ইরানের অর্থনীতি ‘ধ্বংস’ করার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ইরানকে চাপে রাখতে এবার বড় ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। তার দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা কাজ করলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন কমে আসতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপের হুমকি দেন। এমনকি কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা সরকারি সহায়তা দিলে তাদেরও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে ঠিক কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, তা এখনো জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সোমবার এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এদিকে মার্কিন হুমকির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বৃহস্পতিবার তেলের দাম তিন সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। যার বড় কারণ হরমুজ প্রণালি।

মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যেতো। সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান নিয়ন্ত্রণ রেখেছে হরমুজের। তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শংকা তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।

ইরানকে ঘিরে এ সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিল ও জুনে দুবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু দুবারই সেই চুক্তি ভেঙে যায়। এবার তাই সামরিক হামলার বদলে অর্থনৈতিক চাপকে সামনে আনছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। তেহরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে তার স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা থেকে সরানো যাবে না।