নিরাপত্তা শঙ্কায় বাগেরহাটের জেলারের জিডি

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার শঙ্কায় থানায় সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মোঃ আল মামুন। ২৯এ জানুয়ারি ২০২৬ বাগেরহাট সদর থানায় এই জিডি করেন তিনি।

জিডিতে তিনি বিভিন্ন অচেনা নাম্বার থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট কারাগারে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কারাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

বিভিন্ন সময়ে কারারক্ষী ও বন্দীদের সাথে অশোভন আচরণ এবং হুমকির অভিযোগে তাকে শাস্তিমূলক সেলে রাখা হয়েছিল। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

২৮এ জানুয়ারি রাতে অজ্ঞাতনামা বিভিন্ন নম্বর থেকে জেলারের ব্যক্তিগত মোবাইলে কল করে তাকে ও তার পরিবারকে গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে এই জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলেন জামিনে মুক্তি পাওয়া সাদ্দাম। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাগেরহাটে পৌঁছে স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই অভিযোগ করেন।

এক ভিডিওতে সাদ্দামকে বলতে শোনা যায়, “বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলো যে যদি বাগেরহাটে থাকতে হয় ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।”

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মোঃ আল মামুন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এমন ঘটনা ঘটলে তিনি যশোরে যখন বন্দী, তখনই ডিআইজি বা কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করতে পারতেন।” জেলার বলেন, “কোন হীন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি এটা (ঘুষ দাবির অভিযোগ) করেছেন।”

সাদ্দামের ‘আচরণের জন্য’ তাকে যশোরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলার আল মামুন। জেলার চাইলেই কাউকে ট্রান্সফার করতে পারে না বলে জানান তিনি।

কারা নথির তথ্য দিয়ে জেলার জানান, গত বছর এপ্রিলে এক কারারক্ষীকে হুমকি এবং জুলাই মাসে এক বন্দীকে মারধর করার প্রমাণ সাদ্দামের বিরুদ্ধে রয়েছে।

২৩এ জানুয়ারি ২০২৬ সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন সাদ্দাম কারাগারে ছিলেন। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় কারাগারের ফটকেই স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান তিনি।

ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার সমালোচনা করেছিল।