি আবাসিক এলাকায় ধ্রুব রাঠির বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার আগে সেখানে পৌঁছান পুলিশের সদস্যরা। পুলিশের নির্দেশনা না মানায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে তাকে দিল্লিতে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
সিজেপির দাবি, বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে। এর আগে অভিজিৎ দীপকে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়ে বলেছিলেন, আটক করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তিনি।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ। মোতায়েন করা হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য। গণপরিবহন চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া ঠিক নয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, গত দুই বছরে ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিন এবং পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকাতেও ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবিও তুলেছেন তারা। ধ্রুব রাঠি এই আন্দোলনকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত ২রা অক্টোবর মুম্বাইয়ে একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী। ওই কর্মসূচিতে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও শাবানা আজমিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরা অংশ নেন। শিবসেনার একটি অংশও আন্দোলনে সমর্থন জানায়।
তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন বিজেপি সমর্থকেরা। তাদের দাবি, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও ঝাড়খন্ডে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে জয় পেয়েছে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, এমন অভিযোগ মানতে নারাজ তারা।



