আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যু: বিচার ও চিকিৎসা ব্যবস্থার যে সংকট সামনে নিয়ে এলো

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ ও রোগীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি হাসপাতালের ব্যর্থতা নয়; বরং হাসপাতাল তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাও উন্মোচন করেছে।

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার। গণমাধ্যমে ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তদন্ত রিপোর্টে হাসপাতালের অবহেলা, কাঠামোগত ত্রুটিসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা স্পষ্ট না করলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৭ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটি হাসপাতালের কার্যক্রম চালানোর মতো উপযুক্ত নয়। পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন ব্যক্তিদের বক্তব্য, জবানবন্দি থেকে কয়েকটি বিষয়কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। ছোট বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনও ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, যা নবজাতক শিশুর দীর্ঘ সময় টিকে থাকার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

মন্ত্রি এও জানান, দায়িত্বরত নার্সদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল। নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতিশীল অবস্থায় হাসপাতালের সক্রিয় ইমারজেন্সি মেডিক্যাল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানের সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনও চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত না করে কালক্ষেপণ করতে থাকে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এও বলা হয়, ভবনটি হাসপাতালের কার্যক্রম চালানোর মতো উপযুক্ত নয়।

এদিকে শনিবার দুপুরে হাসপাতালের পক্ষে এ ঘটনার আইনি দিক, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অবস্থান এবং সার্বিক পরিস্থিতি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘অক্সিজেনের স্ট্যান্ডার্ডটা আসলে কী, যেটা নিয়ে একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারেন। কার্বন ডাই অক্সাইডের স্ট্যান্ডার্ডই বা কী, যেটা অতিক্রম করলে একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছুই খুঁজে পাইনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় লাইসেন্স বাতিলের যে নোটিশ দিয়েছে সেটা বেআইনি। তারা এমন কোনো নোটিশ দিতে পারে না। আমরা আইনি লড়াইয়ে যাবো।’

শিশির মনির আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন অভিভাবকের অনুরোধে এক ঘণ্টার জন্য এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ কারণে দায়িত্বে থাকা কর্মী নাসিমা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের রোগের চিকিৎসা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বিনা মূল্যে প্রদান করবে বলেও জানান সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। 

এদিকে, নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সব আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব দিতে হবে রবিবারের মধ্যে।

হাসপাতালের অবকাঠামোর বিধি

কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই আলোচনায় বিষয় হিসেবে উঠে আসে ভবন বিধি। সেক্ষেত্রে হাসপাতালের ভবনের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী মনে করেন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেই ভবনটিও হাসপাতালের জন্য তৈরি হয়নি। পরে এটিকে হাসপাতাল বানানো হয়। তার অর্থ হলো ওই ভবনটিও হাসপাতালের উপযোগী নয়। 

তার মতে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে যতগুলো বসবাসের ভবন রয়েছে এর কত শতাংশ সত্যিকার অর্থে সঠিক মান সম্পন্ন? এবং সমস্ত শর্ত পূরণ করে হয়েছে? সেটিও একটি বিতর্কিত বিষয়।

ডা. লেলিন আলাপ-কে বলেন, “হাসপাতালের জন্য ন্যূনতম সুবিধাটি রয়েছে কিনা সেটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। যে সুবিধাগুলো না হলে হাসপাতাল চালানো যায় না, সেটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি সমস্ত হাসপাতালের ক্ষেত্রেই মেনে চলা উচিত। সরকারি হোক এবং বেসরকারি হোক।”  

অন্যদিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক মনিরা নাজমী জাহান মনে করেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক হলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন,  ১৯৯৫ এবং প্রাসঙ্গিক ভবন ও নির্মাণবিষয়ক বিধিবিধানের লঙ্ঘনের বিষয়টিও সামনে আনা যেতে পারে। সেই আইনেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে হাসপাতাল ভবনের অনুমোদন পেতে গেলে তাহলে কী দেখা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. লেলিন বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দেখা হয় কতটা জায়গা আছে, কয়টা বেড রাখা যেতে পারে ইত্যাদি। তারা প্রাথমিকভাবে দেখে অনুমতি দেয়।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকেও সেভাবেই লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। যার মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত, জানান ডা. লেলিন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল (ছবি: সংগৃহীত)

দায়িত্ব অবহেলা ও জনবল সংকট

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এসি বন্ধ হওয়ার পর শিশুদের অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগের তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান মনে করেন যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতো তাহলে বাচ্চাগুলোর প্রাণ হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো।

হাসপাতালের শুধু ভবন নয়, প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক জনশক্তির সংকট আছে এবং চিকিৎসা খাত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান পূরণ করতে সমর্থ্য নয় বলে মনে করেন ডা. লেলিন চৌধুরী। আর এজন্য ন্যূনতম ব্যবস্থাপনা রেখে হাসপাতাল পরিচালনার কথাও বলেন তিনি।  

“জনবলের অনুপাত হতে হবে একজন ডাক্তারের বিপরীতে তিনজন নার্স এবং পাঁচজন সহায়ক টেকনোলজিস্ট। বাংলাদেশে ১৮ কোটি বা সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের জন্য এখন প্র্যাকটিসিং ডাক্তারের সংখ্যা হচ্ছে কম-বেশি ৯০ হাজারের মতো”, আলাপ-কে বলেন ডা. লেলিন।  

নেই হাসপাতাল পরিচালনার মানদণ্ড

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত কোনো স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর নির্ধারণ করা নেই। যার কারণে সব হাসপাতালের সমন্বিত মান বজায় থাকছে না।

ডা. লেলিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মতো বড় হাসপাতাল এবং অন্যান্য ছোট হাসপাতাল পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর নির্ধারণ জরুরি।

তিনি মনে করেন এ ধরনের মান নির্ধারণ পদ্ধতি নেই বলেই সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই ঘটনার পর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক বরাবর। যেখানে তিনি একটি তদারকি কমিটি প্রতিস্থাপনের বিষয়েও লিখেছেন।

এ বিষয়ে তিনি আলাপ-কে বলেন, রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রচুর অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তার মধ্যে খারাপ আচরণ করা, ঠিক মতো সার্ভিস না পাওয়া ইত্যাদি আছে। এজন্য অভিযোগ দেয়ার ব্যবস্থা সব হাসপাতালে রাখতে হবে।

আর এ জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সকল হাসপাতালগুলোকে একটি তদারকি কমিটি গঠনের বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেছেন। যা বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

“হঠাৎ হঠাৎ বের হবে বিল্ডিং কোড মানেনি, এমন অভিযোগ সামনে আসবে। তারপরে বের হবে সাফোকেশন হয়েছে তাই রোগী মারা গেছে। এগুলো যদি তদারকি কমিটি দেখতো তাহলে সমাধান হয়ে যেতো। এখানে সুবিধা হলো, অবহেলাজনিত কিছু ঘটলে যারা তদারকি কমিটিতে আছেন তাদের দায়ী কিংবা জবাবদিহিতার আওতায় আনা যেতো,” আলাপকে বলেন ইশরাত।

এছাড়াও আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় মনিরা জাহান মনে করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাগত আচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায়ও পর্যালোচনা করে দেখার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সম্ভবত রাষ্ট্রের নিজস্ব জবাবদিহিতা। যদি তদন্তে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান কাঠামোগত বা প্রশাসনিক ত্রুটিগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের পরও শনাক্ত বা প্রতিকার করা হয়নি, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা যেতে পারে।

মনিরার মতে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আছে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকারকে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ফলে এ ঘটনা কেবল একটি হাসপাতালের ব্যর্থতা নয়; এটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতাকেও সামনে আনে।

এছাড়াও ডা. লেলিন মনে করেন গত এক বছরে যদি নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ ঠিকমত হতো তাহলে যেসব ক্ষেত্রে মানের বা সেবার ব্যত্যয় ঘটছে সেটা বোঝা যেতো। এজন্য একটা পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্ট দরকার, যারা মান নিশ্চিতে কাজ করতে পারে।

ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বিষয়েও লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

তিনি মনে করেন একজন মানুষ হাসপাতালে যায় নিরাপদে থাকার জন্য। তারা মনে করেন হাসপাতালেই নিরাপত্তার সঙ্গে থাকতে পারবেন এবং চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এ ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে।  

ইশরাত আলাপকে বলেন, “সরকারকেও এখানে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ তারা হাসপাতালকে লাইসেন্স দিয়েছে। সুতরাং এই ঘটনায় পরিবারগুলোকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত।”

তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হলে ভবিষ্যতে অন্য হাসপাতালগুলোও সতর্ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

একই বিষয়ে মনিরা জাহান বলেন, বাংলাদেশে ভোক্তা-অধিকার আইনের আওতায় চিকিৎসাসেবা সম্পর্কিত অভিযোগ আনার নজির অতীতে আছে। আর তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দাখিলের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দেওয়ানি আদালতে অবহেলার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দাবি করাও সম্ভব।

আইন আছে, আইন নেই

মনিরা নাজমী জাহান আলাপকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর অধীনে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। যা লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের পথ খুলে দিতে পারে।

তবে এই অধ্যাদেশে নির্ধারিত শাস্তি বর্তমান সময়ের বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। এত বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কেবল এই আইনের ওপর নির্ভর করা কতটা যৌক্তিক সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন মনিরা জাহান।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন ২০২৩ খসড়া অবস্থায় আছে। এখনও সেটি পাস হয়নি। তবুও প্রচলিত আইনে বিচার সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইশরাত হাসান আলাপ-কে বলেন, এ বিষয়ে একটি ফৌজদারি মামলা ইনিশিয়েট হয়ে গেছে। একটি শিশুর বাবা দণ্ডবিধি ৩০৪-এর ‘এ’ ধারায় মামলা করেছেন। অর্থাৎ অবহেলাজনিত মৃত্যু। এটা এখন কোর্ট দেখবে যে তাদের অবহেলা ছিল কিনা, অবহেলার সাথে দায়ী কারা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ফৌজদারি মামলা চলবে।  

এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি কিনা এবং একইসঙ্গে স্বাস্থ্য বিষয়ক আইন প্রণয়ন করতে হবে কিনা এমন প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান মনে করেন বাংলাদেশে এখন এত আইন আছে যে নতুন করে আইনের প্রয়োজন নেই।

“আমাদের অলরেডি ১২০০’র মতো আইন আছে। আমাদের দণ্ডবিধিতে তো অবহেলা মৃত্যুর শাস্তি আছে। এখন সেই বিচার প্রক্রিয়া যদি সঠিক সময়ের মধ্যে করা যায় এবং শাস্তিটা নিশ্চিত করা যায় তাহলে আলাদা আইনের দরকার নেই। কোর্ট না বাড়িয়ে, বিচারক না বাড়িয়ে আপনি যদি খালি আইন করতেই থাকেন আর মামলা করতেই থাকেন, তাহলে এসব মামলার সুরাহা তো কখনো শেষ হবে না”, আলাপকে বলেন তিনি।

তার মতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইন্টারনালি গ্যাজেট প্রকাশ করতে পারে। তারা বিভিন্ন রুলস রেগুলেশনস নির্দেশিকা চাইলেই প্রকাশ করতে পারে। সেসবের মাধ্যমেও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

তবে ডা. লেলিন চৌধুরী স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইনের পক্ষে মত দেন। তিনি মনে করেন আইনে সকল পক্ষকে যুক্ত করতে হবে। যেন সবার অধিকার এখানে রক্ষা হয়।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে তিনটি পক্ষ যুক্ত। একটি হচ্ছে যিনি এবং যারা সেবা দেবেন। তার মধ্যে ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্টাফ রয়েছেন। দ্বিতীয় হচ্ছে যারা সেবা নেবেন রোগী এবং তার লোকজন আর তৃতীয় হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানটি সেবাদান করবে। তাদের ব্যবস্থাপনা। এখন একটি আইন দরকার, যেখানে তিনটি পক্ষের অধিকার এবং দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা থাকবে। যদি কোনো পক্ষ সে দায়িত্ব অবহেলা করেন, তাকে যেন ওই আইনের আওতায় আনা যায়।