দেড় যুগ পর বাংলাদেশে ফিরে প্রথম তিনদিন কী কী করবেন এবং কোথায় কোথায় যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান - দলের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়েছে।
লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমানের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
এরপর তিনদিনে গণ অভ্যর্থনায় যোগদান, অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া, বাবা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করা এবং ব্যক্তিগত কাজের সূচি রয়েছে তারেক রহমানের।
সালাহউদ্দিন আহমদ, “তিনি (তারেক রহমান) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ মা, বাংলাদেশের অভিভাবক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন। যেতে চান তার পিতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার কবর জিয়ারতে। যেতে চান ভাইয়ের কবরের পাশে।”
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান সরাসরি যোগ দেবেন ‘৩০০ ফিট’ বলে পরিচিত সড়কের গণঅভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে।
“সেই আয়োজনে তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনও বক্তা থাকছেন না,” বলেন সালাহউদ্দিন।
তিনি জানান, অভ্যর্থনা শেষে মাকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন এবং সেখান থেকে বনানীর কাকলি হয়ে বাসভবনে পৌঁছাবেন।
ঢাকায় ফিরে তারেক রহমান থাকবেন গুলশান অ্যাভিনিউর বাড়িতে। পাশেই ভাড়া বাসা ফিরোজায় থাকেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন তারেক রহমান।
“২৭ তারিখ (শনিবার) তিনি এনআইডি কার্ড এবং ভোটার হওয়ার সমস্ত কাজগুলো করবেন,” বলেন তিনি। এরপর নিহত শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন বলেও জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিএনপির এই নেতা বলেছেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে ইতিহাসের অন্যতম বড় জনসমাগম হবে।
কর্মসূচি ঘিরে জনদুর্ভোগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেনও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
“জনাব তারেক রহমান এমন কোনও কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না, যা জনদুর্ভোগের কারণ সৃষ্টি হতে পারে।”
তারেক রহমান ফেরার দিন প্রবাসী নেতাকর্মীদের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আসতে যে নিষেধ করেছেন, সে প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন।
“বাংলাদেশেও আমাদের কোনও কর্মসূচি যেন জনদুর্ভোগের কারণ সৃষ্টি না করে, তারেক রহমান এমন নির্দেশনা দিয়েছেন,” বলেন তিনি।
তবে এই নির্দেশ ‘একশ ভাগ প্রতিপালন করতে পারিনি’ বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
“আমাদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও এই আয়োজনে যতটুকু জনদুর্ভোগ হবে, সেজন্য আমরা আন্তরিকভাবে জাতির কাছে, সকলের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”



