হাইতিতে গ্যাং তাণ্ডব, রাতভর হামলায় নিহত ৪৭ জন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

ক্যারিবীয় দেশ হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে রাজধানীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা কেন্সকফে এ হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচের প্রাথমিক হিসাবে, হামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

পোর্ট-অ-প্রিন্সে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পথের ওপর অবস্থান কেন্সকফের। গত বছর থেকে এলাকাটিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের অন্তত এক ডজন হামলা হয়েছে। এসব হামলায় হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

এবারের হামলায় কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। নিহতদের একজনের মরদেহ রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে হামলা হলেও তাদের রক্ষা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে স্থানীয় পুলিশপ্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।

তবে হাইতির জাতীয় পুলিশের প্রধান ভ্লাদিমির পারাজোঁ দাবি করেছেন, হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পুলিশ শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে।

কেন্সকফ থেকে পেটিওন-ভিলের দিকে যাওয়ার পথ এবং রাজধানী থেকে দক্ষিণ হাইতির প্রধান সড়কের ওপরও নজরদারির সুযোগ রয়েছে এলাকাটির। ফলে এর নিয়ন্ত্রণ হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

হাইতি সরকার হামলাটিকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কেন্সকফকে পরিত্যক্ত হতে দেওয়া হবে না এবং দ্রুত সেখানে সরকারি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

তবে বছরের পর বছর ধরে দেশটির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাংগুলোর প্রভাব বাড়ছে। বিদেশি সহায়তায় পুলিশকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা বন্ধ করা যায়নি।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরুতে মাত্র দুই মাসে কেন্সকফে হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এরপরও ওই এলাকায় অপহরণ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু চুরিসহ আরও প্রায় এক ডজন হামলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরে হাইতিতে নির্বাচন আয়োজন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে গ্যাং সহিংসতার কারণে একাধিকবার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়।