নো ম্যানস ল্যান্ডের মানুষগুলো কি ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’

শূন্যরেখায় রোদ-বৃষ্টিতে আধডোবা ক্ষেতে শিশু, নারী, তরুণ, বৃদ্ধরা অনাহারে উদ্বেগ নিয়ে বসে আছে। আপাত দেশহীন, ভূমিহীন, ঘরহীন মানুষগুলো যেনো হয়ে উঠেছে কেবলই দুপেয়ে জীব। দুইটি দেশের ইউনিফর্মধারীরা বন্দুকের নল তাক করে আছে তাদের দিকে। এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন চলছে।

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন মা। ক্লান্তি অবসাদ নিয়ে কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে তার এক সন্তান। আরেক সন্তান কাঁধে মুখ গুজে আছে।

মা দুই সন্তানকে আগলে রেখেছেন। চেয়ে আছেন দূরে। একটি ঠিকানার আশায়, একটি দেশের আশায়।

দুই দিকের কড়া চাহনির মধ্যে এভাবে কেটেছে টানা ৬১ ঘণ্টা। তারপর এপার থেকে তাদের আর দেখা মেলেনি। খোঁজ নিয়েও অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তের এই দৃশ্য এখন মানচিত্রের প্রায় চারিদিকে।

সীমান্তের শূন্যরেখায় রোদ-বৃষ্টিতে আধডোবা ক্ষেতে শিশু, নারী, তরুণ, বৃদ্ধরা অনাহারে উদ্বেগ নিয়ে বসে আছে।

আপাত দেশহীন, ভূমিহীন, ঘরহীন মানুষগুলো যেনো হয়ে উঠেছে কেবলই দুপেয়ে জীব। দুইটি দেশের ইউনিফর্মধারীরা বন্দুকের নল তাক করে আছে তাদের দিকে।

এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন চলছে।

দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা সীমান্ত সমস্যা নিরসনে আলোচনার ৫৭তম আসরে বসেছেন। এদিকে জীবন আর পরিচয়ের অনিশ্চয়তা নিয়ে ‘পুশ-ইন’ আর ‘পুশ-ব্যাক’ শব্দবন্ধের রাজনীতি আর কূটনীতিতে নো-ম্যানস ল্যান্ডের মানুষগুলো যেনো ‘নো-ল্যান্ডস ম্যান’ বা রাষ্ট্রহীন মানুষ।

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী, শিশুসহ ১০জন মানুষ খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন ৬১ ঘণ্টা।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পুশ-ইন ফের আলোচনায়। ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কোথাও কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাচ্ছেন। খাবারহীন, পানীয়হীন, দিশেহারা মানুষগুলো অসহায়।

অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যাসহ নানা কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা সবসময়ই ছিলো। ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

অন্তবর্তীকালীন সময়ে সেই টানাপোড়েন সর্বোচ্চ সীমায় ওঠে। ২০২৫ সালের মে মাসেও পুশ-ইন নিয়ে সরগরম ছিলো ঢাকা-দিল্লি।

নির্বাচিত সরকারের সময় সেই টানাপোড়েন খানিকটা কমে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর পুশ-ইন ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত সীমান্ত।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে এসে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের আর পশ্চিমবঙ্গে থাকতে দেওয়া হবে না।

এরপর থেকেই সীমান্তে পুশ-ইনের অভিযোগ বাড়তে থাকে। এ নিয়ে সীমান্ত উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

এমনকি সীমান্ত থেকে বহু দূর-দূরান্তের শহর গুজরাট কিংবা দক্ষিণ ভারতীয় বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও সন্দেহভাজন হিসাবে অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। যাদের পাঠানো হচ্ছে সীমান্তে।

জুনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি সীমান্তে কয়েকশ মানুষকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি আর সীামান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কড়া নজরদারিতে তা সম্ভব হয়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলছে ‘অবৈধ’ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এ জন্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তালিকা দেওয়া হয়েছে ঢাকাকে।

কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রবিবার বলেছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ৮৩৬ জন ফেরতের অপেক্ষায় আছেন।

কবে, কোন সীমান্ত দিয়ে এবং কীভাবে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানাননি শুভেন্দু অধিকারী। তাদের পরিচয় নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও ভারত সরকার কিংবা রাজ্য সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার আগেই অনুপ্রবেশ, সীমান্ত, কাঁটাতার ইত্যকার বিষয় নিয়ে আলাপ শুরু করেছিলো।

দায়িত্ব নিয়েই বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য জমি দিয়েছে, যা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিলো।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন আর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা, দুয়ে মিলে এই পুশ-ইন সংকট।

আর রাজনীতি-কূটনীতির গ্যাঁড়াকলে তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বহুবার দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্তে পুশ-ইন প্রক্রিয়াকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

পুশ-ইন পুশ-ব্যাক কী

ভারতে কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া প্রবেশ করলে, কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দেশটির ‘দ্য ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’ এবং ‘পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৬৭’ অনুযায়ী মামলা হয়। দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে কাউকে আটক করার পর ভারতীয় আইন অনুযায়ী তাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার সম্পন্ন করতে হয়।

আইনি প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কোনো ব্যক্তিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী যখন জোর করে সীমান্তের বাইরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে সেটাই পুশ-ইন।

সীমান্ত পার হওয়ার সময়ই কেউ ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ‘ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো হয়। এটিকে সাধারণত ‘পুশ ব্যাক’ বলা হয়।

পুশ-ইন আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও মানবাধিকার আইন অনুযায়ী বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আন্তর্জাতিক আইনে ‘পুশ-ইন’ বা ‘পুশব্যাক’-এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই, তবে এটি সাধারণত ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ বা অ-প্রত্যর্পণ নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ৩৩(১) ধারা অনুযায়ী ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি প্রযোজ্য। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে পাঠানো যাবে না যেখানে তার প্রাণ বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।

এই নীতি অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত। পুশ-ইন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিদের কোনো আইনি মাধ্যম ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের এই মৌলিক নীতির পরিপন্থি।

বিশেষ করে, ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের প্রোটোকল ৪-এর ধারা ৪-অনুযায়ী ‘collective expulsion of aliens shall be prohibited’ তথা শরণার্থীদের সমষ্টিগত বহিষ্কার নিষিদ্ধ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বহুবার দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্তে পুশ-ইন প্রক্রিয়াকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিকে রাষ্ট্রবিহীন করে তোলার ঝুঁকি তৈরির কারণে তারা এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে আসছে।

২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছিলো, “ভারতের পুশব্যাক নীতি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং এতে মানুষ রাষ্ট্রবিহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।”

জাতিসংঘের অন্যতম মানবাধিকার সনদ ‘ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর)’-এর ৯ নাম্বার অনুচ্ছেদ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করে।

এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বা কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে বিনা কারণে বা বেআইনিভাবে আটকে রাখতে পারবে না।

আটক করলে কারণ জানাতে হবে এবং দ্রুত বিচারকের সামনে হাজির করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা বা জোর করে পুশ-ইন করা এই ধারার লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই ‘ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনস, ১৯৬৩ (ভিসিসিআর)’-এ সই করেছে।

এর ৩৬ নাম্বার অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হলে তাৎক্ষণিকভাবে আটককারী দেশকে ওই ব্যক্তির দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনকে জানাতে হবে।

পরিচয় নিশ্চিত হলে কূটনৈতিকভাবেই তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আছে। তা না করে জোর করে ফেরত পাঠানো বা সীমান্তে ঠেলে দেওয়া এই আন্তর্জাতিক সনদেরও পরিপন্থি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সাতশর বেশি মানুষ ঠেলে দেয়া হয়েছিলো। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকতো ছিলো বটে। কিন্তু তাদের মধ্যে রোহিঙ্গাও ছিলো।

এমনকি একাধিক রোহিঙ্গার কাছে ভারতে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে।

পুশ-ইন করা হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে এমনকি ছিলেন ভারতীয় নাগরিকও। পরে আবার আদালতের নির্দেশে ফেরতও নেওয়া হয়েছে।

চলতি জুনে যাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে তাদের কারোরই নাগরিকত্ব বা পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

আর পুশ-ইন করা হলে, তারা যদি বাংলাদেশি নাগরিকও হন, তবুও তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হয়, জেলে যেতে হয়। আবার সরকারকেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার বন্দোবস্ত করতে হয়।

ভারতের নয়া দিল্লিতে ৮ই জুন শুরু হওয়া বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন চলবে ১১ই জুন পর্যন্ত।

বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে কি সমাধান হবে

সোমবার রাতে দিল্লি পৌঁছেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের মহাপরিচালক প্রভীন কুমার।

মঙ্গলবার ও বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচি আছে দুই প্রতিনিধি দলের। এবারের আলোচনায় পুশ-ইন অনেকটা জায়গা দখলে রাখবে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবির একজন কর্মকর্তা।

এ ছাড়া সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করা, আটক করে নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হবে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মাদক, অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ বিভিন্ন অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধসহ আরও কিছু বিষয় আছে আলোচ্যসূচিতে।

বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি সরকার আর পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটিই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের প্রথম বৈঠক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও বিশেষ করে অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।’

রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন পুশ-ইন বন্ধে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক উত্তরণের যে চেষ্টা করছে, সেজন্য চলমান ‘অবৈধ পুশ ইন’ বন্ধে দিল্লিকে নজর দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, “অবৈধভাবে যারা থাকে, তাদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে।”

তবে প্রশ্ন হলো, রাজনীতি-কূটনীতির মারপ্যাঁচে, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নো ম্যানস ল্যান্ডে মানুষগুলো কি নো ল্যান্ডস ম্যান হয়েই থাকবে?