থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৭

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন ওই শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। 

শুক্রবার ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই এলাকার দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।  

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান রয়টার্সকে জানান, নিহত সাতজনের মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী।। 

১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানায়, প্রথমে সে গুলির শব্দকে আতশবাজি ফাটার শব্দ বা কোনো কিছুর আঘাতের শব্দ ভেবেছিল। পরে কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে বুঝতে পারে, পরিস্থিতি গুরুতর।

দেশটির শিক্ষামন্ত্রী প্রসের্ত জান্তারারুয়াংথং জানান, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীরাও

জরুরি সেবাকর্মী কিয়াতিকুন ভেরাপংপ্রাদিত জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার দল পিঠ, বুক ও হাতে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেয়। স্কুলের ওপরের একটি তলায় এক পুরুষ শিক্ষককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য একটি কক্ষে বুক ও হাতে আহত এক নারী শিক্ষককেও উদ্ধার করা হয়, রয়টার্সকে জানান তিনি।

 প্রায় ৩০ মিনিট ওই নারী শিক্ষককে সিপিআর দেওয়ার পরও তার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান কিয়াতিকুন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী ও ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন।

চলতি বছরে দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলা

শুক্রবারের ঘটনাটি চলতি বছরে থাইল্যান্ডের কোনো স্কুলে দ্বিতীয়বার বন্দুক হামলা হলো। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হাট ইয়াই এলাকায় একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় এক শিক্ষক নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের বন্দুক হামলা আগেও হয়েছে।  ২০২২ সালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বন্দুক ও ছুরি হামলায় ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে থাকা ২২ শিশুও ছিলো। 

২০২০ সালে নাখন রাতচাসিমায় এক সেনাসদস্যের বন্দুক হামলায় ২৯ জন নিহত হন। ২০২৩ সালে ব্যাংককের একটি শপিং সেন্টারে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়।