অং সান সু চির সাজা কমালো নতুন সরকার 

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

মিয়ানমারের কারাবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সাড়ে চার বছরের সাজা কমিয়েছে মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট  মিন অং হ্লাইং- এর নেতৃত্বাধীন সরকার।

শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল সু চির আইনজীবী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকার উৎখাতকারী নতুন প্রেসিডেন্টের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৮০ বছর বয়সী সু চি বিভিন্ন অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। তার সমর্থকদের দাবি, এসব অভিযোগ যার মধ্যে উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনি জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই আনা হয়েছিল। 

তার আইনজীবী জানান, মোট সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে, তবে অবশিষ্ট সময় তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে পারবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই নেত্রী দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি, এবং বর্তমানে তার অবস্থানও অজানা।

এ দিকে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দীর জন্য সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন। গত ছয় মাসে এটি তৃতীয়বারের মতো এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মিয়ানমারে সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে এ ধরনের ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, যিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং তার বাকি সাজাও কমানো হয়েছে।

তবে, তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালে  মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চি ও উইন মিন্টের গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর পর থেকে দেশটি ব্যাপক গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা এখনো চলছে।

গত ৩ এপ্রিল মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধীদের দমন করা হয় এবং তাদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। সমালোচক ও পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।