ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর কানাডায় অনুষ্ঠিত ম্যাচ দেখার নাম করে ভিজিট ভিসায় দেশটিতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন অন্তত দশজন বাংলাদেশি।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) বরাত দিয়ে এই খবর দিচ্ছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।
আইআরসিসি বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে কানাডা গিয়ে অন্তত ১৭৫ জন বিদেশি নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এই আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের সাময়িক আবাসস্থল উল্লেখ করতে গিয়ে নিজেদেরকে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ভিজিটরস’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পরই আশ্রয়ের এই আবেদনগুলো করা হয়।
আইআরসিসি থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আশ্রয়ের আবেদন যারা করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ঘানার নাগরিক। মোট পঁচিশটি আবেদনই এসেছে ঘানার নাগরিকদের থেকে।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মিশর ও কলম্বিয়ার রয়েছেন ১৫ জন করে নাগরিক। সেনেগালের ১০ জন। একুয়েডরের আছে ৫ জন।
এই দেশগুলোর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো কানাডাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কানাডা এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সাথে সহ-আয়োজন করেছে।
বিশ্বকাপ না খেলা অন্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দশ জন ছাড়াও কেনিয়ার ১৫ জন, চীনের ১০ জন, নাইজেরিয়ার ১০ জন রয়েছে। ৫ জন করে আবেদন এসেছে বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকদের কাছ থেকে।
কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০এ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কানাডা মোট ২৬ হাজার ১১১ জন আশ্রয়প্রার্থীর সাময়িক আশ্রয়ের অনুমোদন করেছে।
এই ১৭৫টি আবেদন পড়েছে ওই অনুমোদনের পর।
সংস্থাটি বলছে, “এই আবেদনগুলোকে এজন্য আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে কারণ তারা অস্থায়ী ঠিকানার জায়গায় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২৬’ লিখেছে।”
সংস্থাটি বলছে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে, যদি আরো সফরকারীরা, যারা এখনো কানাডায় অবস্থান করছেন, তারা যদি সামনের দিনগুলোতে আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে বিশ্বকাপের মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকাপের বিদেশি দর্শকদের জন্য মোট ২৬ হাজার ভিসা ইস্যু করে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা
কানাডায় বাংলাদেশি হাইকমিশনে কর্মরত একজন কূটনীতিকের সাথে এ নিয়ে কথা হয় আলাপের প্রতিবেদকের।
তিনি বলেন, এসব তথ্য স্থানীয় গণমাধ্যমে তিনিও দেখেছেন। এখানে হাইকমিশনের তেমন কোনো কিছু করার নেই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু সংখ্যক বাংলাদেশির কানাডায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার প্রবণতা আছে উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন।
“বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে দশ জন সেখানে অ্যাসাইলাম চেয়েছেন, এটা এমন কোনো বড় সংখ্যা না। এমনটা সেখানে নিয়মিতই ঘটে। বাংলাদেশিরা নানা কারণ দেখিয়ে কানাডায় গিয়ে সেখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ খোঁজে এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকে একটি সহজ পথ হিসেবেই দেখে। এজন্য অনেকেই স্বদেশে দমনপীড়নের শিকার হওয়ার কথা বলেন কিংবা দাবি করে তারা এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্য।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা শুধুমাত্র সহজে আশ্রয় পাওয়ার জন্য দমনপীড়নের শিকার না হয়েই কিংবা এলজিবিটিকিউ না হয়েই এমন তথ্য দেন আশ্রয়প্রার্থীরা।
ওই কূটনৈতিক আরো বলেন, এমন মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রবণতার কারণে দেখা যায় অনেক সময় সত্যিকারের প্রয়োজন যার, যিনি সত্যি সত্যি দমনপীড়নের শিকার বা সত্যি সত্যি এলজিবিটিকিউ - তাকে বিশ্বাস করা হয় না।



